এক যিলহাজ্জ মাস হিজরি সনের সমাপনী মাস। এ মাসেই পবিত্র হাজ্জব্রত পালন করতে হয়। হাজ্জের মূল কার্যাবলী শুরু হয় যিলহাজ্জের আট তারিখ থেকে, সে অর্থে আজ হাজ্জের প্রথম দিন। এবং শেষ হয় যিলহাজ্জ মাসের ১২/১৩ তারিখ। এরপর নিজ দেশে ফেরত যাবার আগে সকলকে বিদায়ী তওয়াফ করে নিতে হয়। রাসুল ﷺ তাঁর সমগ্র জীবনে মাত্র একবার হাজ্জ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, সে হাজ্জ বিদায়ী হাজ্জ নামে পরিচিত।

আজকের দিনে তিনি মিনাতে এসেছিলেন ও এখানে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কসর (সংক্ষেপ) করে আদায় করেছিলেন। কিন্তু অনেকে মিনাতে এসে পুরো সালাত পড়েন ও কসর পড়তে চান না। হতে পারে এ বিষয়ে সহীহ তথ্য জানার সৌভাগ্য তাঁদের হয়নি। আল্লাহ্‌ এ বিষয়ে ছাড় দিয়েছেন এবং যাকে আমাদের আদর্শস্বরূপ পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে, সেই রসুলুল্লাহকে ﷺ দিয়ে রাহমানুর রাহীম এই বিশেষ ব্যবস্থা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, তখন আমরা নিশ্চয় আল্লাহ্‌র নবীর চেয়ে ইবাদাত বন্দেগীতে সেরা হতে পারবো না। তাই সে চেষ্টা করাও উচিৎ নয়। বরং উনি আমাদের যেভাবে দেখিয়ে গেছেন, সেভাবে ইবাদাত করলেই তা আল্লাহ্‌র নিকট অধিকতর পছন্দনীয় হবে।

IIRT Arabic Intensive

মিনাতে আট তারিখ যুহর থেকে শুরু করে নয় তারিখ ফজর পর্যন্ত, মোট পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কসর করে পড়ার পর আরাফাতের ময়দানে রওনা হতে হয় এবং সেখানে যুহর ও আসর একত্রে আদায় করতে হয়। ঘণ্টা কয়েক গড়িয়ে নেবার পর নাস্তা সেরে নিলাম। মোয়াল্লেমের তরফ থেকে সবার জন্য বাক্সে করে নাস্তা দেয়া হয়েছে। বাক্সে শুকনো খাবার ছিলো। আমাদের অনেকে আবার চিড়া ভিজিয়ে খেয়েছে।

দুই তাঁবুর শহর নামে পরিচিত মিনা উপত্যকা প্রায় বিশ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত ও বিভিন্ন আলাদা আলাদা zone বা অংশে বিভক্ত। প্রতিটি zone এ অনেক ক্যাম্প এবং বহু শাখা-প্রশাখা, গলি-উপগলি আছে। এখানে এক লাখের অধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু রয়েছে। প্রাচীনকালে হাজীগণ নিজেদের তাঁবু নিজেরা বয়ে নিয়ে আসতেন। তাঁদের সুবিধার্থে সৌদি সরকার মিনাতে স্থায়ীভাবে সুতি কাপড়ের তাঁবু নির্মাণ করে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁবুতে আগুন লেগে প্রায় সাড়ে তিনশ হাজী নিহত হন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার নতুন করে অগ্নি নিরোধক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা তাঁবু তৈরি করে।

সারাবছর জনমানব বিবর্জিত এই তাঁবুর শহর হাজ্জের সময়ে লাখ লাখ মানুষের আগমনে প্রাণ ফিরে পায়। আজ থেকে শুরু করে হাজ্জের দিনগুলোতে প্রায় বিশ লাখ হাজী মিনাতে অবস্থান করবেন। এখানে প্রত্যেক ক্যাম্পের সাথে রয়েছে একটি রান্নাঘর, কিছু শৌচাগার ও ওযুখানা। আমাদের ক্যাম্পে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান হতে আগত মুসল্লিরা অবস্থান করছেন। মিনায় অবিকল এক চেহারার লক্ষাধিক সফেদ তাঁবুর রাজ্যে হারিয়ে যাবার মতো সহজ ব্যাপার আর কিছু নেই। সব তাঁবুর সামনে একটি নাম্বার ঝোলানো থাকে এবং হাজীদের একটি ব্যাজ/গলায় ঝোলানোর কার্ড দেওয়া হয়, যেখানে ক্যাম্প, গলি ও তাঁবুর নাম্বার লেখা থাকে। তাই এই কার্ড গলায় না ঝুলিয়ে তাঁবু থেকে বের হবার মতো বোকামি করা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

আমাদের তাঁবুতে পঞ্চাশ জন একত্রে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাঁচটি কাতারে পাশাপাশি লাগানো দশটি বিছানা। এক কাতার থেকে অন্য কাতারে দূরত্ব এক হাত হবে। এখানে বিছানার অর্থ হলো তিন থেকে চার ইঞ্চি পুরু ফোম, এর প্রস্থ সিঙ্গেল বেডের চেয়ে কিছুটা কম। ঘুমের মাঝে গড়ানি দিলে পাশের জনের কোলে উঠে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিছানার সাথে একটি চাদর ও মাথার তলে দেবার ছোট একটি বালিশ রয়েছে। মাথার কাছে সবার ব্যাগ, পায়ের কাছে যার যার জুতা, স্যান্ডেল।

উপরে তাকিয়ে দেখলাম তাঁবুর ছাদের দু ধারে দুটো এসি রয়েছে, যার একটি ঠিক মতো কাজ করছে না। আমার বিছানা সেই নষ্ট এসির নিচে। তাঁবু থেকে বের হলে মরুর উষ্ণতার আঁচ পাওয়া যায়, কিন্তু তাঁবুর ভেতর এসি কাজ না করলেও সমস্যা হচ্ছে না। কাপড়ের দেয়ালে হেলান দিলে পাশের তাঁবুর এসির হাওয়া এসে গায়ে লাগছে। তাঁবুতে এত ঘনবসতি হবার পরও কারো মাঝে কোনো অসন্তোষ দেখা গেলো না। আরাম কেদারায় শুয়ে শুয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর জন্য নিশ্চয় কেউ এখানে আসেনি। বরং আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার জন্য কষ্ট স্বীকারের মানসিকতা নিয়ে সবাই এখানে এসেছে। গত রাতের অভিজ্ঞতার পর আজ থেকে আশা করি সবাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন।

তিন কিন্তু ডাক্তার সাহেবের অমিয় বাণী বারবার সত্য প্রমাণিত হতে লাগলো। অর্থাৎ “মিনায় সকলের আসল চেহারা দেখা যায়” এই কথা যে উনি মিছেমিছি বলেননি, তা ভালোই বোঝা গেলো। থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ না থাকলেও যখন দুপুর ও রাতের খাবার দেওয়া হলো, তখন অনেকের মেজাজ আবার খারাপ হওয়া শুরু হলো। খাবার হিসেবে কোনো বেলায় মোরগ পোলাও, আবার কোনো বেলায় গরুর তেহারি দিলো আমাদের। খাবারের আইটেমের নাম মনোহর হলেও সেই খাবারে স্বাদ/গন্ধ, পর্যাপ্ত তেলমশলা কিছুই ছিলো না। ইহরামরত থাকলে খাবারে সুগন্ধি ব্যবহার করা যায় না (ঘি/কেওড়া ইত্যাদি) এটা মানা গেলো, কিন্তু গোস্ত খেতে তো কোন নিষেধ নেই। অথচ ভাতের সাথে দেওয়া বামন আকৃতির গোস্তের টুকরোগুলো দেখার মতো ছিলো।

আমি বসে বসে অন্যদের কাণ্ড-কারখানা দেখতাম অবাক হয়ে। অনেকেই চুপচাপ খেয়ে নিতেন, আবার কিছু মানুষ গজরাতে গজরাতে খেতেন। একজন দেখলাম খাবারের এই ব্যাপারটাতে চরম অপমানিত বোধ করলেন। রান্না ঘরে গিয়ে একগাদা অভিযোগ করতে লাগলেন। অভিযোগ বাণীর মূল বক্তব্য ছিলো অনেকটা এরূপ, “আমরা কি ভিক্ষুক না কি? আমরা হাজী। আপনারা কী করে আমাদের এমন খানা দিচ্ছেন??” উনার এই বিশাল স্টেটমেন্টের পরও খাবারের অবস্থা যা ছিলো, তা-ই রয়ে গেলো।

এক মহিলাকে দেখলাম দারুণ বুদ্ধিমান। হয়তো এমন খাবার দেওয়া হবে আগে থেকেই জানতেন, তাই বুদ্ধি করে দেশে থেকে লবণ ও শুকনো মরিচের গুঁড়ো নিয়ে এসেছিলেন। প্রায়ই দেখা যেত, আমরা কাঙ্গালের মতো মহিলার থেকে লবণ- রিচ নিতে হামলে পড়তাম।

এখানে একটা কথা বলে রাখি। মানুষের প্রতিক্রিয়া যতটা তীব্র ছিলো, খাবার কিন্তু আসলে অতটা খারাপ ছিলো না। ভেবে দেখলাম, খাবার নিয়ে এত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ বের করা যায়।

এক) অনেকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না অথবা করতে চান না। কিংবা জানেনই না ইহরাম অবস্থায় শান্ত সমাহিত ব্যবহারের অনুশীলন করতে হয়, যেন বাকি জীবন নিজেকে নিয়ন্ত্রণের এ শিক্ষা কাজে লাগাতে পারেন।

দুই) কিছু মানুষ অভিযোগ করতে পারার মাধ্যমে দেখাতে চান যে, তিনি যে-সে পরিবার থেকে আসেননি। তাঁরা বড়ই উচ্চ জাতের মানুষ। (এমন ব্যবহার এরা নিজের অজান্তে করে নাকি জেনে বুঝে করে, জানি না।)

তিন) আর কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁরা ভীষণ অনুকরণ প্রিয়। অন্যেরা যেখানে অভিযোগ করছে, সেখানে চুপচাপ বসে থাকলে পাছে আবার জাত চলে যায়, তাই এই শ্রেণীর লোকেরা অপরের সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলে। তাল মেলানোর বিষয়টা কতটা যুক্তিপূর্ণ, এসব সাত পাঁচ তারা আর ভেবে দেখে না।

এখানে আমরা রাজকীয় খাবার খেতে নিশ্চয় আসিনি। বরং রাজকীয় জীবন ছেড়ে হাজ্জের এই কয়েকটা দিন দরিদ্ররা কেমন জীবন যাপন করে, তার ওপরও একটা ধারণা নিতে এসেছি। আল্লাহ্‌ অহেতুক তো ধনীদের উপর হাজ্জ ফরয করেনাই। আমরা হাজ্জের হাতে গোনা কয়েকটা দিন যে অল্প বিস্তর কষ্টের (আমি এসবকে কষ্টের বদলে অচেনা অভিজ্ঞতা বলে আখ্যায়িত করতে চাই) মুখোমুখি হবো, দরিদ্ররা সারাজীবন এরচেয়ে বহুগুণ বেশি কষ্টে থাকে।

কবুল হাজ্জের মাধ্যমে পাপমুক্তির অভিপ্রায়ে আমরা এত দূর ছুটে আসি। হাজ্জ শুধু অল্প কিছুদিনের নিয়ম পালনেই সীমাবদ্ধ নয়। হাজ্জের প্রতি পদে আল্লাহ্‌ বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে থাকেন, এই পরীক্ষা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি জীবন কাটানোর ভেতর রয়েছে আসল সার্থকতা। কারণ কবুল হাজ্জের লক্ষণ হলো, হাজ্জের পর জীবনে কোনো না কোনো ভালো পরিবর্তন আসবে।

চার আজ সন্ধ্যায় আমরা আরাফাতের জন্য বের হয়ে হয়ে যাবো। আগামীকাল সকালে বিশ লক্ষ মানুষ এক সাথে রওনা হলে রাস্তায় অধিক যানজট ও ভীড়ের কারণে যেন হুজ্জাজদের কষ্ট না হয়, তাই আজ রাত থেকে দলে দলে লোকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। রওনা হবার আগে সবাই ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আমাদের ক্যাম্পের বাথরুমের তুলনায় জামারাতের রাস্তার বাথরুম বেশি পরিচ্ছন্ন ছিলো। এ বছর জামারাতে পাথর মারতে যাবার রাস্তায় কয়েক মাইল জুড়ে সারি সারি নতুন ওযুখানা, গোসলখানা ও শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে। সবাই এ খবর এখনো জানে না, তাই সবসময় এসব বেশ ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন থাকে।

সরকারি হাজ্জ প্যাকেজে যাদের সাথে এসেছি, আজ রাতে আমি আর সাফির তাদের থেকে আলাদা হয়ে যাবো। আরাফাতের ময়দানে আমরা বাংলাদেশ নেভি থেকে হাজ্জ করতে এসেছেন, এমন কিছু অফিসারদের সাথে থাকবো। যেখানে শামছু ভাইও থাকবেন, যিনি হাজ্জের দিন আমাদেরকে হুইল চেয়ার পুশ করতে সাহায্য করবেন বলেছেন। ঈশার সালাতের পর আমরা নেভির গ্রুপের সাথে যোগ দিলাম।

আমরা সবাই প্রথম মনোরেল স্টেশনে যাবো, সেখান থেকে ট্রেনে করে আরাফাতের ময়দানে যাবো। স্টেশন আমাদের তাঁবু থেকে মাইলখানেক দূরে। সাফির ও একজন অশীতিপর বৃদ্ধ ভদ্রলোক দুটো হুইল চেয়ারে। তারা দলের সামনে রইলো, আর আমরা পেছন পেছন হাঁটতে লাগলাম।

শামছু ভাই এবং সম্ভবত বৃদ্ধ লোকটির ছেলে, হুইল চেয়ার দুটো তুমুল বেগে চালাতে লাগলেন। ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিলো। শুধু মনে হচ্ছিলো, ওর চেয়ার যেকোনো মুহূর্তে উল্টে যাবে এবং পড়ে গিয়ে আবার কোনো দুর্ঘটনার শিকার হবে! শামছু ভাইকে সরিয়ে সাফিরের চেয়ার পুশ করার প্রাণপণ ইচ্ছা আমি বহু কষ্টে দমিয়ে রাখলাম। আর আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে রইলাম সাফির আর শামছু ভাইয়ের দিকে।

আমাকে বেশিক্ষণ আতঙ্কিত হয়ে অপেক্ষা করতে হলো না। মাটিতে কোনো প্রতিবন্ধকতার সাথে ধাক্কা খেয়ে হুড়মুড় করে একটি হুইল চেয়ার উল্টে গেলো। কিছু বোঝার বা বাধা দেবার আগেই সবার চোখের সামনে বৃদ্ধ মানুষটি মাটিতে পড়ে গেলেন। আহারে, বুড়ো মানুষটা না জানি কত আঘাত পেয়েছিলেন!! এই ঘটনার পর হুইল চেয়ারগুলো দুজনেই সাবধানে ঠেলতে লাগলেন, একবারেই যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে সবার।

ট্রেনে করে আরাফাতে পৌঁছতে দশ মিনিটেরও কম সময় লাগলো। ট্রেনে ওঠার আগে কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়ালাম। তাও হুইল চেয়ার সাথে আছে দেখে অন্যদের চেয়ে অনেক কম সময় লাইনে দাঁড়াতে হলো। আমাদের প্যাকেজের সাথে ট্রেনের টিকেট করা ছিলো, তাই আমরা ট্রেনে করে আরাফাতে এলাম। অনেকে বাসে করে যাবেন আরাফাত, আবার অনেক হেঁটে যাবেন।

সৌদি আরব এমন এক দেশ, যেখানে রেলওয়ে বলে কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই। এই মনোরেইল নতুন তৈরি করা হয়েছে। আপাতত মিনা-আরাফাত-মুযদালিফা-আরাফাত-মিনা, এই রুটে ট্রেন চলাচল করছে। পরবর্তীতে মক্কা থেকে মদিনা পর্যন্ত ট্রেন লাইন সংযুক্ত করা হবে।

ট্রেন থেকে নেমে কিছুদূর চলার পর আমরা আরাফাতের প্রান্তরের তাঁবুর এলাকায় চলে এলাম। এখানের তাঁবুগুলো মিনার তাঁবুর মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়, ফোমের বিছানাও নেই। এবড়োখেবড়ো মাটির ওপর লাল পুরনো মলিন কার্পেট বেছানো রয়েছে শুধু। আরাফাতের ময়দানে যেহেতু কারো রাত্রিযাপনের কথা নয়, তাই এখানে বিছানার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আমরা ভীড় এড়ানোর জন্য আগে আগে চলে এসেছি, বেশিরভাগ মানুষ আগামীকাল সকালে আসবেন।

আরাফাতে থাকার সময়কাল নয় যিলহাজ্জ যুহর থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত। আমার মন আবারো খচ খচ করতে লাগলো, নবিজী ﷺ এর দুটো সুন্নাত পালন করতে পারলাম না। একটি হলো, আট তারিখ মিনাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়া হলো না। অপরটি হলো, আরাফাতে একদিন আগে চলে আসলাম। নিয়মানুযায়ী এই রাতটি অবশ্যই মিনাতে কাটাতে হবে। যেহেতু, আগে/পরে আসার উপরে আমার কোনো হাত ছিলো না, তাই আশা করি আল্লাহ্‌ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।

আরাফাতের ময়দান দেখতে কেমন, রাতের বেলা বোঝা গেলো না। অল্প সংখ্যক মানুষ আমাদের মতো রাতে চলে এসেছে, তাই খালি খালি তাঁবুর ভেতর থেকে ভালো দেখে একটি তাঁবু বেছে নিয়ে শুয়ে পড়লাম সবাই। মিনাতে পুরুষ-মহিলা আলাদা তাঁবুতে ছিলাম। কিন্তু এখানে তাঁবুর মাঝ বরাবর চাদর দিয়ে পার্টিশন করে এক পাশে মহিলা এবং অন্য পাশে পুরুষরা অবস্থান করলাম। কার্পেটের উপর সাথে করে আনা চাদর বিছিয়ে যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়লো।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ঘুমাতে কোনো কষ্ট হলো না। এক ঘুমে রাত পার হয়ে গেলো। ঘরে নিজের বিছানায় ক্ষুদ্র ধূলিকণা থাকলেও সহজে ঘুম আসতে চায় না, বালিশ বেশি শক্ত হলেও সমস্যা আবার নরম হলেও সমস্যা মনে হয়। আধা রাত পর্যন্ত বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে তবেই অনেকের ঘুম আসে। কিন্তু এই ময়দানে তেরপল দিয়ে ঢাকা তাঁবুর নিচে, অসমতল ভূমিতে, ধুলো বালির উপর, কোনো ফোম তোশক ছাড়া, কেবল পাতলা এক চাদর বিছিয়ে সবাই পরম শান্তির নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলাম!!! আলহামদুলিল্লাহ্‌!! দেখা গেলো, ভালো ঘুমের জন্য লাখ টাকার বিছানা লাগে না। এর জন্য শুধু দরকার আল্লাহ্‌ প্রদত্ত প্রশান্তি!!


পরবর্তী পর্ব – আরাফাতের ময়দানে হাজ্জ

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

One Response

  1. Imtiaz Mehedi

    গল্পের কিছু অংশ বাতায়নে স্থান পেয়েছে।পুরোটা খুজতে খুজতে এখানে পেয়ে গেলাম।তবে বই আকারে পুরো গল্পটা থাকলে বন্ধুদের এবং বাসার সদস্যদের দেয়া যেত।তারাও হাজ্জের বিষয়ে এত চমৎকার কিছু তথ্য জেনে উপকৃত হত।আর আরেকটা সমস্যা চোখে পড়ল তা হলো গল্পগুলো একটার পর একটা সাজানো নেই।কষ্ট করে খুজে খুজে পড়া লাগে।তাই এক পর্বের পর পরের পর্বের লিংকটা নিচে দিয়ে দিলেই পরের পর্বগুলো সবাই সহজে খুজে নিয়ে পড়তে পারে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive