একঅনলাইন জগতে এই কথাটা  প্রায়ই শোনা যায়। মুসলিমদের দিকে চট করে অভিযোগের আঙুল তুলে বলা হয় – “তোমরা তো আল্লাহর উপাসনা করো। কিন্তু তোমরা কি জানো যে মক্কার পৌত্তলিকরাও আল্লাহর উপাসনা করতো? কা’বায় ৩৬০টা দেবতার মূর্তি ছিল। আর এর একজন দেবতা ছিল আল্লাহ! তাহলে তোমাদের সাথে তাদের পার্থক্য রইলো কী?”

কথাগুলোর ভেতরে কিছু সত্য আছে। আবার সূক্ষ্ম মিথ্যাও আছে।

IIRT Arabic Intensive

আল্লাহ’ শব্দের অর্থ কী? এ দ্বারা প্রাচীনকাল থেকে আরবরা কী বুঝতো?

আল্লাহ তা’আলার পবিত্র নামটি এসেছে আরবি ক্রিয়াপদ আলাহা > ইয়া’লাহু > মা’লুহ (أَله يأله فهو مألوه) থেকে। এগুলোর মূলে রয়েছে আলিফ, লাম এবং হা এই ৩টি হরফ। এই ক্রিয়ার অর্থের মধ্যে ভালোবাসা এবং উপাসনা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এমন একজন সত্তা যিনি ভালোবাসা ও উপাসনার হকদার। যাঁর প্রতি বিশ্বাসীগণ আশা ও ভয় রাখেন, যাঁর জন্য স্তুতি করেন।[1]

আরবি ভাষায় এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টাবোধক এক পবিত্র শব্দ এটি। অনন্য এই শব্দের কোনো বহুবচন বা বিপরীত লিঙ্গ নেই। Edward William Lane এর অভিধানে চমৎকারভাবে আল্লাহ শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ উল্লেখ করা হয়েছেঃ- “ الله‎ [Witten with the disjunctive alif الله‎, meaning God, i.e the only true god]”[2]

অর্থাৎ ‘আল্লাহ’ শব্দ দ্বারা একমাত্র সত্য উপাস্যকে বোঝায়।

একই মূল শব্দ থেকে উদ্ভুত শব্দ (Cognates) হিব্রু ও অ্যারামায়িকের মতো অন্যান্য সেমিটিক ভাষাগুলোতেও পাওয়া যায়। হিব্রু ভাষায় এর সমজাতীয় শব্দ ‘এলোহিম’ (אלהים) এবং ‘এলোয়াহ’ (אלוהּ), যা বাইবেলে পাওয়া যায়। বাইবেলীয় অ্যারামায়িক ভাষায় এর সমজাতীয় শব্দ ‘এলাহা’ (ܐܠܗܐ) এবং অ্যারামায়িকের একটি উপভাষা সিরিয়াকে এর উচ্চারণ হয় ‘আলাহা’ (ܐܲܠܵܗܵܐ)।[3]

দুইআরবের মক্কায় বসবাসকারী সাধারণ লোকজন সেই প্রাচীন কাল থেকেই ইসমাঈল(আ.)-এর দাওয়াত ও প্রচারের ফলে ইব্রাহিম(আ.) প্রচারিত দ্বীনের অনুসারী ছিলেন। এ কারণেই তাঁরা ছিলেন আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং একমাত্র আল্লাহরই উপাসনা করতেন। কিন্তু কাল প্রবাহে ক্রমান্বয়ে তাঁরা আল্লাহর একত্ববাদ এবং খালেস দ্বীনী শিক্ষার কোন কোন অংশ ভুলে যেতে থাকেন কিংবা সে সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েন। কীভাবে মক্কায় মূর্তিপুজা আরম্ভ হল? আমর বিন লুহাই নামে এক মক্কার এক নেতা শাম (বৃহত্তর সিরিয় অঞ্চল) থেকে মূর্তিপুজার আমদানী ঘটায়। কা’বায় আস্তে আস্তে দেবমূর্তি স্থাপন করা হতে থাকে এবং সেগুলোকেও পুজা করা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এত সব সত্ত্বেও আল্লাহর একত্ববাদ এবং দ্বীনে ইব্রাহিম(আ.) এর কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য অবশিষ্ট থেকে যায়। আর কিছু কিছু বিকৃত জিনিস এর সাথে মিশ্রিত হয়। খাঁটি ইব্রাহিমী একত্ববাদী থেকে তারা মুশরিক বা অংশীবাদী পৌত্তলিকে পরিনত হয়।[4]  ধীরে ধীরে শুরু হয় অজ্ঞতা, কুসংস্কার আর অন্যায়ের এক যুগ ইতিহাসে যাকে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’।

আল কুরআনে, হাদিসে এবং সিরাহ গ্রন্থগুলোতে অন্যান্য জিনিসের সাথে সাথে আরব পৌত্তলিকদের অনেক বিশ্বাসের কথাই উঠে এসেছে। আল কুরআনে বিভিন্ন স্থানে সে যুগের আরব মুশরিক বা পৌত্তলিকদের বিশ্বাস উল্লেখ করে তাদেরকে খণ্ডন করা হয়েছে।

মক্কার আরবরা নিজেদেরকে ইব্রাহিম(আ.) এর বংশধর হিসাবে বিশ্বাস করতো,[5] এবং ইব্রাহিম (আ.) এর উপাস্য আল্লাহ তা’আলাকে তারাও উপাসনা করত। যদিও এর সাথে সাথে তারা মূর্তিপুজাও করতো। আল্লাহকে আরব মুশরিকরাও তাদের স্রষ্টা বলে বিশ্বাস করতো। সারা বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা বলেও বিশ্বাস করতো।

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۖ فَأَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

অর্থ: তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো কে তাদেরকে সৃষ্টি করেছে, তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, “আল্লাহ”। তবুও তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে?[6]

وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ ۚ قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ ۚ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ
অর্থ: আর যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে – তারা অবশ্যই বলবে “আল্লাহ”। তুমি বল: আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করতে চাইলে, তারা কি সে রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, ভরসাকারীরা তাঁরই উপর ভরসা করে।[7]

তারা এক অদ্বিতীয় আল্লাহর বিশ্বাসের সাথে সাথে বিভিন্ন নব উদ্ভাবিত উদ্ভট ধারণার প্রচলন করেছিল। তারা আল্লাহ তা’আলার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করতে শুরু করে। তারা লাত, মানাত এবং উযযা নামে ৩ কাল্পনিক দেবীকে আল্লাহর কন্যা বলা শুরু করে (নাউযুবিল্লাহ)। অথচ এমন কোনো কিছুর ব্যাপারে তাদের কোনো দলিল-প্রমাণ ছিল না, ইব্রাহিম (আ.) বা পূর্বের কোনো নবী এরূপ কিছু শিক্ষা দেননি। আল কুরআনে তাদের এই নব উদ্ভাবিত বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর এই ভ্রান্ত বিশ্বাস নাকচ করে পৌত্তলিকতার নোংরামী ঝেড়ে ফেলে বিশুদ্ধ একত্ববাদিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

( 19 )   أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّىٰ

( 20 )   وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَىٰ

( 21 )   أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَىٰ

( 22 )   تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَىٰ

( 23 )   إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ ۖ وَلَقَدْ جَاءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَىٰ

অর্থ: তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্বন্ধে? আর মানাত সম্পর্কে, যা তৃতীয় আরেকটি? তোমাদের জন্য কি পুত্র আর আল্লাহর জন্য কন্যা? এ ধরণের বণ্টন তো অসঙ্গত। এগুলো তো কেবল কিছু নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষেরা রেখেছো। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলিল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে।অথচ তাদের কাছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।[8]

( 1 )   الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا ۜ

( 2 )   قَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِّن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا

( 3 )   مَّاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا

( 4 )   وَيُنذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا

( 5 ) مَّا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ ۚ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ ۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا

অর্থ:  সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার [মুহাম্মাদ(ﷺ)] প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করে এবং মু’মিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে। এবং তাদেরকে সতর্ক করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে। এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। কত উদ্ভট তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা।[9]

( 88 )   وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَٰنُ وَلَدًا

( 89 )   لَّقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا

( 90 )   تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا

( 91 )   أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَٰنِ وَلَدًا

( 92 )   وَمَا يَنبَغِي لِلرَّحْمَٰنِ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا

( 93 )   إِن كُلُّ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَٰنِ عَبْدًا

( 94 )   لَّقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا

( 95 )   وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا

অর্থ:  তারা বলে, দয়াময় [আল্লাহ] সন্তান গ্রহণ করেছেন।  তোমরা তো এক বিভৎস কথার অবতারণা করেছো। এতে যেন আকাশমণ্ডলী বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়বে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচুর্ণ হবে। এ কারণে যে, তারা দয়াময়ের জন্যে সন্তান সাব্যস্ত করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়। নভোমণ্ডল ও ভূ-মন্ডলে কেউ নেই যে, দয়াময় [আল্লাহ]র কাছে বান্দা হয়ে উপস্থিত হবে না। তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তিনি তাদেরকে গণনা করে রেখেছেন। কিয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে।[10]

কী ভেবে তারা মূর্তিপুজা করতো? এর স্বপক্ষে তাদের যুক্তি কী ছিল? আল কুরআন থেকেই এ বিষয়ে আমরা জানতে পারি। কুরআনের তাদের এই যুক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে এবং খণ্ডন করা হয়েছে।

( 1 )   تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

( 2 )   إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّينَ

( 3 )   أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ ۚ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَىٰ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ

( 4 )   لَّوْ أَرَادَ اللَّهُ أَن يَتَّخِذَ وَلَدًا لَّاصْطَفَىٰ مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ سُبْحَانَهُ ۖ هُوَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ

( 5 )   خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۖ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۗ أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

অর্থঃ “এই  কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমি তোমার [মুহাম্মাদ(ﷺ)] প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে নাযিল করেছি। অতএব, তুমি আল্লাহর ইবাদত করো তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্তে। জেনে রাখো, অবিমিশ্রিত আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য।

 যারা আল্লাহ ব্যতিত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না যে মিথ্যাবাদী ও সত্য গোপনকারী ।

আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছা করতেন, তবে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা কিছু ইচ্ছা মনোনিত করতেন, তিনি পবিত্র। তিনি আল্লাহ, এক পরাক্রমশালী। তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রেখো, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।[11]

তারা আল্লাহকেই সকল কিছুর নিয়ন্তা বলে মানতো। দেবতাদের ব্যাপারে তাদের ধারণ ছিল যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে বা আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে। তারা ঐ দেবমূর্তিগুলোকে আল্লাহর সাথে এক করে দেখতো না।

আল্লাহকে বিশ্বাসের সাথে সাথে শির্ক করা সেই জাতি ইব্রাহিমী বিশ্বাসের ছিটেফোঁটা হিসাবে এটাও বলতো যে, “আল্লাহর শরীক” নেই। কিন্তু এই কথা বলার পরে তারা উদ্ভট অপব্যাখ্যা করে আল্লাহর উপসনায় শরীক করতো। ইব্রাহিম(আ.) এর শরিয়ত থেকে তারা হজের বিধান পেয়েছিল। সেই হজ তারা বংশপরম্পরায় ঠিকই চালু রেখেছিল, কিন্তু এর ভেতরে বিভিন্ন নবউদ্ভাবন (বিদআত) এবং অংশীবাদ (শির্ক) ঢুকিয়ে ফেলেছিল।

তারা মূর্তির উদ্দেশ্যে হজ করত, ত্বাওয়াফ করত, তার সামনে নত হত ও সিজদা করত। তাওয়াফের সময় তারা শির্কী তালবিয়া পাঠ করত।

— لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ إِلاَّ شَرِيكًا هُوَ لَكَ تَمْلِكُهُ وَمَا مَلَكَ

অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমি হাজির। আপনার কোন শরীক নেই – সেই শরীক ছাড়া, যে আপনারই অধীন। আপনি তার ও তার সম্পদের মালিক আর সে মালিক নয়।” মুশরিকরা ‘লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা’ {আমি হাজির, আপনার কোন শরীক নেই} বলার পর রাসুল(ﷺ) তাদের উদ্দেশ্যে “ক্বাদ, ক্বাদ” (থামো থামো) বলতেন।[12]

মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ(ﷺ) সেখানে আবার খাঁটি একত্ববাদী হজের তালবিয়া চালু করেন। আগের তালবিয়ার ভুল জিনিসগুলো বাদ দেন, সঠিক জিনিসগুলো বহাল রাখেন।

ইসলামী তালবিয়াহ হল,

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ

অর্থাৎ – “আমি হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা, অনুগ্রহ ও সাম্রাজ্য সবই আপনার; আপনার কোনো শরীক নেই’[13]

আমরা দেখলাম যে, অংশী স্থাপন করলেও মক্কার মুশরিকরা তাদের অন্য দেবতাদেরকে আল্লাহর সমতুল্য মনে করতো না। আল্লাহর মর্যাদা তাদের নিকট সব থেকে উচ্চ ছিল। প্রাচীন আরবীয় সেই পৌত্তলিকদের নিকট আল্লাহ মহান স্রষ্টা হিসাবে বিবেচিত হতেন। এবং এই স্রষ্টার  মোটেও তাদের দৃষ্টিতে কোনো পার্থিব দেবতা ছিলেন না। তাদের নিকট দেবতারা ছিল পার্থিব এবং আল্লাহ তা’আলা এর ঊর্ধ্বে।

তিনরাসুলুল্লাহ(ﷺ) এর সময়ে সে অঞ্চলে যেসব দেব-দেবীর উপাসনা হতো, তার একদম বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে হিশাম ইবন কালবী(র.) এর ‘কিতাবুল আসনাম’ গ্রন্থে।[14] ৮ম শতাব্দীতে লিখিত এই বইতে সেই যুগে উপাসনা হওয়া দেব-দেবীর তালিকা আছে। এ সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপারে এটি একটি অন্যতম মূল সোর্স। এটি কিন্তু পুরো বইতে কোনো ‘আল্লাহ’র কোনো মূর্তির উল্লেখ নেই।

সিরাত ইবন হিশামেও সে সময়ে পুজিত দেব-দেবীর সবিশেষ উল্লেখ আছে। কিন্তু সেখানেও কোনো আল্লাহ’র মূর্তির উল্লেখ নেই।[15]

Oxford Islamic Studies এর ওয়েবসাইটেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে যেঃ আরবের পৌত্তলিকরা কখনো আল্লাহর মূর্তি বানায়নি।[16] কাজেই আল্লাহ যে আরব মুশরিকদের ৩৬০ দেবতার ১ জন দেবতা ছিলেন কিংবা মূর্তিসহকারে পুজিত হতেন – ইসলামের শত্রুদের এ জাতীয় কথা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

জাহিলিয়াতের যুগে আরবের পৌত্তলিকদের এই ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারটি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যাবে নিচের ঘটনাটি থেকে।

হুসাইন নামে এক বৃদ্ধ বেদুঈন একবার রাসুলুল্লাহর(ﷺ) কাছে এলো। নবী(ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কয়জনের “ইবাদাত করো, হুসাইন?” সে বললো, “৭ জনের। ৬জন পৃথিবীতে আর ১জন আসমানের উপর।”[17]নবী (ﷺ) তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কাকে ভয় করো?” সে বললো, “যিনি আসমানের উপর আছেন তাঁকে।” তিনি এবার জিজ্ঞেস করলেন, “হুসাইন, কার কাছে চাও তুমি?” সে বললো, “যিনি আসমানের উপর আছেন, তাঁর কাছে।” নবী (ﷺ) তখন বললেন, “তাহলে পৃথিবীতে যারা আছে তাদের বর্জন করে যিনি আসমানের উপর আছেন [আল্লাহ] কেবল তাঁর ইবাদাত করো।”

[রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা শুনে] হুসাইন ইসলাম গ্রহণ করলেন।[18]

এই পৌত্তলিক আরব আল্লাহতেও বিশ্বাস করছিল, আবার বিভিন্ন পৃথিবীর কাল্পনিক দেবদেবীতেও বিশ্বাস করছিল।

আল্লাহতে বিশ্বাসের সাথে সাথে তারা অংশী স্থাপন করতো। যে কথা উঠে এসেছে আল কুরআনের পাতায়:

وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِاللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ

অর্থ: তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁর সাথে শরীক করে।[19]

নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) মুশরিক আরবদের এইসব নব উদ্ভাবিত অংশীবাদী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বলেন, এবং আল্লাহর ওহীর দ্বারা বিশুদ্ধ ইব্রাহিমী একত্ববাদের দাওয়াত দেন। আল কুরআনে পৌত্তলিক সেসব সেসব দেব-দেবীকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। কেবলমাত্র এক-অদ্বিতীয় আল্লাহর উপাসনার দিকে আহ্বান করা হয়েছে। সেই বিশুদ্ধ ধর্মের দিকে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে যেই ধর্ম এক সময়ে প্রচার করেছিলেন তাদের পুর্বপুরুষ ইব্রাহিম (আ.)।

“আর যে নিজকে নির্বোধ বানিয়েছে, সে ছাড়া কে ইব্রাহিমের আদর্শ থেকে বিমুখ হতে পারে? আর অবশ্যই আমি তাকে দুনিয়াতে বেছে নিয়েছি এবং নিশ্চয় সে আখিরাতে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
যখন তাঁর প্রভু তাকে বললেন, ‘তুমি আত্মসমর্পণ কর’। সে বললো, ‘আমি সকল সৃষ্টির প্রভুর কাছে নিজকে সমর্পণ করলাম’। আর এরই উপদেশ দিয়েছে ইব্রাহিমতার সন্তানদেরকে এবং ইয়া’কুবও (যে,) ‘হে আমার সন্তানেরা, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে চয়ন করেছেন। সুতরাং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেয়ো না। যখন ইয়াকুবের মৃত্যু উপস্থিত হল তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে, যখন সে নিজ পুত্রদেরকে বলেছিলঃ আমার পরে তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদাত করবে? তারা বলেছিলঃ আমরা তোমার উপাস্যের এবং তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্য – সেই অদ্বিতীয় উপাস্যের ইবাদাত করবো এবং আমরা তাঁরই অনুগত থাকবো।”[20]

“ইব্রাহিম ইহুদি ছিল না এবং খ্রিষ্টানও ছিলনা, বরং সে হানিফ (একনিষ্ঠ) মুসলিম ছিল এবং সে মুশরিকদের (অংশীবাদী) অন্তর্ভুক্ত ছিল না। নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইব্রাহিমের সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে এবং এই নবী [মুহাম্মাদ(ﷺ)] ও মুমিনগণ। আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।”[21]

“এবং আল্লাহ বলেছেন: তোমরা দুই উপাস্য গ্রহণ করো না উপাস্য তো মাত্র একজনই। অতএব আমাকেই ভয় কর।”[22]

“সে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যে তার অপকার করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা।”[23]

“তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর পুজা করে, যার কোন সনদ নাজিল করা হয়নি এবং সে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। বস্তুত: জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।”[24]

“এবং যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদেরকে ডাকে, ওরা তো কোন বস্তুই সৃষ্টি করে না; বরং ওরা নিজেরাই সৃজিত। তারা মৃত-প্রাণহীন এবং কবে পুনরুত্থিত হবে জানে না।”[25]

“তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পুজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়ে শক্তিহীন।”[26]

“অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক উর্দ্ধে।”[27]

“বলো, তোমরা তাদেরকে আহ্বান করো, আল্লাহ ব্যতিত যাদেরকে উপাস্য মনে করতে, তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমাণ কোন কিছুর মালিক নয়, এতে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ আল্লাহর সহায়কও নয়।”[28]

“বলো, তোমরা কি তোমাদের সে শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ, যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা ডাকো? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও। না আসমান সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে, না আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যে, তারা তার দলিলের উপর কায়েম রয়েছে, বরং জালেমরা একে অপরকে কেবল প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।”[29]

 “…এবং যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করলো; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজী পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করলো।”[30]

“তারা তাঁর [আল্লাহর] পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছু্ই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনেরও তারা মালিক নয়।”[31]

“যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করে তদের উদাহরণ মাকড়সা। সে ঘর বানায়। আর সব ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরই তো অধিক দূর্বল, যদি তারা জানত।”[32]

“আর তোমরা তাঁকে(আল্লাহ) বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকো তারা না তোমাদের কোনো সাহায্য করতে পারবে, না নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।”[33]

“তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পুজা কর, সেগুলো জাহান্নামের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবো।”[34]

“তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পুজা করতে আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে? অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে অধোমুখী করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে। এবং ইবলিসের বাহিনীর সকলকে।”[35]

 “এবং সংগ্রাম কর আল্লাহর পথে যেভাবে সংগ্রাম করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনিত করেছেন। তিনি ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কঠোরতা আরোপ করেননি। এটা তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী স্বরূপ হয় এবং তোমরা স্বাক্ষী হও মানব জাতির জন্য। সুতরাং তোমরা সলাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে অবলম্বন কর; তিনিই তোমাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী তিনি!”[36]

সকালে ও সন্ধ্যায় যে সকল দুয়া-যিকিরের দ্বারা আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে:

أَصْبَحْنا / أَمْسَـينا عَلَى فِطْرَةِ الْإِسْلاَمِ، وَعَلَى كَلِمَةِ الْإِخْلاَصِ، وَعَلَى دِينِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ (ﷺ)، وَعَلَى مِلَّةِ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ، حَنِيفاً مُسْلِماً وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشرِكِينَ،

অর্থ: “আমরা সকালে / সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি ইসলামের ফিতরাতের উপর, নিষ্ঠাপূর্ণ বাণী (তাওহিদ) এর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর দ্বীনের উপর, আর আমাদের পিতা ইব্রাহিম(আ.) এর ধর্মাদর্শের উপর—যিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং যিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না”।[37]

এভাবে মুসলিমরা প্রতিদিন একত্ববাদের সাক্ষ্য দিচ্ছে, নিজেদেরকে ইব্রাহিম(আ.) এর সাথে সংশ্লিষ্ট করছে এবং পৌত্তলিকতা বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে। যারা ইসলামকে পৌত্তলিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত বানাতে চান, তারা প্রকৃত সত্যের সম্পূর্ণ উল্টো জিনিস ইসলামের উপর আরোপ করেন। ইসলাম মোটেও পৌত্তলিক (pagan) নয়, ইসলাম সম্পূর্ণরূপে ইব্রাহিমী (Abrahamic)। ইব্রাহিম(আ.) এবং আল্লাহর সকল নবী তো একই ধর্ম প্রচার করেছেন। আর তা হল ইসলাম।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকাতে ‘Allah’ শীর্ষক আর্টিকেলে বলা হয়েছে –

“The name’s origin can be traced to the earliest Semitic writings in which the word for god was il or el, the latter being used in the Hebrew Bible (Old Testament). Allah is the standard Arabic word for God and is used by Arabic-speaking Christians and Jews as well as by Muslims regardless of their native tongue.”[38]

অর্থাৎ, আল্লাহর নামের উৎস পাওয়া যেতে পারে প্রাচীন সেমিটিক লেখনীতে, যেখানে উপাস্যের জন্য ‘ইল’ অথবা ‘এল’ শব্দ ব্যবহার করা হতো। হিব্রু বাইবেল অর্থাৎ বাইবেলের পুরাতন নিয়ম (Old Testament) অংশে ‘এল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আরবিভাষী ইহুদি, খ্রিষ্টানদের নিকট স্রষ্টা বোঝানোর জন্য ‘আল্লাহ’ হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড শব্দ। আর যে কোনো ভাষাভাষী মুসলিমের জন্য এটি স্ট্যান্ডার্ড শব্দ।

চারআগেই আলোচনা করেছি যে, পৌত্তলিক আরবদের নিকটেও আল্লাহ কোনো পার্থিক দেবমূর্তির নাম ছিল না বরং সারা বিশ্বের স্রষ্টা এবং ইব্রাহিম(আ.) এর উপাস্য হিসাবে বিবেচিত হতেন। শুধু পৌত্তলিক আরবরাই নয়, আল্লাহর উপাসনা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দুই আব্রাহামিক ধর্মের অনুসারী ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যেও প্রচলিত ছিল। সেই প্রাচীন যুগ থেকে আজ পর্যন্ত আরবিভাষী ইহুদি, খ্রিষ্টান সকলেই স্রষ্টাকে ‘আল্লাহ’ বলে ডাকে। বর্তমানে ইরাক, সিরিয়া, মিসর, লেবানন – এসব দেশে লক্ষ লক্ষ আরবিভাষী খ্রিষ্টান বাস করে। তাদের ধর্মগ্রন্থ আরবি বাইবেলেও God এর স্থলে ‘আল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তারাও ইব্রাহিম(আ.) এর উপাস্য মহান সত্তাকে ‘আল্লাহ’ বলে ডাকে।[39]

‘আল্লাহ’ বলতে যে কোনো আরবি ভাষীই Abrahamic Godকে বোঝে। কোনো pagan godকে বা মূর্তিযুক্ত দেবতাকে বোঝে না। যদি ‘আল্লাহ’ বলতে কোনো প্যাগান দেবতাকেই বোঝানো হত, তাহলে অন্য আব্রহামিক ধর্মগুলোতেও এই নামটির ব্যবহার থাকতো না।

ইহুদি পণ্ডিত সাদিয়া গাওন কর্তৃক বাইবেলের ৯ম শতকের সুপ্রাচীন আরবি অনুবাদ থেকে স্ক্রীনশট দিচ্ছি। সেই অনুবাদের ১ম পৃষ্ঠায় [আদিপুস্তক (Genesis) ১ম অধ্যায়] ‘আল্লাহ’ নামের ব্যবহার দেখুন —

ধরা যাক একজন ব্যক্তি বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি একটি পাত্রে সংরক্ষণ করলো। কিছুদিন পর সেই পানিতে ময়লা মিশ্রিত হয়ে দূষিত হয়ে গেলো।

এরপর আরেকজন ব্যক্তি সেই পানিকে ফিল্টার করে এবং ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে আবার আগের জায়গায় নিয়ে আসলো। এখন কেউ যদি বলে, ঐ পানি খাওয়া যাবে না, কারণ ঐ পানি একসময় ময়লা ছিল। ঐ পানি সম্পূর্ণ ফেলে দিতে হবে! – তাহলে সেটি কি যৌক্তিক কথা হবে? মোটেও না। কারণ ঐ পানি একসময় ময়লা থাকলেও পরে সেটিকে ফিল্টার করে এবং ফুটিয়ে বিশুদ্ধ করে বিশুদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ঠিক যেমন ঐ পানি আদি অবস্থায় ছিল। পানিকে সম্পূর্ণ ফেলে না দিয়ে সেটিকে বিশুদ্ধ করাই যথেষ্ট।

একইভাবে, প্রাচীন আরবের পৌত্তলিকদের ইতিহাস বলে ইসলামের ভিত্তিকে পৌত্তলিক বলাও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা, আরব পৌত্তলিকদের ইতিহাসই মক্কার সর্বপ্রাচীন ইতিহাস না। তারা সব সময় পৌত্তলিক ছিল না। তারা আল্লাহর ধারণা ও একত্ববাদী ধর্ম পেয়েছিল ইব্রাহিম(আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাঈল(আ.) এর কাছ থেকে। কালক্রমে তাদের মাঝে পৌত্তলিকতা শুরু হয়। পরবর্তীতে নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) তাদের মাঝে আগমন করেন, তাদের মধ্যকার সব পৌত্তলিকতাকে দূর করে দিয়ে বিশুদ্ধ ইসলামী একত্ববাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ইসলাম আরব পৌত্তলিকদের আল্লাহতে বিশ্বাস বাতিল করে দেয়নি কেননা সেটা তো সঠিক বিশ্বাস। শুধুমাত্র আল্লাহর সাথে তারা যে শরীক করতো – সেগুলোকে বাতিল করেছে। আল্লাহ সম্পর্কে নবউদ্ভাবিত ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে বাতিল করেছে। আরবের ইহুদিরা উজাইরকে আল্লাহর পুত্র বলতো,[40] ইসলাম তাদের এই জিনিসটিকে বাতিল করেছে। তাদের আল্লাহ ও নবী-রাসুলে বিশ্বাসকে বাতিল করে দেয়নি। খ্রিষ্টানরা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করতো, ঈসা(আ.)কে আল্লাহর পুত্র বলতো। আল কুরআনে খ্রিষ্টানদের এই জিনিসগুলোকে বাতিল বলে অভিহিত করা হয়েছে। খ্রিষ্টানদের আল্লাহতে বিশ্বাস, পরকালে বিশ্বাস এর সবকিছুকে বাতিল করে দেয়া হয়নি।

এখানে সম্পূর্ণ আলোচনাকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর দ্বারা প্রকাশ করা যায়:

১। মক্কার মানুষেরা ইব্রাহিম(আ.) ও ইসমাঈল(আ.) এর মাধ্যমে একত্ববাদী ধর্মাদর্শ পেয়েছিল। তারা এক-অদ্বিতীয় আল্লাহর উপাসনা করতো। কালক্রমে তাদের সত্য ধর্মে বিভিন্ন নব উদ্ভাবন চালু হয়ে যায়। তাদের মাঝে মূর্তিপুজা শুরু হয় এবং তারা এক-আল্লাহর সাথে সাথে কিছু দেব মূর্তিরও উপাসনা করতে শুরু করে। আল্লাহর উপাসনা ছিল আদি বিশ্বাস, মূর্তিপুজা ছিল নব উদ্ভাবন।

। মুশরিক বা পৌত্তলিক আরবরা বিভিন্ন দুনিয়াবী দেবতার মূর্তির পুজা করত। তারা আল্লাহকে তারা কোনো দুনিয়াবী দেবতা মনে করতো না বরং মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও সব কিছুর মালিক মনে করতো। কা’বার নির্মাতা ইব্রাহিম(আ.) এর ইলাহ মনে করতো।

 মক্কার পৌত্তলিকরা আল্লাহর কোনো মূর্তি বানায়নি। আল্লাহ মোটেও নব উদ্ভাবিত ৩৬০ দেবতার এক দেবতা ছিলেন না।

৪। নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) আল্লাহর পক্ষে থেকে ওহী পেয়ে পুনরায় সেই আদি একত্ববাদী ধর্মাদর্শ (ইসলাম) প্রচার করতে শুরু করেন। এক আল্লাহর উপাসনা করতে আহ্বান জানান এবং সকল প্রকার মূর্তিপুজা ও পৌত্তলিকতা ত্যাগ করতে বলেন। আল কুরআনে বারংবার মুশরিকদের পৌত্তলিকতার অসারতা বর্ণনা করা হয়েছে ও নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

৫। আল্লাহর নির্দেশে নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) মুশরিকদের ধর্মের নব উদ্ভাবনগুলো অপসারিত করেন এবং আদি সঠিক জিনিসগুলোকে বহাল রাখেন। এক আল্লাহর উপাসনা, হজের ইব্রাহিমী রীতি – এগুলো সেই আদি একত্ববাদী ধর্মাদর্শের অংশ ছিল। সেগুলো নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর শরিয়তে বহাল থাকে।

৬। আরব মুশরিকদের পৌত্তলিকতার সাথে ইসলাম একমত হয়নি, তাদের নব উদ্ভাবন মিশ্রিত স্রষ্টার ধারণাকে ইসলাম গ্রহণ করেনি। কুরআনে পুনর্বার তাদের পৌত্তলিকতাকে নাকচ করা হয়েছে। সেখানে এক অদ্বিতীয় আল্লাহর উপাসনা করতে বলা হয়েছে এবং ইব্রাহিমী ধর্মাদর্শে প্রত্যাবর্তন করতে বলা হয়েছে। কাজেই আরব পৌত্তলিকরা জাহেলী যুগে যতই দেব-দেবীর উপাসনা করুক – তা দিয়ে ইসলামের উৎসকে পৌত্তলিক বলার উপায় নেই। কেননা ইসলামে স্পষ্টভাবে তাদের পৌত্তলিকতাকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে।

( 1 )   قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ

( 2 )   لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ

অর্থ: বলো, হে কাফিরেরা, আমি আমি তার ইবাদাত করি না যার ইবাদাত তোমরা করো।[41]

তথ্যসূত্র ও গ্রন্থাবলি

[1]. ■ “…The blessed name “Allaah” is derived from the Arabic verb alaha/yalahu/malooh [the root of which is the three letters alif, laam, haa]. This verb includes the meaning of love as well as worship. Allaah, may He be glorified and exalted, is the One Who is loved, glorified and feared by the believers, and they put their hope in Him.”

From: “Doubts of one who is interested in Islam – IslamQA (Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)”

https://islamqa.info/en/1930/

■ ‘মুখতারুস সিহাহ’ – যাইনুদ্দিন ইবন আবি বাকর আর রাজি আল হানাফী, ১/২০

[2]. Edward William Lane, An Arabic-English Lexicon (London: Willams & Norgate, 1863), under the entry “Allah”

[3]. ■ The Comprehensive Aramaic Lexicon – Entry for ʼlh

■ “Allah – Wikipedia”

https://en.wikipedia.org/wiki/Allah#Etymology

[4]. আর রাহিকুল মাখতুম’ – শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] পৃষ্ঠা ৫৫

[5]. আর রাহিকুল মাখতুম’ – শফিউর রহমান মুবারকপুরী(র.) [তাওহীদ পাবলিকেশন্স] পৃষ্ঠা ৬২

[6]. আল কুরআন, যুখরুফ ৪৩ : ৮৭

[7]. আল কুরআন, যুমার ৩৯ : ৩৮

[8]. আল কুরআন, নাজম ৫৩ : ১৯-২৩

[9]. আল কুরআন, কাহফ ১৮ : ১-৫

[10]. আল কুরআন, মারইয়াম ১৯ : ৮৮-৯৫

[11]. আল কুরআন, যুমার ৩৯ : ১-৫

[12]. সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ১১৮৫ ; মিশকাত, হাদিস নং : ২৫৫৪

[13]. সহীহ বুখারী, হাদিস নং : ৫৯১৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৮৬৮

[14]. এখান থেকে বইটি পড়া ও ডাউনলোড করা যাবেঃhttps://archive.org/details/KitabAlAsnam]

[15]. সীরাতুন নবী(সা) – ইবন হিশাম [ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ], ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৭-১১২

[16]. “Allah – Oxford Islamic Studies Online”

http://www.oxfordislamicstudies.com/article/opr/t125/e128

[17].  সুরা মুলক ৬৭ : ১৬ তেও আল্লাহর ক্ষেত্রে فِي السَّمَاءِ এই শব্দগুলো রয়েছে। হাফিজ ইবন আব্দুল বার(র.) এর মতে, فِي السَّمَاءِ এর অর্থ “আসমানের উপরে”। অর্থাৎ আরশেরও উপরে [কেননা আরশ আসমানের উপরে; দেখুন আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ – ইবন কাসির(র.), ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫)]। যেমনটি আছে সুরা তাওবা ৯ : ২ তে – “সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে বিচরণ কর চার মাস…” এখানে فِي الْأَرْضِ দ্বারা ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরভাগ বোঝায়নি বরং পৃথিবীর উপরে বিচরণকে বুঝিয়েছে। ‘আত তামহিদ’ ৭/১৩০ দ্রষ্টব্য। কোনো কিছুই আল্লাহ তা’আলাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না।

فِي السَّمَاءِ এর আরো একটি অর্থ হতে পারে, আর তা হলঃ ‘উপরে’। কেননা আরবি ভাষায় ‘سماء’ দ্বারা ‘উপর’ও বোঝায়। বিস্তারিত দেখুনঃ “What is meant by saying “Allah is in heaven”  – islamqa (Shaykh Muhammad Saalih al Munajjid)”

https://islamqa.info/en/131956/

[18]. ■ لأنك الله رحلة إلى السماء السابعة (লি আন্নাকাল্লাহ) – আলি বিন জাবির আল ফাইফী, পৃষ্ঠা ১৬

■ আরো দেখুন, তিরমিযী, ৩৮২০-১২/৪৫২

[19]. আল কুরআন, ইউসুফ ১২ : ১০৬

[20]. আল কুরআন, বাকারাহ ২ : ১৩০-১৩৩

[21]. আল কুরআন, আলি ইমরান ৩ : ৬৭-৬৮

[22]. আল কুরআন, নাহল ১৬ : ৫১

[23]. আল কুরআন, হাজ্জ ২২ : ১২

[24]. আল কুরআন, হাজ্জ ২২ : ৭১

[25]. আল কুরআন, নাহল ১৬ : ২০-২১

[26]. আল কুরআন, হাজ্জ ২২ : ৭৩

[27]. আল কুরআন, নামল ২৭ : ৬৩

[28]. আল কুরআন, সাবা ৩৪ : ২২

[29]. আল কুরআন, ফাতির ৩৫ : ৪০

[30]. আল কুরআন, হাজ্জ ২২ : ৩১

[31]. আল কুরআন, ফুরকান ২৫ : ৩

[32]. আল কুরআন, আনকাবুত ২৯ : ৪১

[33]. আল কুরআন, আ’রাফ ৭ : ১৯৭

[34]. আল কুরআন, আম্বিয়া ২১ : ৯৮

[35]. আল কুরআন, শু’আরা ২৬ : ৯২-৯৫

[36]. আল কুরআন, হাজ্জ ২২ : ৭৮

[37]. হিসনুল মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ ৩/৪০৬, ৪০৭, নং ১৫৩৬০ ও নং ১৫৫৬৩; ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ৩৪। আরও দেখুন, সহীহুল জামে’ ৪/২০৯

[38]. “Allah – Encyclopædia Britannica”
https://www.britannica.com/topic/Allah

[39]. অনলাইন আরবি বাইবেল থেকে সহজেই চেক করে দেখা যেতে পারে।
https://www.wordproject.org/bibles/ar/

[40]. এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এই ওয়েবসাইটের “ইহুদিরা কি আসলেই উজাইর (Ezra)কে আল্লাহর পুত্র বলে বিশ্বাস করে?” শীর্ষক লেখায়

[41]. আল কুরআন, কাফিরুন ১০৯ : ১-২

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Loading Disqus Comments ...
IIRT Arabic Intensive