মহান আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন,

وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ

আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর। [সূরাহ আয-যারিআত (৫১): ৪৯]

এই জোড়া সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো, যেন একে অপরের সঙ্গ দ্বারা নিরাপত্তা, দয়া, সম্প্রীতি ও প্রশান্তি লাভ করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন,

IIRT Arabic Intensive

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِّتَسْكُنُوْا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাকো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া দান করেন। [সূরাহ আর-রূম (৩০): ২১]

তবে এই জোড়ায় জোড়ায় থাকার কিছু নিয়ম আছে। ইচ্ছামতো যার-তার সাথে যখন-তখন জোড়া বাঁধলে হবে না। যতই ভালোবাসা থাকুক, যতই কেয়ারিং শেয়ারিং থাকুক, ইচ্ছেমতো জোড়া বাঁধলে একই কাজ জান্নাতের বদলে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। ইসলামে জোড়া বাঁধার পদ্ধতির নাম হলো নিকাহ বা বিবাহ।

মানব জীবনের মহা গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যায়ের সাথে সম্পর্কিত কিছু আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করার চেষ্টা করবো।

১. বিবাহের হুকুম

ইসলামী বিধিবিধানে ব্যক্তির অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী বিবাহ করা ওয়াজিব, মুস্তাহাব বা হারাম হতে পারে। যেমন, যার শারীরিক শক্তিমত্তা, সক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এবং যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার ও পদস্খলনের আশংকা করে, তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব। মহান আল্লাহ এদেরকে বিবাহ করিয়ে দিতে প্রত্যেক অভিভাবককে নির্দেশ দিয়ে বলেন,

وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِيْنَ مِنْ عِبَادِكُمْ

তোমাদের মধ্যে যারা স্বামীহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। [সূরাহ আন-নূর (২৪): ৩২]

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ-

হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিবাহ করা কর্তব্য। কেননা বিবাহ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন সিয়াম পালন  করে। কারণ সিয়াম হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম।

যার শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে এবং নিজেকে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ রাখার ক্ষমতা আছে, তার জন্য বিবাহ করা মুস্তাহাব। তবে একাকী জীবনযাপনের চেয়ে বিবাহ করা উত্তম। কারণ ইসলামে সন্ন্যাসব্রত বা বৈরাগ্য নেই। সা‘আদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন,

رَدَّ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُوْنٍ التَّبَتُّلَ، وَلَوْ أَذِنَ لَهُ لاَخْتَصَيْنَا

রাসূল ﷺ উসমান ইবনু মাযঊনকে নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের অনুমতি দেননি। তাকে অনুমতি দিলে আমরা নির্বীর্য হয়ে যেতাম।

আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) বলেন,

নিশ্চয়ই রাসূল ﷺ নিঃসঙ্গ জীবন যাপনকে নিষেধ করেছেন।

রাসূলের ﷺ স্ত্রীদের নিকট আগত তিন ব্যক্তির এক ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদাত করার স্বার্থে বিবাহ না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাসূল ﷺ বলেছেন,

وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِىْ فَلَيْسَ مِنِّىْ

আমি নারীদেরকে বিবাহ করি (সুতরাং বিবাহ করা আমার সুন্নাত)। অতএব যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।

অপরদিকে যার দৈহিক মিলনের সক্ষমতা ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই, তার জন্য বিবাহ করা উচিত নয়। মহান আল্লাহ বলেন,

وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحاً حَتَّى يُغْنِيَهُمْ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ

যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে। [সূরাহ আন-নূর (২৪): ৩৩]

তবে এখানে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সংজ্ঞাটা পরিষ্কার হওয়া উচিত। সামর্থ্য বলতে ন্যূনতম ভরণ-পোষণ বোঝায়। দামী গাড়ি কিংবা প্রশস্ত বাড়ি অথবা আয়েশী ভুড়িভোজ অর্জনের ক্ষমতাকে সামর্থ্য বলা হবে না। আবার অনেকে দারিদ্র্যের জন্য স্ত্রী-সন্তান লালন-পালন না করতে পারার ভয়ে বিবাহ করে না। অথচ আল্লাহ বিবাহের কারণে দরিদ্রকে সম্পদশালী করে থাকেন। আল্লাহ বলেন,

إِنْ يَكُوْنُوْا فُقَرَاء يُغْنِهِمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ

যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে সম্পদশালী করে দিবেন [সূরাহ আন-নূর (২৪):৩২]

আবু হুরায়রাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,

তিন শ্রেণীর লোকের উপর আল্লাহর সাহায্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে- (১) যে দাস নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে চায়। (২) যে লোক বিবাহ করে নিজের নৈতিক পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়। (৩) যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে যেতে চায়।

২. বিবাহ না করলে কী হবে?

স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে বিবাহ না করার অনেক অপকারিতা রয়েছে। প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদ আল্লামা নাফীসী বলেছেন,

শুক্র প্রবল হয়ে পড়লে অনেক সময় তা অত্যন্ত বিষাক্ত প্রকৃতি ধারণ করে। মন ও মগজের দিকে তা এক প্রকার অত্যন্ত খারাপ বিষাক্ত বাষ্প উত্থিত করে, যার ফলে বেহুঁশ হয়ে পড়া বা মৃগী রোগ প্রভৃতি ধরনের ব্যাধি সৃষ্টি হয়।

শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দীস দেহলভী স্বীয় বিখ্যাত গ্রন্থ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহতে বলেছেন,

জেনে রাখো, শুক্রের প্রজনন ক্ষমতা যখন দেহে খুব বেশি হয়ে যায়, তখন তা বের হতে না পারলে মগজে তার বাষ্প উত্থিত হয়।

ফলস্বরূপ, মানুষ অন্যায়ভাবে দৈহিক ও মানসিক চাহিদা পূরণে উদ্বুদ্ধ হয় এবং সমাজে অশ্লীলতা, ব্যভিচার, ধর্ষণ এবং পরকীয়ার মতো বিষাক্ত বিষয়গুলো ছড়িয়ে পড়ে।

৩. বোনাস ফজিলত

বিবাহ করা দ্বীনের পূর্ণতা অর্জনের পরিচায়ক। রাসূল ﷺ বলেন,

যখন কোনো ব্যক্তি বিবাহ করলো, তখন সে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করলো।

এছাড়াও তিনি বলেছেন,

وَفِىْ بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَيَأْتِى أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُوْنُ لَهُ فِيْهَا أَجْرٌ قَالَ أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِىْ حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيْهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِى الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ.

তোমাদের সবার স্ত্রীর যোনিতেও রয়েছে সাদাক্বা।

সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমাদের কেউ কি তার জৈবিক চাহিদা মেটাবে এবং এজন্য সে নেকী লাভ করবে?’’

তিনি বললেন,

তোমাদের কি মনে হয়, যদি সে ঐ চাহিদা হারাম উপায়ে মেটাতো, তাহলে তার কোনো গুনাহ হতো না? (অবশ্যই হতো)। অতএব সে যখন তা হালাল উপায়ে মেটায়, তার জন্য নেকী লেখা হয়।

৪. কাকে বিবাহ করবে?

মেয়ে পছন্দের ব্যাপারে রাসূল ﷺ বলেন,

تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِيْنِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّيْنِ تَرِبَتْ يَدَاكَ.

মেয়েদের চারটি গুণ বিবেচনা করে বিবাহ করা হয়; তার সম্পদ, তার বংশ মর্যাদা, তার রূপ ও সৌন্দর্য এবং তার দ্বীনদারী। কিন্তু তুমি দ্বীনদার মহিলাকেই প্রাধান্য দাও। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ছেলে পছন্দের ব্যাপারে রাসূল ﷺ বলেছেন,

إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوْهُ إِلاَّ تَفْعَلُوْا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِى الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيْضٌ

যখন তোমাদের নিকট কোনো বর বিবাহের প্রস্তাব দেয়, যার দ্বীনদারী ও চরিত্রকে পছন্দ কর, তাহলে তার সাথে বিবাহ সম্পন্ন কর। অন্যথায় জমিনে বড় বিপদ দেখা দিবে এবং সুদূরপ্রসারী বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে।

বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার আগে লক্ষ করতে হবে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে সমতা আছে কি-না। রাসূল ﷺ বলেন,

وَانْكِحُوا الأَكْفَاءَ وَأَنْكِحُوا إِلَيْهِمْ

তোমরা বিবাহের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং সমতা দেখে বিবাহ কর।

সম্পদ ও বংশ মর্যাদার সমতা হলে ভালো হয়, তবে জরুরী নয়। কিন্তু দ্বীনের বিষয়ে সমতা থাকা উচিত।

৫. পাত্র-পাত্রী দর্শন

বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রী পরস্পরকে দেখে নেওয়া উচিত। আল্লাহ বলেন,

فَانْكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاء

তোমরা বিবাহ কর সেই স্ত্রীলোক, যাদেরকে তোমাদের ভালো লাগে। [সূরাহ আন-নিসা (৪):৩]

মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, আমি জনৈকা নারীকে বিবাহের প্রস্তাব করলাম। রাসূল ﷺ আমাকে বললেন,

هَلْ نَظَرْت إلَيْهَا؟ قُلْتُ : لاَ، قَالَ فَانْظُرْ إلَيْهَا، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا.

তুমি কি তাকে দেখেছো?

আমি বললাম, ‘‘না।’’

তিনি বললেন,

তাকে দেখে নাও। কারণ এতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা জন্মাবে।

এমনকি পাত্র পাত্রী একে অপরকে লুকিয়েও দেখতে পারে, নবী ﷺ বলেন,

যখন তোমাদের কেউ কোনো রমণীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি প্রস্তাবের জন্যই তাকে দেখে, তবে তা দূষণীয় নয়; যদিও রমণী তা জানতে না পারে।

সাহাবী জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন,

আমি এক তরুণীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তাকে দেখার জন্য লুকিয়ে থাকতাম। শেষ পর্যন্ত আমি তার সেই সৌন্দর্য দেখলাম, যা আমাকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করলো। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।

৬. বিবাহের প্রস্তাব

বর অথবা কনে যেকোনো এক পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসতে পারে। এমনকি বর সরাসরি কনেকে অথবা কনে সরাসরি বরকেও প্রস্তাব দিতে পারে। ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত যে,

যখন উমারের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) কন্যা হাফসাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহা) খুনায়স ইবনু হুযাইফা সাহমীর মৃত্যুতে বিধবা হলেন, তিনি রাসূলুল্লাহর ﷺ একজন সাহাবী ছিলেন এবং মদীনায় ইন্তেকাল করেন। উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন, ‘‘আমি উসমান ইবনু আফফানের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) কাছে গেলাম এবং হাফসাহকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিলাম। তখন তিনি বললেন, ‘আমি এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করে দেখি।’ তারপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম। তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, ‘আমার কাছে এটা প্রকাশ পেয়েছে যে, এখন আমি যেন তাকে বিবাহ না করি।’ তারপর আমি আবু বকরের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, ‘যদি আপনি চান তাহলে আপনার সঙ্গে উমারের কন্যা হাফসাহকে বিবাহ দেই।’ আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) নীরব থাকলেন, প্রতি-উত্তরে আমাকে কিছুই বললেন না। এতে আমি উসমানের (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) চেয়ে অধিক অসন্তুষ্ট হলাম। এরপর আমি কয়েক রাত অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূল ﷺ হাফসাহকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠালেন এবং হাফসাহকে আমি তাঁর সঙ্গে বিবাহ দিলাম।’’

অন্য এক হাদীসে এসেছে, আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেন,

একজন মহিলা নবী করীমের ﷺ কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে এসে বললো, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ! আপনার কি আমার প্রয়োজন আছে?’

তবে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার পূর্বে লক্ষ করতে হবে যে, এই মহিলাকে অন্য কেউ বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে কি-না। যদি দিয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। নবী করীম ﷺ এক ভাই (ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) দর-দাম করলে অন্যকে দরদাম করতে নিষেধ করেছেন এবং এক মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেয় বা তাকে অনুমতি দেয়।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল ﷺ বলেছেন,

وَلاَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ، حَتَّى يَنْكِحَ أَوْ يَتْرُكَ.

কোনো ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না করে, যতক্ষণ না সে বিবাহ করে অথবা ছেড়ে দেয়।

৭. বিবাহের শর্তাবলী

(১) ছেলে মেয়ে উভয়ের সম্মতি

বিবাহের পূর্বে তাদের সম্মতি থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো ছেলে-মেয়েকে তার অসম্মতিতে বিবাহ করতে বাধ্য উচিত নয়। আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوْا النِّسَاءَ كَرْهاً ‘

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে। [সূরাহ আন-নিসা (৪):১৯]

নবী করীম ﷺ বলেছেন,

لاَ تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَكَيْفَ إِذْنُهَا؟ قَالَ أَنْ تَسْكُتَ.

বিবাহিতা মেয়েকে তার পরামর্শ ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না।

সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তার অনুমতি কীভাবে হবে?’’ উত্তরে তিনি বললেন,

চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে,

وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِىْ نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا

যুবতী-কুমারী মেয়ের বিবাহের ব্যাপারে পিতাকে তার অনুমতি নিতে হবে। আর তার অনুমতি হচ্ছে চুপ থাকা।

কুমারী মেয়ে বিবাহের প্রস্তাব শুনার পর চুপ থাকলে তার সম্মতি আছে বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্মতি নিতে হবে। রাসূল ﷺ বলেছেন,

বিধবা মেয়েরা নিজেদের ব্যাপারে ওয়ালীর থেকে অধিক হকদার।

এছাড়াও কোনো মেয়েকে অভিভাবক তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দিলে সে ইচ্ছা করলে বিবাহ বহাল রাখতে পারে, ইচ্ছা করলে বিবাহ ভঙ্গ করতে পারে।

(২) মেয়ের ওয়ালী থাকা

ছেলে-মেয়ের সম্মতির পাশাপাশি অভিভাবকের সম্মতিরও প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে মেয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি জরুরী। নবী করীম ﷺ বলেন,

لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ

অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।

তিনি আরো বলেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا فَإِنِ اشْتَجَرُوْا فَالسُّلْطَانُ وَلِىُّ مَنْ لاَ وَلِىَّ لَهُ-

যদি কোনো নারী তার ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে, তবে তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল। এইরূপ অবৈধ পন্থায় বিবাহিত নারীর সাথে সহবাস করলে তাকে মোহর দিতে হবে। কারণ স্বামী মোহরের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করেছে। যদি ওয়ালীগণ বিবাদ করেন, তবে যার ওয়ালী নেই তার ওয়ালী দেশের শাসক।

ছেলে-মেয়েকে লালন-পালনের পাশাপাশি অভিভাবকের অন্যতম দায়িত্ব হলো যোগ্য স্থানে বিবাহের ব্যবস্থা করা। অভিভাবক হলো প্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিসম্পন্ন নিকটাত্মীয়-স্বজন। যেমন- পিতা, দাদা, ভাই, চাচা ইত্যাদি। তবে পিতার উপস্থিতিতে অন্য কেউ ওয়ালী হতে পারবে না। অপর দিক কোনো মহিলাও ওয়ালী হতে পারে না। রাসূল ﷺ বলেন,

لاَ تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلاَ تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِىَ الَّتِى تُزَوِّجُ نَفْسَهَا

কোনো নারী কোনো নারীর বিবাহ দিতে পারে না এবং কোনো নারী নিজে বিবাহ করতে পারে না। কোনো নারী নিজেই বিবাহ করলে সে ব্যভিচারী বলে গণ্য হবে।

অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ জনৈকা মহিলার অনুমতিবিহীন বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করেন।

তবে বিবাহের ক্ষেত্রে ‘‘অভিভাবক’’ সম্পর্কিত কয়েকটা কমন অপ্রত্যাশিত সিচুয়েশন আছে। যেমন,

১) মেয়েকে অভিভাবক এমন কোনো ছেলের সাথে বিবাহ দিতে চায়, যে দ্বীনদার না। অথচ মেয়ে দ্বীনদার ছেলে ছাড়া বিবাহে রাজি নয়।

২) মেয়ের অভিভাবক রাজি না অথচ ছেলে মেয়ে উভয়ে ধার্মিক ও একে অপরের সাথে বিবাহে রাজি।

৩) অভিভাবকগণ, ছেলে মেয়ে সবাই রাজি কিন্তু বিবাহটা বছর দুই পরে হতে হবে এবং এক্ষেত্রে শরয়ী কোনো ভালো কারণ নেই।

এসব ক্ষেত্রে অভিভাবকের কর্তৃত্ব কতটুকু?

১। পাত্র পাত্রীর অনুমতি ছাড়া জোর করে বিবাহ দেওয়া যাবে না, বিবাহের পূর্বে তাদের সম্মতি থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো ছেলে-মেয়েকে তার অসম্মতিতে বিবাহ করতে বাধ্য করা উচিত নয়। মহান আল্লাহ বলেন,

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে। [সূরাহ আন-নিসা (৪):১৯]

নবী ﷺ বলেছেন,

বিবাহিতা মেয়েকে তার পরামর্শ ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না।

সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘তার অনুমতি কীভাবে হবে?’’ উত্তরে তিনি বললেন,

চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি।

কুমারী মেয়ে বিবাহের প্রস্তাব শুনার পর চুপ থাকলে তার সম্মতি আছে বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু বিধবা মহিলার ক্ষেত্রে সরাসরি সম্মতি নিতে হবে। নবী ﷺ বলেছেন,

বিধবা মেয়েরা নিজেদের ব্যাপারে ওয়ালীর থেকে অধিক হকদার।

এছাড়াও কোনো মেয়েকে অভিভাবক তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দিলে সে ইচ্ছা করলে বিবাহ বহাল রাখতে পারে, ইচ্ছা করলে বিবাহ ভঙ্গ করতে পারে।

২। কিছু ক্ষেত্রে অভিভাবক ‘‘বাধাদানকারী’’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেক্ষেত্রে তার সম্মতি প্রযোজ্য হবে না। মেয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি জরুরী। নবী ﷺ বলেন,

অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।

তিনি আরো বলেন,

যদি কোনো নারী তার ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে, তবে তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল। এইরূপ অবৈধ পন্থায় বিবাহিত নারীর সাথে সহবাস করলে তাকে মোহর দিতে হবে। কারণ স্বামী মোহরের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকে ব্যবহার করেছে। যদি ওয়ালীগণ বিবাদ করেন, তবে যার ওয়ালী নেই তার ওয়ালী দেশের শাসক।

তবে ওয়ালী হওয়ার জন্য অভিভাবককে উপযুক্ত হতে হবে। অর্থাৎ বিবাহের জন্য কুফূ বা তার কন্যার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন বা সমকক্ষ পাত্র নির্বাচন করার জ্ঞান থাকা ও বিবাহের কল্যাণ-অকল্যাণের বিষয়সমূহ অনুধাবন জ্ঞান থাকতে হবে। অভিভাবকের অধীনস্থ মেয়ে যদি নির্দিষ্টভাবে কোনো যুবককে পছন্দ করে এবং পাত্রও উপযুক্ত হয়, তখন যদি অভিভাবক তার সাথে বিবাহ দিতে (শরীয়ত সম্মত) কোনো কারণ ছাড়াই বা দুর্বল যুক্তিতে (যেমন, লেখাপড়া শেষ করা ইত্যাদি) অস্বীকার করে, তাহলে সে বাধাপ্রদানকারী হবে। (আল মাওসুয়া আল ফিকহিয়্যা, ৩৪/২৬৫)

অভিভাবক যদি বিবাহের প্রস্তাবকারীদের উপর অহেতুক কঠিন শর্ত আরোপ করে, যা শুনলেই তারা পলায়ন করবে এবং তা পূর্ণ করা অনেক সময় অসাধ্য হয়ে যায়, তখন সে বাধাপ্রদানকারী গণ্য হবে। (ইবনে তাইমিয়া, কিতাবুল ইনসাফ, ৮/৭৫)

শাইখ ইবনে জাবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রস্তাবকারীর উপর কঠোরতা আরোপ করা, অথবা অপ্রয়োজনীয় অত্যধিক শর্তারোপ করা, অথবা উপযুক্ত পাত্রকে প্রত্যাখ্যান করা, অথবা অতিরিক্ত মোহর চাওয়া। অভিভাবক যদি এরূপ করে, তবে সে বাধাপ্রদানকারী গণ্য হবে এবং সে হবে ফাসিক। তখন তার অভিভাবকত্ব বাতিল হয়ে যাবে। উল্লেখিত যেকোনো কারণে যদি অভিভাবকত্ব হারায়, তবে অভিভাবকত্ব পরবর্তী নিকটতম ব্যক্তির নিকট স্থানান্তরিত হবে। যেমন দাদা, তারপর ভাই, তারপর চাচা ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত যদি কেউ না থাকে, তবে দেশের মুসলিম শাসক বা তার প্রতিনিধি বা গভর্নর বা মুসলিম কাজী ঐ নারীর অভিভাবক হিসেবে গণ্য হবে। (মুগনী, ৭/৩৪৬)

(৩) দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষী থাকা

বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ন্যায়পরায়ণ ঈমানদার দু’জন সাক্ষী থাকবে। সাক্ষীগণ মোহরের পরিমাণ ও বরের স্বীকারোক্তি নিজ কানে শুনবেন। আল্লাহ বলেন,

فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوْهُنَّ بِمَعْرُوْفٍ أَوْ فَارِقُوْهُنَّ بِمَعْرُوْفٍ وَأَشْهِدُوْا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنكُمْ-

যখন তারা ইদ্দতে পৌঁছে যায়, তখন যথাবিধি তাদেরকে রেখে দিবে, নতুবা তাদেরকে যথাবিধি বিচ্ছিন্ন করে দিবে এবং তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে। [সূরাহ আত-তালাক্ব (৬৫):২]

সাক্ষীগণ পুরুষই হতে হবে। একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা কিংবা চারজন মহিলা হলেও চলবে না।

কেননা রাসূল ﷺ বলেছেন,

لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِىٍّ وَشَاهِدَىْ عَدْلٍ

বিবাহ সংঘটিত হবে না অভিভাবক ও দু’জন সাক্ষী ব্যতীত।

৮. বিবাহের রুকন

বিবাহের দু’টি রুকন হলো ঈজাব ও কবূল। মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا

হে ঈমানদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহণ করা তোমাদের জন্যে হালাল নয়।

৯. বিবাহের খুতবা

আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল ﷺ আমাদেরকে বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনে পাঠের জন্য খুৎবা শিক্ষা দিয়েছেন। যা হলো,

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, এবং তাঁর নিকটই ক্ষমা প্রার্থনা করি। এবং তাঁর নিকট অন্তরের কুমন্ত্রণা থেকে পানাহ্ চাই। যাকে আল্লাহ্ পথ প্রদর্শন করেন, তাকে গোমরাহ্ করার কেউ নেই। আর আল্লাহ্ যাকে গোমরাহ্ করেন, তাকে পথ প্রদর্শনের কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাকো এবং আত্মীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন। [সূরাহ আন-নিসা (৪): ১]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ, ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাকো। এবং অবশ্যই মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। [সূরাহ আলে ইমরান (৩): ১০২]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলো, (তাহলে আল্লাহ্) তোমাদের কর্ম সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, অবশ্যই সে বিরাট সাফল্য লাভ করবে। [সূরাহ আল-আহযাব (৩৩): ৭০-৭১]

১০. নব বিবাহিতের জন্য দু’আ

بَارَكَ اللهُ لَكَ وَ بَارَكَ اللهُ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ.

অর্থ: আল্লাহ পাক তোমাকে বরকতপূর্ণ করুন এবং তোমার উপর বরকত অবতীর্ণ করুন এবং তোমাদের পরস্পরের মিলনকে মঙ্গল করুন।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive