খুব ভাল করে খেয়াল করবেন, নারী’র একটা স্পেশাল গুন আছে। সেটা হল, মানুষকে এমপ্যাথী করতে পারা। এমপ্যাথী কি? এমপ্যাথী হল আরেকজন কি ফীল করতেছে, তা নিজেই ফীল করতে পারা।

মনে করেন, আপনি কাউকে একটা কথা বললে তাতে সে কষ্ট পাবে, বা অফেনডেড ফীল করবে, তা যদি আপনি কথা টা বলার আগেই ফীল করতে পারেন, তাহলে কেমন হয়? তাহলে যেটা হয়, যে আপনি কথাটা এমনভাবে ঘুরিয়ে বলবেন, বা এমনভাবে এডিট করবেন, যে সে আর কষ্ট পাবেনা বা অফেনডেড ফীল করবেনা।

IIRT Arabic Intensive

এটা একমাত্র সম্ভব যদি আপনি আগেই ফীল করতে পারেন, যে আপনি কি বললে মানুষ কি ফীল করবে। রাইট? তাহলে মানুষ আপনার কোন কথায় কি ফীল করবে, তা হিসেবে এনে আপনি কথা বলবেন। এটাই হল এমপ্যাথী করতে পারা।

এই এমপ্যাথী টা নারী খুব ভাল করতে পারে। পুরুষ হালকা পারে, কিন্তু ভাল পারেনা, প্রায়ই ভুল করে, এবং ডাইরেক্ট মনে যা আসে ঠুস ঠাস বলে দেয়, তাতে অন্যরা কষ্ট পায়। সম্পর্ক খারাপ হয়। পুরুষ তো আর সম্পর্ক খারাপ হওয়াকে তত ভ্যালূ দেয়না। কিন্তু নারী কারো সাথে সম্পর্ক বা রিলেশন খারাপ হওয়াকে খুব গুরুত্ব দেয়, এবং এমপ্যাথী করে কথা বলে, অনেক কথা মুখে এসে গেলেও কথা ঘুরিয়ে ফেলে নারী। তবে নারী আবার কাউকে শত্রূ মনে করলে ইচ্ছা করলে তাকে আঘাত করেও কথা বলতে পারে, কারণ সে ফীল করে যে কোন কথা বললে মনে আঘাত লাগবে। দুই মেয়েতে যদি ঝগড়া হয়, শুনে দেইখেন। নিশ্চয়ই দেখছেন। এমপ্যাথী করতে পারে বলেই নারী সবসময় ‘লোকে কি বলবে’ এটা চিন্তা করে মাত্রাতিরিক্ত।

এজন্যই আপনি আপনার মা কে যে কোন কথা সহজে বলতে পারেন, কারণ এমন রিএকশন করবেনা যে আপনি কষ্ট পান, যেহেতু তিনি আপনাকে ভালবাসেন। কিন্তু আপনার বাবা? ঠাস ঠাস ট্রস ট্রস হয়ে যেতে পারে কিন্তু।

একই সাথে নারীর আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল, সে সবার সাথে সুসম্পর্ক মেইন্টেইন করে চলতে চায়। তার বান্ধবী, বোন, মা, খালা, সবার সাথে। সে অনেক সোস্যাল। এ কারণে, যে কোন সামাজিক ব্যবস্থায় , সব নারীর সাথে সব নারীর সম্পর্ক বজায় থাকে, আর হাজব্যান্ডরা জানেই না কি হচ্ছে। কোন পরিবারে কি হচ্ছে, ভিতরের সব খবর নারীর কাছে থাকে, কারণ রিলেশন শীপ মেইন্টেইন করতে গিয়ে তাকে কথা বলতে হয়, কথা বললে নিউজ ফ্লাশ হয়। পুরুষ মানুষ নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, পাশের বাসায় কি হচ্ছে, সে জানেই না, কেয়ারও করেনা। সে তার স্ত্রীকে ‘বিবিসি’ নামে ডাকতেও দ্বিধা করেনা তাই।

নারীর আরেকটা বৈশিষ্ট্য আছে, সেটা হল ‘সবর’ করতে পারে। পুরুষ জেনারেলী একটু সবর কম করতে পারে, ইমপালসিভ বা এমপেইশেনট। ঠুস ঠাস কাজ করতে ভালবাসে সে। তাহলে পুরুষের তুলনায় নারীর বেশ কিছু পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য আছে , যেগুলোকে মোটাদাগে তিনটা ভাগে ভাগ করা যায়: ক. এমপ্যাথী করতে পারা, খ. রিলেশনশীপ মেইন্টেইন করতে পারা গ. সবর করতে পারা।

মানে নারী এগুলোতে এক্সপার্ট, পুরুষ একেবারে পারেনা, তা নয়, তবে সিগনিফিক্যান্টলী কম পারে। কিন্তু পুরুষের ও বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলোতে সে এক্সপার্ট। পুরুষ খুব কনফিডেন্ট এবং ডিসাইসিভ। সে খুব কনফিডেন্টলী ডিসিশন নেয়। এবং দ্রুত যে কোন কাজ ডেলিভারী দিতে পারে, কারণ সে ঠাস ঠাস ডিসিশন নেয়, কোন টেনশন ছাড়াই, ইভেন ভুল ডিসিশনও কনফিডেন্টলী নেয়। তার তুলনায় নারী ইনকনফিডেন্স এ ভুগে এবং ডিসিশন নিতে গিয়ে খুব দোটানায় থাকে, ইভেন সঠিক ডিসিশনও ইনকনফিডেন্স এর জন্য নিতে পারেনা। ইন্টারেস্টিং না? শারীরিক পরিশ্রমের কাজে পুরুষ এগিয়ে থাকবে, সে খুব দ্রূত এবং শক্তির সাথে কাজ করতে পারে, নারীর তুলনায়।

তাহলে দেখা গেল, পুরুষের সবই কেমন যেনো দেহ কে কেন্দ্র করে, ম্যাটারিয়ালিস্টিক; নারীর সবই কেমন যেন মনকে কিছুকে কেন্দ্র করে, এবসট্রাক্ট: ধরা যায়না, কিন্তু ফীল করা যায়।

এখন আসুন, সাধারণভাবে নারীর বৈশিষ্ট্যগুলোকে নারীশক্তি, পুরুষের বৈশিষ্ট্যগুলোকে পুরুষশক্তি দ্বারা ডিফাইন করি, পরবর্তী আলোচনার জন্য।

কিন্তু এর মধ্যে খাশোজ্জি বা তুর্কি বা সৌদি কিভাবে আসলো তা তো বুঝলাম না?

আসলে ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্স যদি দেখেন তাহলে দেখবেন, রাষ্ট্রগুলো নারীশক্তি এবং পুরুষ শক্তির প্রপার ব্যালেন্স করে চলে। তবে লেডিস ফার্স্ট। নারী শক্তি আগে থাকে, পুরুষ শক্তি পিছনে থাকে, মানে ব্যাক আপ ফোর্স হিসেবে।

প্রতিটা শক্তিশালী রাষ্ট্র দেখবেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে খুব ভাল। অন্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে ডিপ্লোমেটিক রিলেশন ভাল রাখে। কিছু হলেই কনডেম দেবার নামে সহানুভূতি দেয়, পাশে থাকে। একটা রাষ্ট্রের সবসময় অন্য অনেক গুলো রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক বজায় রাখে। সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অনেক সময় ব্যয় করে, দরকার হলে প্রেসিডেন্ট-প্রাইম মিনিস্টার দেখা সাক্ষাত করে। বিজনেসম্যানরা দেখা সাক্ষাত করে। সুনাম বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রগুলো করেনা এমন কাজ নাই। সবই কিন্তু রিলেশনশীপ বজায় রাখার চেষ্টা, নারীর মতন। রাষ্ট্র প্রতিটা কাজ করার সময় অন্য রাষ্ট্রগুলোকে এমপ্যাথী করে কাজ করে, সব সময় রিলেশন শীপ মেইন্টেইন করে এবং কোন ঝামেলা হলে সবর করে, ইমিডিয়েট একশনে যায় না, ডিপ্লোমেটিকালী সলভ করতে চায়।

ঠিক যেভাবে আপনার মা, তার বোন-খালা-বান্ধবীর সাথে এমপ্যাথী করে, রিলেশনশীপ বজায় রাখে, সব কিছু ডিপ্লোমেটিকালী সমাধা করতে চায় , সেরকম, রাইট? এগুলো হল রাষ্ট্রের নারী শক্তি। খেয়াল করছেন ব্যাপার টা?

এখানে উল্লেখযোগ্য: মিডিয়া হল একটি নারী শক্তির শক্তিশালী রূপ। এটাকে খুব ভালভাবে ব্যবহার করে সব কিছু উলট পালট করে দেয়া যায়।

তবে রাষ্ট্রগুলোর এই নারী শক্তি এফেক্টিভলী কাজ করে, যদি পিছনে একটা স্ট্রং মিলিটারী ব্যাকআপ থাকে, নাহলে কোন লাভ নাই। শুধু স্ট্রং মিলিটারী ব্যাকআপ না, বরং যেকোন কাজ ডেলিভারী করার ক্ষমতা, যেকোন সফিসটিকেটেড বস্তু প্রডাকশন করার ক্ষমতাও থাকতে হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন পাওয়ার থাকতে হয়। এগুলো হল পুরুষ শক্তি। ওকে?

আমেরিকা – ব্রিটেন কেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস এ এত ভাল বুঝছেন?

কারণ এরা সাধারণ ভাবে নারী শক্তি দিয়ে দেশ চালায়, ডিপ্লোমেসী করে করে। শক্তি প্রয়োগ করতে চায়না। শক্তি প্রয়োগ তখন করে, যখন ডিপ্লোমেসী কাজ করেনা। তবে এই শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা না থাকলে ডিপ্লোমেসী করার ক্ষমতা কিছুটা অর্থহীন।

তার মানে পুরুষ শক্তি ছাড়া নারী শক্তি অর্থহীন।
আর নারী শক্তি ছাড়া পুরুষ শক্তি? সেটাও অর্থহীন।

এক্সাম্পল: শুধু পুরুষ শক্তি, নারী শক্তির অভাব

জার্মানী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, শুধু পুরুষ শক্তি দিয়ে দুনিয়া জয় করতে গেছে। সবর ছিলনা, রিলেশনশীপ গড়তে জানেনা, এমপ্যাথী করতে পারেনা অন্য রাষ্ট্রগুলোকে। ফলাফল, কোটি কোটি লোকের মৃত্যু এবং অপমানজনক পরাজয়। যদিও শক্তিতে একক ভাবে জার্মানীর সাথে দাড়ানোর শক্তি কারুরই ছিলনা। সোভিয়েতরা প্রায় ৫ গুন বেশী সৈন্য এবং অস্ত্র দিয়ে জার্মানীকে হারিয়েছে। আর জার্মানী? এক দিকে সোভিয়েত আরেক দিকে ব্রিটেন আমেরিকার কম্বাইন্ড ফোর্সকে সামলেছে। যদিও জার্মানী হারছে, কিন্তু আসলে সে একই তিনটা সুপার পাওয়ার এর সমান ছিল। তারপরও হারছে। একই কথা জাপান এর ক্ষেত্রেও সত্য। বর্তমান যুগে, সাদ্দাম হোসেন এর ইরাক, গাদ্দাফীর লিবিয়া, সিসির ইজিপ্ট শুধু পুরুশ শক্তির উদাহরণ। লাতিন আমেরিকার স্বৈরশাসক রাও। সবই শুধু পুরুষ শক্তি দ্বারা দেশ চালাতে গিয়ে ব্যর্থ। সাধারণভাবে সামরিক শাসকরা ( যদিও ব্যতিক্রম থাকতে পারে ) নারী শক্তির মর্যাদা বুঝেনা, যেজন্য ফেইল হয়।

এক্সাম্পল: শুধু নারী শক্তি, পুরুষ শক্তির অভাব

সাধারণভাবে মধ্য আফ্রিকার দেশগুলো, এবং বাংলাদেশ, মায়ানমার। দু:খ পাইলেন? দু:খ পাইলে কিছু করার নাই। যা সত্য, তা সবাইকে জানতে হবে, নাহলে ফিক্স করবেন কিভাবে?

আরো এক্সাম্পল: সাধারণভাবে মুসলিম দেশগুলো। আবারও দু:খ দেবার জন্য দু:খিত। এবার আসি খাশোজ্জি হত্যায় তুর্কি, সৌদির ভূমিকা। তুর্কি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস এ সিদ্ধ হস্ত। তার বিশাল বড় শক্তি শালী আর্মি আছে, ইন্ডাসট্রিয়াল পাওয়ার আছে, মানে তার পুরুষ শক্তি আছে। কিন্তু দরকার না পড়লে ব্যবহার করবেনা। সবর করবে।

খাশোজ্জি হত্যার সাথে সাথে তুর্কি কিন্তু সব কিছু জেনে গেছে। ইচ্ছা করলে ইমিডিয়েট সবকিছু ফাঁস করে দিতে পারতো। কিন্তু না। নারী যেভাবে সবকিছু কে প্যাচায়, এক কথা বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে, তুর্কি সেই স্ট্যান্স নিয়েছে।

তারা পশ্চিমা বিশ্বকে খুব ভালভাবে এমপ্যাথী করতে পেরেছে, কিভাবে পশ্চিমা বিশ্বকে কোন ব্যাপারে ডিপ্লোমেটিকালী রাজী করানো যায়, সেটা তারা বুঝে। প্রথমেই আমেরিকান প্যাসটর ছেড়ে পথকে খোলা করেছে। এরপর আসতে আসতে বিবিসি-সিএনএন-রয়টার্স এ খবরগুলো ১ মাস ধরে ছেড়েছে। ঠিক নারীর মতন ডিপ্লোমেটিকালী সমস্যার প্রচার করেছে তুরস্ক।

এরপর এমন বদনাম হইছে এমবিএস এর , সৌদি আরব বাধ্য হয়েছে দোষ স্বীকার করার । এমন চাপে সৌদি নাইন ইলেভেন এর আগে পড়েনাই। বিলিয়ন ডলার লস হয়েছে। আর সব গেইন, এরদোগানের, তুর্কির।

এভাবে তুর্কি নারী শক্তি আর পুরুষ শক্তির প্রপার ব্যালেন্স করতে পেরেছে। ওকে?

আর এমবিএস? পর্যাপ্ত পুরুষ শক্তি নাই, ব্যবহার করার মুরোদ নাই, কিন্তু তারপরও দেখাতে গেছে। আশেপাশের রাষ্ট্রগুলো এই ঘটনায় কিভাবে রেসপন্স করবে, তা এমবিএস এমপ্যাথী করতে পারেনী। ইমপেইশেনট বা সবর হীন হয়ে, হঠাৎ করেই কাজে নেমে পড়েছে, ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন এর পাত্তা দেয়নি।

ফলাফল: এমবিএস বিপদের মধ্যে। যদিও কিছু হবেনা, কিন্তু ঝামেলায় পড়ে গেল। ব্যাপক ঝামেলায়।

কাতার, লেবানন এসব দেশের সাথে রিলেশনশীপকে এমবিএস গুরুত্ব দিচ্ছেনা। আবার পুরুষ শক্তিও প্রয়োগ করতে পারছেনা, কারণ তা নেই। তাহলে? যা করার শক্তি নেই তা করতে গিয়ে এখন মহাবিপদে।

সৌদির পুরুষ শক্তি তত নেই। যা আছে হালকা। নারী শক্তি ব্যবহার করেই চলতে হয়। কিন্তু এমবিএস এসে নারী শক্তি কে ফেলে দিয়েছে। শুধু পুরুষ শক্তি দিয়ে চলতে গেছে, কিন্তু এত পুরুষ শক্তি তো তার নেই? প্রপার ব্যালেন্স হয়নি। কাজেই বিপদের উপর বিপদ।

তাহলে বুঝা গেল, রাষ্ট্রসমূহ নারী শক্তিকে সামনে রেখে, পুরুষ শক্তিকে পিছনে রেখে, সাধারণভাবে চলে। দুটোর প্রপার ব্যালেন্স করতে হয়। কখনও কখনও পুরুষ শক্তিকে সত্যি সত্যি ব্যবহার করতে হয় রাষ্ট্রকে, নাহলে কিন্তু আবার বাংলাদেশ হয়ে যাবে।

আচ্ছা, রাসূলুল্লাহ ﷺ কি করতেন?

খেয়াল করে দেখবেন, রাসূল ﷺ মানুষের মন বুঝে তার সাথে কথা বলতেন। বন্ধু ও শত্রূ উভয়কে এমপ্যাথী করে চলতেন। সবগুলো ট্রাইবের সাথে রিলেশনশীপ মেইন্টেইন করতেন। যে কোন ব্যাপারে খুব সবর করতেন, একশনে যাবার আগে খুব ভালভাবে দাওয়াত – নাসীহাহ দিয়ে নিতেন। রাইট?

দরকার পড়লে পুরুষ শক্তিকে প্রয়োগ করতেনও। জীবনে প্রায় ৮১ বার করেছেন। রাইট? ঠিক যেন বর্তমান যুগের শক্তিশালী রাষ্ট্র যেভাবে চলে, রাসূল ﷺ সেভাবেই চলেছেন। আসলে রাসূল ﷺ যেভাবে চলেছিলেন, তারা সেভাবে চলে, বুঝে হোক, আর না বুঝে হোক।

তার মানে এইটাই লীডারশীপ লেসন। আপনাকে পুরুষ হয়েও : এমপ্যাথী করা, রিলেশনশীপ মেইন্টেইন করা, সবর করা, এগুলো করতে হবে, যথার্থ পরিমাপে (অতিরিক্ত না আবার), তাহলেই আপনি লীডার। সেই সাথে পুরুষ শক্তিও থাকতে হবে। আই মীন, শারীরিক শক্তি এবং কাজ ডেলিভারী দেবার যোগ্যতা।

তার মানে প্রতিটা পুরুষ লীডারও, নারীর গুনকে যথার্থ পরিমাপে প্রয়োগ করেই লীডার হয়। প্রতিজন। ওকে? শুধু পুরুষ শক্তি দিয়ে আপনি লীডার বা সাকসেসফুল হতে পারবেন না।

কিন্তু লীডারশীপে (রাষ্ট্র/ইন্ডাস্ট্রিতে) সাধারণত নারীকে দেখা যায় না কেন? কম কেন? আসল গুনতো ওদের মধ্যে?

কারণ এট দি এন্ড, কনফিডেন্স, ডিসাইসিভ নেস এবং কুইক ওয়ার্ক ডেলীভারী, শারীরিক ফিটনেস, এগুলো পুরুষকে এগিয়ে দেয়।

আসলে নারীর মধ্যে এই এমপ্যাথী-রিলেশনশীপ-সবর মাত্রাতিরিক্ত পরিমানে আছে। বেশী বেশী করে ওরা, হয়তো। তাই পুরুষ তাকে নাম দেয়: বিবিসি, এটিএন বাংলা। কিন্তু তাই বলে এই গুনগুলো কিন্তু ফেলনা নয়। বরং এই গুনগুলো দিয়েই এমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্স সহ শক্তিশালী দেশগুলো টিকে আছে, চিন্তা করেন? নারীশক্তিকে মূল্য না দেয়ায় কি পরিণতি জার্মানী-জাপানের হয়েছে, চিন্তা করতে পারেন, অথচ তাদের আর্মি ( পুরুষ শক্তি ) কিন্তু স্ট্রং বেশী ছিল?

আসলে মানুষ বা রাষ্ট্রর সফলতার জন্য যা যা দরকার, তা দুই ভাগ করে পুরুষকে কনফিডেন্স-ডিসাইসিভনেস-ফিজিকাল ফিটনেস বেশী বেশী দেয়া হয়েছে, আর নারীকে এমপ্যাথী-রিলেশনশীপ-সবর এসব বেশী বেশী দেয়া হয়েছে। পুরুষকে ম্যাটেরিয়ালীস্টিক বস্তু এবং নারীকে এবসট্রাক্ট সাইকোলজীর উপর এক্সপার্টিজ দেয়া হয়েছে।

এই দুই গুন এপ্রোপ্রিয়েটলী ব্যালেন্স করে চলতে পারলেই রাষ্ট্র সফল, পরিবার সফল, মানুষ সফল। পুরুষ শক্তির বেশী/অতিরিক্ত প্রয়োগ খুব খারাপ, নারী শক্তির বেশী/অতিরিক্ত প্রয়োগও খারাপ। ব্যালেন্স দরকার।

সফল হতে পুরুষ ও নারী উভয়ের গুনগুলোকে এক করতে হবে। একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে লাভ নেই। যে দিকে নারী এক্সপার্ট , সেদিকে পুরুষ দুর্বল; আবার যে দিকে পুরুষ এক্সপার্ট সে দিকে নারী দুর্বল, কাজেই ফেয়ার প্রতিযোগিতা হবেনা, জেনেটিক্স দ্বারা তারা ডিফাইন্ড।

তার মানে বুঝলাম নারী ও পুরুষ একে অপরের সহযোগী? রাইট?

নারী ও পুরুষ যে একে অপরের সহযোগী এটা কিন্তু কুরআনের আয়াত, সূরা তাওবাহ: ৭১, পড়ে দেখেন। চিন্তা করেন? ছোট্ট কথা, কিন্তু লুকিয়ে আছে মুক্তার দানা।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive