মদিনা হলো ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ স্থান। ইসলামের সূচনা লগ্ন থেকে এ শহরে সহিহ ইসলামের চর্চা হচ্ছে। বর্তমানে দেশ-বিদেশ থেকে জ্ঞানপিপাসুরা মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিভিন্ন দেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই মদিনাতে আল-মালিক যদি কাউকে আসার সুযোগ দেন, তাহলে তারও নিশ্চয় ফেরার আগে মদিনা থেকে নতুন কিছু জেনে নেবার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিৎ হবে না।

মসজিদে নববীতে প্রতিদিন পুরুষদের অংশে আসরের পর আলেমগণ একাধিক ভাষায় ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে ‘দারস’ অর্থাৎ আলোচনা করে থাকেন। মহিলাদের অংশে দশটা-এগারোটার দিকে যুহরের আগে দারস হয়, মহিলা আলেমাগণ সেখানে বক্তব্য রাখেন। নানা কারণে আমার একদিনও মহিলাদের আলোচনায় অংশ নেয়া হয়ে ওঠেনি, কিন্তু আমার বর সাফির সাহেব প্রতিদিন বিকালে ‘দারস’ শোনার চেষ্টা করতো এবং ইসলামের অনেক সুন্দর দিক সম্পর্কে নতুনভাবে শিখতো।

এই দারস সমূহে প্রচলিত বিভিন্ন বিদআত থেকে শুরু করে হাজ্জ/উমরাহ্‌র সঠিক নিয়ম-কানুন, ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের প্রয়োগ ইত্যাদি সম্পর্কে আলেমগণ কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে অত্যন্ত সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতেন। এছাড়া শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতেন। আর আমি উন্মুখ হয়ে বসে থাকতাম দারস শেষ হওয়া পর্যন্ত। দারস শেষে সাফির সাহেব খুব উৎসাহের সাথেই সদ্যার্জিত জ্ঞান আমার সাথে ভাগ করে নিতেন।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

এভাবে মদিনার দিনগুলো আমাদের জন্য স্বর্ণালী দিনে পরিণত হলো। আজন্ম যে ধর্ম সবাইকে পালন করতে দেখেছি, সেই একই ধর্ম যেন নিত্যদিন নতুন নতুন রূপ-রস নিয়ে আমাদের সামনে উন্মোচিত হতে লাগলো। ধীরে ধীরে দেখা গেলো, মূল সমস্যার সূত্রপাত হয় ধর্মকে কোনো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ভাবলে। ধর্ম হলো প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে শাণিত করার বিষয়। এক্ষেত্রে কিছুটা পরিশ্রম আবশ্যক। পূর্বপুরুষদের যা করতে দেখেছি, তার অন্ধের মতো অনুকরণ করার মাঝে বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং বোধহীনতা প্রকাশ পায়। শয়তান মানুষকে চোখ বন্ধ করে রাখতে খুব সাহায্য করে। এক্ষেত্রে শয়তান তার অস্ত্র হিসেবে সামাজিক সংস্কার, চক্ষুলজ্জা (পাছে লোকে কী বলে), নিজের বিচার বিবেচনার প্রতি অনাস্থা এবং সর্বোপরি আমাদের আলস্যকে ব্যবহার করে।

মক্কার মুশরিকরাও কিন্তু হাজ্জ করতো, আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করতো। তারপরও তারা এত শত বছর পরও আমাদের কাছে ‘মুশরিক’ নামে কেন পরিচিত? কারণ তারা আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করার পর আল্লাহ্‌র সাথে শির্ক করতো।

ঠিক যেমন আমাদের দেশে মাজারের ছড়াছড়ি। অনেকে মুসলিম হবার পরও অজ্ঞানতাবশত বা অন্ধবিশ্বাসের কারণে এই মাজারে শুয়ে থাকা মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কল্যাণ কামনা করে। যে ব্যক্তি নিজের মৃত্যু ঠেকাতে পারেনি, সে কী করে অন্যের উপকার করবে, তা ভাববার বিষয়। যেখানে আল্লাহ্‌ কঠিনভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন উনি ছাড়া আর কারো সম্মুখে মাথা নত না করতে, সেখানে মাজারের সামনে মানুষের সিজদার ঢল পড়ে যায় (আস্তাগফিরুল্লাহ)।

যোগ্য আলিমের সাহচর্যে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন সাধারণ মানুষদের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু ভণ্ড পীর-ফকিরের মুরিদ হয়ে লোকে নানা রকম তরিকা নেয়, এই আশায় যে পীরের ল্যাজ ধরে মুরিদরাও জান্নাতে চলে যাবে। তারা আসলে মনে মনে ধর্মের মাঝে শর্টকাট খোঁজে, নিজেরা কষ্ট করে পড়াশোনা করার বদলে ভাবে পীর সাহেব যা বলছে তা-ই করি, ভুল হলে পীরের দোষ। আবার কেউ ভাবে, লোকে যাকে এত বড় পীর বলে, তার চেয়ে কি নিজে ভালো বুঝবো? এমনতর নানাবিধ যুক্তিতে তারা অন্ধভাবে পীরের অনুসরণ করতে থাকে। এইসব স্বঘোষিত পীরগণ নিজেদের সুবিধার্থে অনেক বানোয়াট ও জাল হাদিস দিয়ে ইসলামের মূল উদ্দেশ্য থেকে তাদের অনুগামীদের বহুদূরে নিয়ে যায়।

কিন্তু আসল ইসলাম অতি সহজ, সুন্দর এবং স্বভাব ধর্ম। মানসিকভাবে যেসব কাজ করে মানুষ প্রশান্তি অর্জন করবে, সুন্দরভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারবে, সেভাবে চলার কথাই আমাদের ধর্মে বলা আছে। শুধু প্রয়োজন আল্লাহ্‌র নিয়মের সামনে পূর্ণ আত্মসমর্পণ।

বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছে নানা ঘাত প্রতিঘাত পার হয়ে। আরব দেশ থেকে পারস্য, হিন্দুস্তান ইত্যাদি দেশ হয়ে অবশেষে এই বাংলায় ইসলামের পদার্পণ ঘটেছে। ফলস্বরূপ কালের প্রবাহে ও বিভিন্ন দেশ অতিক্রম করে আসার কারণে আমাদের ধর্ম অন্যান্য অঞ্চলের কৃষ্টি-কালচার দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ইসলামের সাথে সেইসব অঞ্চলের অপ-সংস্কৃতিগুলোর ইসলামী-করণ হয়েছে। অর্থাৎ সেই সংস্কৃতি ও আচারব্যবস্থা একই রয়ে গেছে, শুধু ইসলামী নাম গ্রহণ করেছে। এবং যুগে যুগে আমাদের অঞ্চলের বাসিন্দাগণ ধর্মের সাথে সামাজিক রীতি-নীতিকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেছে যে, এখন ধর্মই যেন সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। অথচ এখানে অপ-সংস্কৃতির পরিবর্তনই কাম্য ছিলো।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কুলখানি ও চল্লিশার মিলাদ মাহফিলের কথা। হিন্দু ধর্মের চৌঠা, ব্রাহ্মণ খাওয়ানোর সাথে খুব একটা পার্থক্য কি আছে এসব অনুষ্ঠানে? রাসূলুল্লাহ ﷺ উনার জীবনে এমন কোনো অনুষ্ঠান কখনো করেননি। এখানে মিলাদ হলো পারস্য দেশের কালচার আর কুলখানি ও চল্লিশা হলো হিন্দু ধর্মের কিছু রীতি-নীতির প্রচ্ছন্ন অনুকরণ।

আজকাল দেখি বিভিন্ন বিশেষ রজনীতে মানুষ ঘরের সামনে মোমবাতি ও নানারকম আলোর প্রজ্বলন করে, কারণ সেই রাতকে তারা সৌভাগ্যের রজনী মনে করে। ঠিক যেমনভাবে মুশরিকরা দীপাবলির রাতে প্রদীপ দিয়ে ঘর আলোকিত করে, যেন সৌভাগ্যের দেবী তাদের ঘরে আসে। (নাউযুবিল্লাহ)

উপরোক্ত বিদআত করতে নিষেধ করা হলে লোকে বলে, “আমরা তো আল্লাহ্‌কেই খুশি করার জন্য এসব করছি, সুতরাং সমস্যা কোথায়?” তারা বোঝে না, ইবাদত হলো একটি পানি পূর্ণ পাত্রের ন্যায়। এখানে এক ফোঁটা বিদআত (ইবাদতে নব সংযোজন) প্রবেশ করানোর অর্থ, কিছুটা সহিহ ইবাদাত বের হয়ে পড়বে এবং একে ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ যে ইবাদাত শেখাননি, সে ইবাদাত করার অর্থ, আমরা আল্লাহর রাসূলের চেয়ে অধিক জানি এবং তিনি তাঁর নবুয়তের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননাই!

মুহাম্মাদ ﷺ বলে গেছেন, “নিশ্চয় সর্বোত্তম বাণী আল্লাহ্‌র কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।”

[সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৫৩৫ ও সুনান আন নাসায়ি, হাদিস নং ১৫৬০]

বিদআত ছাড়াও আমার আরো একটি ব্যাপার বোধগম্য হয় না, লোকে মাযহাব নিয়ে কেন এত বাড়াবাড়ি করে? যারা মাজহাব নিয়ে অধিক মাতামাতি করে তাদের যদি এই চার মাযহাবের ইমামগণ প্রসঙ্গে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়, তখন অধিকাংশ মানুষ ঠিকমতোন জবাব দিতে পারবে না। কারণ তারা তাদের বাবা-দাদা অর্থাৎ, পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ করছে। নিজেরা মাযহাবগুলোর ভেতর বিদ্যমান পার্থক্যগুলো স্বচক্ষে পড়েও দেখেনাই। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিয়ি এবং ইমাম আবু হানিফা প্রত্যেকেই ছিলেন ইসলামের সেবায় নিয়োজিত পরহেজগার বান্দা। উনাদের দেখানো নিয়ম কানুনের ভেতর অমিল খুব অল্প ও মিলের সংখ্যা বেশি। উনারা সকলে common একটি কথা বলে গিয়েছিলেন, তা হলো কখনো যদি তাঁদের শিক্ষার কোনো বিষয় বা নিয়ম রাসুল ﷺ এর রেখে যাওয়া শিক্ষার পরিপন্থী হয়, অমিল দেখা দেয়, তাহলে সে নিয়ম সাথে সাথে বাতিল হয়ে যাবে।

প্রাচীন যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিলো না, তথ্য সংগ্রহ ছিলো অধিকতর কঠিন। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মাঝেও এই ইমামগণ তাঁদের সারা জীবন ব্যয় করে নিরলসভাবে চেষ্টা করেছেন সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে নির্ভুল ইসলামের প্রচার করতে। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন হয়েছে, হয়তোবা একজন ইমাম কোনো তথ্য তখন হাতে পাননি, যা কিনা অন্য ইমাম পেয়ে গেছেন।

আবার এমন অনেক সময় হয়েছে, মহানবী ﷺ একই ইবাদত বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে করেছেন, একেকজন ইমাম একেক রকম নিয়ম জেনেছেন এবং শিখিয়েছেন, তাই বলে অন্য নিয়মটি কিন্তু ভুল প্রমাণিত হয় না। যেমন বিতর এর সালাত নবীজী ﷺ নানাভাবে পড়েছেন। এই সবরকমের যেকোনো একভাবে পড়লেই অথবা একেক সময় একেকভাবে পড়লেও, সালাত সঠিক হবে। তাই মাযহাব নিয়ে কট্টরতা না করা বাঞ্ছনীয়।

মাজারপূজা, চল্লিশা, কুলখানি, মিলাদ মাহফিল অথবা এদেশে প্রচলিত অন্য যেকোনো শির্ক-বিদআত নিয়ে নির্ভুল দলিল দেখিয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে বাংলাদেশে তাদেরকে ওহাবি বলে উড়িয়ে দেয়া হবে। উচ্চকণ্ঠে লোকে চিৎকার করে উঠবে, “আমাদের বাপ-দাদারা কি ভুল ছিলো? উনারা কি আমাদের চেয়ে কম জানতেন?” মক্কার মুশরিকরা অবিকল এভাবেই প্রতিবাদ করে উঠতো ইসলামের অমিয় বাণীর।

মহান আল্লাহ্‌-পাক কুরআনে বলেছেন,

যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ্‌র নাযিল-কৃত বিধান এবং রাসূলের দিকে এসো, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তা-ই যথেষ্ট যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ-দাদারা কোনো জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত-প্রাপ্ত না হয়, তবুও কি তারা তা-ই করবে? [সূরাহ আল-মায়িদাহ (৫):১০৪]

তাদেরকে যখন বলা হয়, আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, “বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করবো।” শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত দেয়, তবুও কি? [সূরাহ লুকমান (৩১): ২১]

সে বলতো, তোমরা তোমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছো, আমি যদি তদপেক্ষা উত্তম বিষয় নিয়ে তোমাদের কাছে এসে থাকি, তবুও কি তোমরা তা-ই বলবে? তারা বলতো, তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছো, তা আমরা মানবো না।” [সূরাহ আয-যুখরুফ (৪৩): ২৪]

এই দলসমূহের ভেতর মাজার পূজারিরা সবচাইতে ভয়ঙ্কর। মক্কার কুরাইশদের মতো তারা আল্লাহ্‌কে বিশ্বাস করে আবার অন্যের থেকেও কল্যাণ কামনা করে। অনেকে তো আবার তাবিজ-কবজ ইত্যাদি দিয়ে ইসলামকে তন্ত্র-মন্ত্র ও জাদু-টোনার ধর্ম বানিয়ে ফেলেছে। চট্টগ্রামে তো প্রতি কিলোমিটারে বোধ হয় একটি করে মাজার পাওয়া যাবে, যাতে কবরের ওপর ফুল ছড়িয়ে, জরি চুমকির চাদর দিয়ে কবরের সম্মান করতে গিয়ে আদতে চরম অসম্মান করা হয়। সেখানে আবার কিছুদিন পরপর ওরস নামের অনুষ্ঠান হয়, যেখানে মাইকে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে ওয়াজ করতে গিয়ে শব্দদূষণের চূড়ান্ত করে এলাকাবাসীর জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলে তারা।

এখন এই মাজার পূজারিদের যদি মসজিদে নববীর পাঠাগারের বই পড়ানো হয় অথবা সেখানের দারসের বয়ান শোনানো হয়, তাহলে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ লেগে যাওয়া বিচিত্র হবে না। অথচ ছোট একটি ব্যাপার আমলে আনলেই তো হয়, যে দেশে ইসলামের সূচনা হয়েছে, সে দেশে নিশ্চয় ইসলামের সঠিক নিয়মের অপরিবর্তনীয় থাকার সম্ভাবনা বেশি। আর আমাদের এত দূর দেশে এই ধর্ম আসার পথে অন্যান্য সংস্কৃতির প্রভাবে কিছুটা পরিবর্ধিত ও পরিবর্তিত তো হতেই পারে।

এ প্রসঙ্গে আমার ছেলেবেলার একটি খেলার কথা মনে পড়ছে, সে খেলায় আমরা কয়েকজন গোল হয়ে বসতাম। যেকোনো একজন তার পাশের জনের কানে কানে কোনো একটি শব্দ বলতো। তারপর সেই শব্দ প্রত্যেকে তার পাশের জনের কানে ফিসফিস করে বলতো। এভাবে শব্দটি নানা কান ঘুরে যখন প্রথম জনের কাছে ফেরত আসতো, তখন প্রায় সময়ই দেখা যেতো প্রথম জনের উচ্চারিত কথাটি এত মুখ ঘুরে এসে সম্পূর্ণ অন্য শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে!! ইসলামের অনেক নিয়ম-কানুনের ক্ষেত্রেও ঠিক এই ঘটনাটি ঘটেছে! দেশ বিদেশ ভ্রমণ করে আমাদের হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে বেশ কিছু নব সংযোজন ও বিয়োজন ঘটেছে।

তাই যখন আমাদের হাতে সঠিক তথ্য উপযুক্ত দলিল সহকারে আসবে, তখন আমাদের কি উচিৎ হবে মক্কার মুশরিকদের মতো করে পূর্ব-পুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যের সম্মান করতে গিয়ে আত্মাভিমান ও অহংকারবশত আসল ইসলামী সৌন্দর্যের অবমাননা করা? ঠিক যেমন ইসলাম আগমনের পর মক্কার অনেকে জানতো ইসলাম সত্যি ধর্ম, কিন্তু অহংকারবশত ইসলামকে তারা গ্রহণ করতো না। আমরাও যদি তাদের মতো অহংকার করে সত্যবিমুখ হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের সাথে তো তাদের আর কোনো পার্থক্যই রইলো না!

মহানবী ﷺ এর শহরে আসাটা যেন আমাদের জন্য ছিলো এক শিক্ষা সফর। ইসলামের অনন্য সৌন্দর্যের সাথে আমরা এখানে নতুন করে পরিচিত হয়েছি।


আগামী পর্ব- (রাসূল ﷺ এর কবর যিয়ারত)

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

দুই বছর মেয়াদী অনলাইন ভিত্তিক আরবি ভাষা শিক্ষা প্রোগ্রাম IIRT Arabic Intensive
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.