আল্লাহর সৃষ্টি এ পৃথিবীতে নানা উপকারী নিয়ামতের পাশাপাশি আছে বহু রোগ-ব্যাধি, অসুখ-বিসুখ। ইসলামবিরোধীরা দাবি করে যে, রোগ সংক্রমণ সম্পর্কে নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর হাদীসের বক্তব্য বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। এ দাবি প্রমাণের জন্য তারা কিছু হাদীস দেখায়। —

আনাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘‘রোগের সংক্রমণ ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। তবে শুভ লক্ষণ মানা আমার নিকট পছন্দনীয়।”

[লোকেরা] বললো, ‘‘শুভ লক্ষণ কী?’’

তিনি বললেন, ‘‘উত্তম বাক্য।’’ [1]

   আমরা দেখছি যে এ হাদীসে বলা হচ্ছে রোগের সংক্রমণ (عدوى) বলতে কিছু নেই। এটা দেখিয়ে অনেকে বলতে চায় – আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের জানায় জীবাণুর বিস্তারের দ্বারা এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে রোগের সংক্রমণ ঘটে; কাজেই হাদীসের বক্তব্য সঠিক নয়। যারা এরূপ বলে, তারা আসলে অর্ধেক সত্য উপস্থাপন করে। আমরা যদি এ সংক্রান্ত আরো হাদীস সামনে আনি তাহলে দেখবো যে, এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীতে রোগের জীবাণু ছড়ানো – এই প্রাকৃতিক নিয়মকে ইসলাম অস্বীকার করে না।

IIRT Arabic Intensive

আবু হুরাইরা (রা) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘‘সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। সফর মাসকেও অশুভ মনে করা যাবে না এবং পেঁচা সম্পর্কে যেসব কথা প্রচলিত রয়েছে (هَامَّةَ) তাও অবান্তর।’’ তখন এক বেদুঈন বললো, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারণ ভূমিতে থাকে, মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জংলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোনো একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়।’’ তিনি বললেন, ‘‘প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?’’

মা‘মার (রহ.) বলেন, যুহরী (রহ.) বলেছেন, অতঃপর এক ব্যক্তি আবূ হুরাইরা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, ‘‘রোগাক্রান্ত উটকে যেন সুস্থ উটের সাথে একত্রে পানি পানের জায়গায় না আনা হয়।’’ … [2]

“…কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকো।”[3]

   এক উট থেকে অন্য উটে রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া কুষ্ঠ রোগীর নিকটে গেলে এর জীবাণু সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা খুবই বেশি থাকে।[4] উপরের হাদীসগুলোতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই” বলবার সাথে সাথে এটাও বলা হচ্ছে যে, রোগাক্রান্ত উটকে যেন সুস্থ উটের কাছে না আনা হয় এবং কুষ্ঠ রোগীর থেকে যেন দূরত্ব বজায় রাখা হয়। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, রোগের জীবাণু সংক্রমিত হবার প্রাকৃতিক এ প্রক্রিয়া হাদীসে উপেক্ষিত হয়নি। এ প্রক্রিয়া যদি হাদীসে অস্বীকারই করা হতো, তাহলে নবী (ﷺ) কেন কুষ্ঠ রোগীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বললেন? আর কেনই বা রোগাক্রান্ত উটকে সুস্থ উটের কাছে আনতে নিষেধ করলেন?

   আমরা আরো একটি হাদীস দেখতে পারি—

“যখন তোমরা কোনো অঞ্চলে প্লেগের বিস্তারের সংবাদ শোনো, তখন সেই এলাকায় প্রবেশ করো না। আর তোমরা যেখানে অবস্থান কর, সেখানে প্লেগের বিস্তার ঘটলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।” [5]

   কতই না উত্তম ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। মহামারী আক্রান্ত অঞ্চল থেকে রোগীরা যদি বেরিয়ে না যায় এবং সে অঞ্চলে যদি বাইরে থেকে লোক না আসে, তাহলে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে যাবার সুযোগ অনেক কমে যায়। এটা দেখে কি আদৌ মনে হচ্ছে যে, হাদীসে রোগের জীবাণু ছড়িয়ে যাবার প্রাকৃতিক নিয়মকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে?

   এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে –তাহলে হাদীসে কেন এ কথা বলা হলো “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই”? এর উত্তর হাদীসের মূল বক্তব্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে।

   পূর্বে উল্লেখিত সুনান আবু দাউদ ৩৯১১ নং হাদীসে সাহাবীগণ যখন এক উটের সংস্পর্শে অন্য উটের রোগাক্রান্ত হবার ঘটনার কথা উল্লেখ করলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেন,

“প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?”

   অর্থাৎ এই রোগের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ। যখন কেউ রোগাক্রান্ত ছিলো না, তখন এই রোগ তিনি সৃষ্টি করেছেন। প্রথম রোগাক্রান্ত প্রাণী তো কারো নিকট থেকে সংক্রমণের শিকার হয়নি। রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয় বটে, কিন্তু জীবাণু সংক্রমিত হওয়া মানেই রোগ সংক্রমিত হওয়া না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সুস্থ রাখেন, যাকে ইচ্ছা রোগাক্রান্ত করেন। যদি আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি না থাকে, তাহলে জীবাণু সংক্রমিত হলেও রোগ হয় না। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত জীবাণুর সংক্রমিত হবারও যেমন সামর্থ্য নেই, আবার সংক্রমিত হয়েও কারো দেহে রোগ সৃষ্টি করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি তাকদিরের সাথে সম্পর্কিত।[6] সাধারণ পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিও এটাই বলে যে – জীবাণু সংক্রমিত হওয়া মানেই রোগ সংক্রমিত হওয়া না। জীবাণু সংক্রমিত হলেও অনেক সময়েই মানুষ রোগাক্রান্ত হয় না। যেমন: বসন্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকলে কেউ কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়, আবার কেউ কেউ আক্রান্ত হয় না।

   এ প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন (র) বলেছেন:

“….সুতরাং যদি জানা যায় যেকোনো বস্তু সংঘটিত হওয়াতে সঠিক কারণ রয়েছেতাহলে তাকে কারণ হিসাবে বিশ্বাস করা বৈধ। কিন্তু নিছক ধারণা করে কোনো ঘটনায় অন্য বস্তুর প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কোনো বস্তু নিজে নিজেই অন্য ঘটনার কারণ হতে পারে না। ছোঁয়াচে রোগের অস্তিত্ব রয়েছে। নবী () বলেছেন, ‘অসুস্থ উটের মালিক যেন সুস্থ উটের মালিকের উটের কাছে অসুস্থ উটগুলো নিয়ে না যায়।’ সুস্থ উটগুলো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ভয়ে নবী () এ রকম বলেছেন।

নবী () আরো বলেন: ‘সিংহের ভয়ে তুমি যেমন পলায়ন করকুষ্ঠ রোগী দেখেও তুমি সেভাবে পলায়ন কর।’ আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে নবী () কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। এখানে রোগের চলমান শক্তির কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে রোগ নিজস্ব ক্ষমতাবলে অন্যজনের কাছে চলে যায়, তা অনিবার্য নয়। নবী () সতর্কতা অবলম্বনের আদেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন:

তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। [সূরাহ আল-বাক্বারাহ (২):১৯৫]

এটা বলা যাবে না যেনবী () রোগের সংক্রমণ হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। কেননা বাস্তব অবস্থা ও অন্যান্য হাদীসের মাধ্যমে এ রকম ধারণাকে খণ্ডন করা হয়েছে।

যদি বলা হয় যে— নবী () যখন বললেন, ‘রোগ সংক্রমিত হয় না,’ তখন একজন লোক বললো, ‘হে আল্লাহর রাসূল ()! মরুভূমিতে সম্পূর্ণ সুস্থ উট বিচরণ করে। উটগুলোর কাছে যখন একটি খুজ্‌লিযুক্ত উট আসেতখন সব উটই খুজ্‌লিযুক্ত হয়ে যায়।’ তিনি বললেন, ‘প্রথম উটটিকে কে খুজ্‌লিযুক্ত করলো?’

উত্তর হলো:— নবী () এর উক্তি ‘প্রথমটিকে কে খুজলিযুক্ত করলো?’ এর মাধ্যমেই জবাব দিয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছাতেই রোগের জীবাণু অসুস্থ ব্যক্তির নিকট থেকে সুস্থ ব্যক্তির নিকট গমন করে থাকে। তাই আমরা বলবো যেপ্রথম উটের উপরে সংক্রামক ব্যতীত আল্লাহর ইচ্ছাতেই রোগ নাযিল হয়েছে। কোনো ঘটনার পিছনে কখনো প্রকাশ্য কারণ থাকে। আবার কখনো প্রকাশ্য কোনো কারণ থাকে না। প্রথম উট খুজ্‌লিযুক্ত হওয়ার পিছনে আল্লাহর নির্ধারণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণ পাওয়া যাচ্ছে না। দ্বিতীয় উট খুজ্‌লিযুক্ত হওয়ার কারণ যদিও জানা যাচ্ছেতথাপি আল্লাহ চাইলে খুজ্‌লিযুক্ত হতো না। তাই কখনো খুজলিতে আক্রান্ত হয় এবং পরবর্তীতে ভা্লোও হয়ে যায়। আবার কখনো মারাও যায়। এমনিভাবে প্লেগকলেরা এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রেও একই কথা। একই ঘরের কয়েকজন আক্রান্ত হয়। কেউ মারা যায় আবার কেউ রেহাই পেয়ে যায়। মানুষের উচিৎ আল্লাহর উপর ভরসা করা। বর্ণিত আছে যে, ‘একজন কুষ্ঠ রোগী লোক নবী () এর কাছে আসলো। তিনি তার হাত ধরে বললেনআমার সাথে খাও।’ আল্লাহর উপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস ও ভরসা থাকার কারণেই তিনি তাকে খানায় শরীক করেছিলেন। …” [7]

   এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) যে যুগের মানুষ ছিলেন, সে যুগে পুরো পৃথিবী ছিলো কুসংস্কারাচ্ছন্ন। বিভিন্ন প্রকার কুলক্ষণ, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস সে যুগে প্রচলিত ছিলো। জাহেলী যুগে আরবরা হাম্মাহ (هَامَّةَ) বলতে কুসংস্কারপূর্ণ বিশ্বাসকে বুঝে থাকতো। তাদের ধারণামতে ‘হাম্মাহ’ ছিলো হুতুম পেঁচা, যা গভীর রাতে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার পরিবারের লোকদেরকে ডাকাডাকি করে এবং প্রতিশোধ নেয়ার উৎসাহ দেয়। তাদের কেউ কেউ ধারণা করতো যে, নিহত ব্যক্তির আত্মা পাখির আকৃতি ধরে উপস্থিত হয়েছে। তৎকালীন আরবরা এ পাখির ডাককে কুলক্ষণ মনে করতো। কারো ঘরের পাশে এসে এ পাখি ডাকলে তারা বিশ্বাস করতো যে, সে মৃত্যু বরণ করবে।  আরবরা সফর মাসকে অপয়া মাস মনে করতো। কোনো জিনিস দেখে, কোনো কথা শুনে বা জানার মাধ্যমে কুলক্ষণ মনে করাকে ‘ত্বিয়ারাহ’ (طِيَرَةَ) বলা হয়। নবী (ﷺ) এর যুগে এই সমস্ত ভ্রান্ত জিনিস আরবরা বিশ্বাস করতো।[8] যে হাদীসগুলো দেখিয়ে ইসলামবিরোধীরা বলতে চায় যে এগুলোতে ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে ‘ভুল’(!) তথ্য আছে, সেই হাদীসগুলোতেই প্রাচীন আরবদের এই সমস্ত কুসংস্কারের অপনোদন করা হয়েছে। ভুল তথ্য থাকা তো অনেক দূরের কথা, এই হাদীসগুলোতে কুসংস্কারের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। এমনকি কুলক্ষণ বিশ্বাস করার মতো জিনিসকে ইসলামে শির্ক বলে অভিহিত করা হয়েছে।[9] কিন্তু যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, তাদের অন্তর এই হাদীসগুলো থেকে শুধু ভুল(!)ই খুঁজে বের করে।

   অতএব হাদীসের বক্তব্য থেকে যারা ভুল বের করার চেষ্টা করে, তাদের উদ্যেশ্য আবারও ব্যর্থ হলো। ‘ছোঁয়াচে রোগ’ তো তাদের অন্তরে, যা তারা তাদের অপ্রপচারের দ্বারা মানুষের ভেতর ছড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সফলকাম করেন, আর যাকে ইচ্ছা ব্যর্থ করে দেন।

তথ্যসূত্র

[1]  সহীহ বুখারী ৫৭৭৬, সহীহ মুসলিম ৫৯৩৩-৫৯৩৪

[2]  সুনান আবু দাউদ ৩৯১১

[3]  সহীহ বুখারী ৫৭০৭

[4]  Park’s preventive and social medicine by K. Park; Page 316;

স্ক্রীনশট: https://goo.gl/P4RuRS

[5]  সহীহ বুখারী ৫৭২৮

[6]  তাকদির প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য এই প্রবন্ধটি পড়ুন

[7]   ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম — শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন(র), পৃষ্ঠা ১১৪-১১৬

[8]  “What did the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) mean by “No contagion (‘adwa)”?” — islamQA(Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid)
https://islamqa.info/en/45694

[9]  আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘‘কিছুকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা শির্ক। কিছুকে অপয়া মনে করা শির্ক, কিছুকে কুলক্ষণ মনে করা শির্ক। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার মনে কুধারণা জন্মে না। তবে আল্লাহ (তাঁরই উপর) তাওয়াক্কুলের (ভরসার) ফলে তা (আমাদের হৃদয় থেকে) দূর করে দেন।’’ [মুসনাদ আহমাদ ১/৩৮৯, ৪৪০, সুনান আবু দাউদ ৩৯১২, তিরমিজী, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান, হাকিম প্রমুখ, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪৩০]

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive