সম্প্রীতির বাঁধনটা কি নতুন করে মেরামত করবেন? কি??? আমিতো ভেবেছিলাম, রমাদান হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত আর তারাবীহ পড়ার মাস। কার এত সময় আছে সম্পর্ক নতুন করে গড়ার? আমার এবারের রমাদানের টার্গেট হলো সহীহভাবে তারতীলের সাথে কুরআন খতম দেওয়া, আর সুন্নাহ সালাত সহ বাকি সুন্নাহ ইবাদত গুলো যতটা পারা যায় আদায় করে নেয়া।আসলেআমার হাতে এতো সময় নেই, আমি আমার ছোট ইবাদতখানায় যাবো, সেখানে শান্তিমতো ঝামেলা ছাড়াই আমার ইচ্ছেমতো ইবাদত বন্দেগীতে সময় পার করবো, আমি চাই না এই সময়টুকুতে কেউ আমাকে বিরক্ত করুক।

হ্যাঁ, আপনি শুধু একা নন! আমার চেনাজানা অনেকেই তাদের পারিবারিক সদস্যদেরকে ইবাদতের অন্তরক ভেবে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা আসলেই অথৈ সাগরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই রমাদানে ব্যক্তিগত ইবাদত আর দাম্পত্যজীবন ও বাচ্চাদের চাহিদা মেটানোর ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে। তাই সমাধান হিসেবে অনেকেই তার জীবনসঙ্গী আর বাচ্চাদেরকে হক্ব থেকে বঞ্চিত করে এ মাসের ফায়দা লুফে নিতে চান!! তারা তাদের কাজকে বৈধতা দিতে চান এই সান্ত্বনা দিয়ে যে, আরে এই মাস তো বছরে একবারই আসবে!  আর এভাবে অতিরিক্ত সময় আর সুযোগ ছাড়াই তাদের কাজ চলতে থাকে।

IIRT Arabic Intensive

কী ঘটবে যদি আপনি রমাদানের সত্যিকার স্বাদই আস্বাদন করতে ব্যর্থ হন? কী হবে এত এত ব্যক্তিগত ইবাদত করে, কুরআন তিলাওয়াত, তারাবীহ আদায় করে যেখানে আপনি আপনার আপনজনকে হক্ব থেকে বঞ্চিত করছেন, তাদের হক্ব নষ্ট করছেন, অথচ এটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ ছিলো যে আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হবেন, সদয় হবেন, তাদের সাথে পরিশীলিত মার্জিত আচরণ করবেন, তাদের প্রতি জুলুম করবেন না! কী হবে এত ইবাদত করে! যেখানে আল্লাহ্‌ সুবহানাহুওয়াতায়ালা যা পছন্দ করেন সেটাকে অবমূল্যায়ন করে ভালো ভালো কাজ করে ধনভাণ্ডার করে ফেললেও আপনি কি কোনো লাভ করতে পারবেন? আমি জানি, হয়তো আমি আপনাদের অনেককেই এখনও বিষয়টা বোঝাতে পারিনি! আপনাদের একটি কাজের তালিকা আছে যা দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। এই রুটিনবাঁধা তালিকাটা কিছু সময়ের জন্য নিজের থেকে দূরে রাখুন, একবার ভাবুন, কেন আল্লাহ্‌ আপনাকে ইবাদত করার জন্য সুযোগ দিয়েছেন? আল- কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্য কী? পানাহার থেকে বিরত থাকারই বা উদ্দেশ্য কী? তারাবীহর সালাত আদায়েরই বা কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? হ্যাঁ, এসব কিছুর মূল উদ্দেশ্য হলো, আপনার চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করা।

নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর অন্যতম পরিচয় ছিলো তাঁর অসাধারণ সুনিপুণ সুন্দর চরিত্র। আল্লাহ্‌ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এরশাদ করেন-

আর অবশ্যই আপনাকে দেওয়া হয়েছে সর্বোত্তম আখলাক (চরিত্র)। [সূরাহ আল-কালাম (৬৮): ৪]

এটা তিনি অর্জন করেছিলেন ব্যক্তিগত ইবাদত (আমলের) মাধ্যমে, যা তাঁর(সঃ) পবিত্র চরিত্রকে আরও বেশি মাধুর্যময় করেছিল।

আমি আধ্যাত্মিক দিক থেকে এবং অন্যান্য সমস্যাও কীভাবে সমাধান করা যায় সেইসব দিক থেকে বিবেচনা করে রমাদানকে সাফল্যমণ্ডিত করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আল- কুরআন কায়মনোবাক্যে তিলাওয়াতের মাধ্যমে হৃদয় সঞ্জীবিত হয়, পানাহার থেকে বিরত থাকা আত্মাকে জাগরিত করে, আর তারাবীহ হচ্ছে আল্লাহ্‌র সাথে শক্তিশালী বাঁধন তৈরী করার এক মোক্ষম মাধ্যম। নির্দ্বিধায় বলতে পারি, মহান রাব্বুল আলামিন এইসব ইবাদত বন্দেগীর কৌশল বলে দিয়েছেন, যাতে আমাদের চরিত্র আরও সুন্দর হয়। গৎবাঁধা কুরআন তিলাওয়াত থেকে বেরিয়ে এসে আপনি আল- কুরআনকে বুঝবার মতো করে পড়ুন, আর বাস্তব জীবনে কুরআনের বিধিমালা প্রতিফলিত করুন।

আল্লাহ্‌ নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপনে অনন্য, তবুও একটা কাল্পনিক উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন, ব্রান্ডন বুচার্ড এর কাছ থেকে আপনি নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উপদেশ নেয়ার সুযোগ পেলেন অথবা মার্ক জুকারবার্গ এর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, কীভাবে অল্পসময়ে ধনী হওয়া সম্ভব -এসব বিষয়ে আলাপন করার করার সুযোগ পেলেন। তারা আপনাকে অনেক কৌশল বলে দিলেন, অনেক তথ্য, উপদেশ দিলেন এমনকি স্বরচিত বইও আপনাকে পড়তে দিলেন, আপনিও বইগুলো বারবার পড়ে অগাধ জ্ঞান অর্জন করলেন কিন্তু একটা উপদেশও নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলেন না তাহলে কি লাভ হলো, বলুন! না পারলেন নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নতি করতে, না পারলেন ব্যবসা-বাণিজ্যকে উন্নত করতে, কোনোটাই করতে পারলেন না, তাহলে দিন শেষে আপনার কর্মফল হলো ‘শূন্য’।

ঠিক একই কথাগুলো কুরআন অধ্যয়নের বেলায়ও প্রযোজ্য। হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি প্রতিটি অক্ষরের জন্য অনেক সওয়াবের অধিকারী হচ্ছেন কিন্তু আপনি কি কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ্‌র হুকুম -আহকামকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পেরেছেন? এটা যদি না হয় তাহলে, নিজেকে কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যদি আপনি নিজেকে কুরআনের আলোতে আলোকিত মানুষে রুপান্তরিত দেখতে চান, তাহলে অবশ্যই  আপনাকে যে উপদেশ, আদেশ, নিষেধ দেয়া হয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলুন। আল- কুরআনে অন্তত শতাধিক আয়াত বর্ণিত হয়েছে ঔদার্য্য, ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা আর সচ্চরিত্রতার গুণাবলী নিয়ে কিন্তু শুধুমাত্র একটা আয়াতই নাযিল হয়েছে রমাদান নিয়ে। অর্থাৎ এ বিষয় থেকে বোঝা গেলো যে, রমাদানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের সদগুণাবলীর চর্চা করতে পারি যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় আখলাক বা সৎচরিত্র অর্জন করতে পারি।

সম্প্রীতি পুন:স্থাপনের নিয়ত

হ্যাঁ, আমি জানি হয়ত আপনি অতীতে এমনকি এই আর্টিকেলটা পড়ার আগেও ভাবেননি আপনার সময়, শ্রম পারিবারিক সম্পর্ক উন্নতির ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে, কারণ আপনি জানেন এটা শুধু তারাবীহ আর কুরআন তিলাওয়াতের মাস। কিন্তু আমি চাই আপনি এই মাসে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করুন। আসুন, জেনে নেই কীভাবে সম্পূর্ণ অকৃত্রিমভাবে আন্তরিকতার সাথে নিয়ত করবেন, যা আপনাকে রমাদানের ৩০ দিনই সংশয়মুক্ত রাখতে সহায়ক হবে।

হাদিসে নবাবীতে বর্ণিত : মানুষের সমস্ত কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

কেন রমাদানে এই নিয়ত করবেন?

 রমাদানে আরও বেশি মনোযোগ, শারীরিক শক্তি ও ইখলাস নিয়ে ইবাদত করার লক্ষ্য অর্জনের জন্য! এ কথা আমরা সবাই জানি যে, বিবাহ বিচ্ছেদ যে কোনো মানুষকেই মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয়, শারীরিক সব শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়, ইবাদতের ইখলাস আর সময়ের বারাকাহ কমিয়ে দেয়। যদি আপনাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ বিরাজমান থাকে তাহলে আপনি আর সালাতে খুশু-খুজু পাবেন না আর অন্য কোনো ভালো কাজে কর্মেও শান্তিময় অনুভূতি খুঁজে পাবেন না। কিন্তু একবার যদি আপনি আপনার দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন তাহলে আপনি সমস্ত কাজই সঠিক উপায়ে করতে পারবেন।

 এসময় শয়তানকে বন্দী রাখা হয়। সুতরাং আপনার জীবনসঙ্গী যতই আপনার জন্য বিরক্তিকর অথবা হতাশাজনক হোক না কেন এর মাত্রা অন্তত এই রমাদান মাসে কমে আসবে আশা করা যায়।

 হ্যাঁ, হয়তো আপনার ইমান এখন সর্বোচ্চ শিখরে আছে! এই যে আপনি দিনে সিয়াম পালন করছেন, রাতে তারাবীহ আদায় করছেন আবার কুরআন তিলাওয়াত করছেন, যা মোটামুটি রকম আপনার হৃদয়কে পরিশুদ্ধতা এনে দিচ্ছে। এই পবিত্র হৃদয় আর আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আপনি আপনার জীবনসঙ্গীর প্রতি আরও বেশি দয়ার্দ্র, প্রেমময় হতে পারেন।

 সওয়াবগুলো এই সময় ৭০গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়। চিন্তা করুন আপনি আপনার জীবনসঙ্গীর মুখে এক লোকমা খাবার তুলে দিলেও আপনার আমলনামায় এর সওয়াব কতগুণে ভারী হচ্ছে!! যদি আপনি আপনার বিবাহকে বিচ্ছেদের কবল থেকে মুক্ত করতে চান তাহলে এটাই সময়!

দ্রুত কার্যকরী কিছু কাজের পরামর্শ :

এখন আপনার করণীয় হলো, এই রমাদান মাস থেকেই আপনি নিয়ত করে ফেলুন, আপনাকে আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক নতুনভাবে গড়তে হবে, আপনাকে এখন থেকেই কাজটা শুরু করতে হবে। মনে রাখবেন, এই রমাদান মাসেই কিন্তু নেক কাজগুলোর সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা, দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করা হয়তো অনেক সহজ কিন্তু আত্ম-অহংকারকে ছাপিয়ে ভঙুর প্রায় দাম্পত্য সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলা খুবই কঠিন। যখনই আপনি নিজেকে নিজের অবস্থান থেকে নামিয়ে একটু দুঃসময়ের কঠিন অবস্থার দিকে নিয়ে যাবেন তখনই নিজের ভেতর আধ্যাত্মিকতার স্বাদ অনুভব করবেন! আপনার যা যা করতে হবে-

  • অতীতের ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। আল্লাহ্‌ এর বিনিময়ে আপনাকে অনেক সওয়াব দিবেন আর আপনার মর্যাদাও বাড়িয়ে দিবেন!
  • পুরাতন বিবাদকে ঝেড়ে ফেলুন। এগুলোকে ইমোশনালি মিশিয়ে জগাখিচুড়ী পাকানোর প্রয়োজন নেই।
  • একটু আধটু হাসুন, স্মিত হাসিও সাদাকাহ্। তাহলে কেন আপনার স্ত্রী সন্তানদের দিকে তাকিয়ে একটু হাসবেন না?
  • সারাদিনের কাজকে ভালোবাসতে শিখুন।
  • মাস শেষে প্রয়োজনে আপনার স্ত্রীর জন্য ছোট হলেও হাদিয়ার ব্যবস্থা করুন।

মহানবী (সঃ) বলেছেন –হাদিয়া উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ায় ।

  • পারস্পারিক হৃদ্যতা,কিছু বিষয় নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ করুন।
  • বাসার কিছু জায়গায় ভালোবাসার চিরকুট স্ত্রীর জন্য রেখে দিন।
  • ধন্যবাদ জানান প্রতিটি কাজের জন্য।
  • বাচ্চাদের কথাগুলো শুনুন, তাদের পরিশ্রমের কথা শুনুন, স্বপ্নের কথা শুনুন, আপনি যেন তাদের সাহসের উৎস হতে পারেন।
  • সহমর্মিতার সাথে কথা বলুন, মমতার স্পর্শ দিয়ে কাছে রাখুন।
  • প্রশান্তি, ভালোবাসা আর ক্ষমার উৎস হন।

আল্লাহ বলেছেন,

আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্য রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্যই তোমাদের থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মাঝেই সৃষ্টি করেছেন দয়া এবং ভালোবাসা। আর এর মধ্যে দৃষ্টান্ত রয়েছে সেইসব কওমের জন্য যারা চিন্তাশীল। [সূরাহ আর-রূম (৩০): ২১]

আল- কুরআন অধ্যয়ন-উন্নত চরিত্র

কুরআন প্রতিদিন তিলাওয়াত করার পাশাপাশি একটা বিষয় সবসময় খেয়াল করবেন যেন আপনি আপনার জীবনসঙ্গীর উপর তা প্রয়োগ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ‘দয়াশীলতা’ সম্পর্কিত কোনো আয়াত পড়ে থাকেন, তাহলে দয়ালু হওয়ার প্রাকটিস করুন সারাদিন, যদি ‘দানশীলতা’ সম্পর্কিত আয়াত পড়ে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন মসজিদে অল্পকিছু হলেও দান করার চেষ্টা করুন। এভাবেই প্রতিদিন আল- কুরআন এর কিছু অংশ পড়ুন আর তা বাস্তবজীবনে সেইটুকুই প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন আর সওয়াবের ভাগীদার হতে থাকুন। ধীরে ধীরে চরিত্রের এই উন্নতি আপনার দাম্পত্যজীবনের সম্পর্ককেও উন্নত করবে।

আল্লাহ বলেন,

আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন চুপ থাকো এবং তা মনোযোগ দিয়ে শুনো, যাতে তোমরা রহমত লাভ করতে পারো। [সূরাহ আল-আরাফ (৭): ২০৪]

সিয়াম- আত্মোন্নয়ন

যদি একনাগাড়ে ৩০ দিন খাবার, পানি থেকে আপনি বিরত থাকতে পারেন তাহলে আপনি সবকিছুই করতে সক্ষম ইনশা আল্লাহ্‌। এই পবিত্র রমাদানে আপনি আপনার ত্রুটি -বিচ্যুতিগুলো কাটিয়ে উঠার সাহস পাবেন। যদি আপনি অধৈর্য্য হয়ে থাকেন তাহলে গভীর প্রশ্বাস নিন এবং নাটকীয়তা পরিহার করুন। যদি উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকেন তাহলে মন থেকে উগ্রতা পরিহার করে দয়ালু হবার চেষ্টা করুন, আপনার জীবনসঙ্গীর প্রতি দয়া পরবশ হতে চেষ্টা করুন, ক্রোধ দমনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন। যারাই আল্লাহ্‌র জন্য সুসময় -দুঃসময়ে ব্যয় করবে নিজের উপার্জন থেকে, নিজের ক্রোধ দমন করবে আর আল্লাহ্‌র জন্য ক্ষমা করবে অপরকে আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তারাবীহ -ধৈর্য্যের সোপান

মূলত যে সময় ধরে তারাবীহ পড়ানো হয়, তাতে আপনার হৃদয়ে কেবল ধৈর্য্যের বীজ বপন করা হয়, এটা আপনাকে শেখায় কীভাবে আপনি কথা বলবেন, প্রতিক্রিয়াশীল হবেন, আপনার স্ত্রী -সন্তানদের সাথে জীবনযাপন করবেন। ১ ঘণ্টা যাবত সালাত আদায় করে আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করতে পারেন না। যদি এরূপ করেন তাহলে ধরে নেয়া যায় যে, আপনার ইবাদতে কিছু না কিছু ঘাটতি রয়েই গেছে। আপনি তখনই বুঝতে পারবেন যে আপনার ইবাদতগুলো কবুল হচ্ছে যখন দেখবেন আপনি আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে প্রাত্যহিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছেন আর এটাই আপনার অনবদ্য চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ বলেন,

আর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে, তারা যেন সবর এবং সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সবরকারীদের সাথে আছেন।  [সুরা আল-বাকারাহ (২): ১৫৩]

রমাদানের এই সুযোগকে এমনভাবে কাজে লাগান যেন এর প্রতিটি ইবাদত আপনার পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।আপনার প্রতিটি কাজকর্ম যেন অন্যের জন্য শিক্ষণীয় হয়, এভাবে আপনি শুধুমাত্র পবিত্র রমাদানে শুধু সওয়াবই পাবেন না বরং পারিবারিক সম্প্রীতিও আরও মজবুত হবে ইনশা আল্লাহ্‌।


উৎস: Muslim matters.org (মূল আর্টিকেল লিন্ক)

অনুবাদক: সালসাবিল রাবিয়া বিনতে বাহার

অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive