কোরআনে কুফর শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেসব লোকদের ইঙ্গিত করতে যারা সত্যকে ধামাচাপা দেয় বা গোপন করে। কোরআনে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেসব লোকদের চিহ্নিত করতেও যারা আল্লাহর প্রভুত্ব এবং কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করার মাধ্যমে তার অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। সুতরাং কুফর বা অবিশ্বাস হলো ঈমানের বিপরীত এবং কাফির হলো একজন অবিশ্বাসী। এই ধরণের কুফরকে বলা হয় আল-কুফর-আল-আকবার বা বড় কুফর। কুফর আল আকবার অনেক ধরণের রয়েছে। এগুলো হলো:

১. কুফর উল ইনাদ: জিদের বশবর্তী হয়ে অবিশ্বাস। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সত্যকে জানে এবং জানার কথা মুখ দিয়ে স্বীকারও করে, কিন্তু সেটিকে মানতে আস্বীকার করে এবং ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “জাহান্নামে নিক্ষেপ করো প্রত্যেক অহংকারী অবিশ্বাসীকে।” [সুরা কাফ (৫০): ২৪]

IIRT Arabic Intensive

২. কুফর উল ইনকার: অগ্রাহ্যতার দরুন অবিশ্বাস। এটি সেসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা অন্তর এবং জবান উভয়ের মাধ্যমে অস্বীকার করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “তারা আল্লাহর অনুগ্রহকে চিনে, তবুও সেগুলোকে অগ্রাহ্য করে। তাদের অধিকাংশই হলো অবিশ্বাসী।” [সুরা নাহল (১৬): ৮৩]

৩. কুফর আল কিবার: অহংকার এবং গর্বের বশবর্তী হয়ে অবিশ্বাস। শয়তানদের (যেমন: ইবলিস) অবিশ্বাস হলো এধরণের কুফরের উদাহরণ।

৪. কুফর উল জুহুদ: প্রত্যাখ্যানের দরুন অবিশ্বাস। এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা অন্তরে সত্যকে মানে, কিন্তু জবানে তা প্রত্যাখ্যান করে। এধরণের কুফর তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করে, কিন্তু ইসলামের জরুরী এবং সুপ্রতিষ্ঠিত কোনো বিধান যেমন নামায কিংবা যাকাতকে অস্বীকার করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “তারা প্রত্যাখ্যান করলো (নিদর্শনসমূহকে) যদিও তাদের অন্তরগুলো সেগুলোতে বিশ্বাস করেছিলো, ঘৃণা এবং অহংকারের বশবর্তী হয়ে”। [সুরা নামল(২৭): ১৪)]

৫. কুফর উল নিফাকঃ কপটতার দরুন অবিশ্বাস। এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা বিশ্বাসী হওয়ার ভেক ধরে, কিন্তু তাদের (অন্তরের) অবিশ্বাসকে লুকায়িত রাখে। এমন ব্যক্তিকে বলা হয় মুনাফিক বা কপট। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “নিশ্চই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্থানে থাকবে। আপনি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না”। [সুরা আন-নিসা (৪): ১৪৫)]

৬. কুফর উল ইসতিহাল: হারামকে হালাল বানানোর দরুন অবিশ্বাস। এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা আল্লাহর হারামকৃত বস্তুকে হালালরুপে গ্রহণ করেছে, যেমন মদ ও যিনা (ব্যভিচার)। একমাত্র আল্লাহর হাতেই রয়েছে হালাল এবং হারামের বিধান প্রণয়ন করার বিশেষ এখতিয়ার। সুতরাং যারা তার এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করতে চায় তারা আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তদ্বরুন ঈমানের (বিশ্বাস) গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়।

৭. কুফর উল কুরহ: আল্লাহর কোনো বিধানকে ঘৃণার দরুন অবিশ্বাস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “আর যারা কাফের, তাদের জন্যে আছে দুর্গতি এবং তিনি তাদের কর্ম বিনষ্ট করে দিবেন। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।” [সুরা মুহাম্মাদ (৪৭): ৮-৯)]

৮. কুফর উল ইসতিহযাহা: ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের দরুন অবিশ্বাস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “বলুনঃ তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াত এবং তার রাসুলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে? কোনো অজুহাত পেশ করোনা। তোমরা ঈমান আনার পর অবিশ্বাস করেছো।” [সুরা তাওবা (৯): ৬৫-৬৬)

৯. কুফর উল ই’রাধ: পরিহারের দরুন অবিশ্বাস। এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং সত্যকে পরিহার করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “তার থেকে কে বড় যালিম (অত্যাচারী) যাকে তার রবের আয়াতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় কিন্তু সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এরপর সে ভুলে যায় যা সে সামনে পাঠিয়েছে (বিচার দিনের জন্য)”। [সুরা কাহাফ (১৮): ৫৭]

১০. কুফর উল ইসতবদাল: আল্লাহর আইনকে বদল করার চেষ্টার দরুন অবিশ্বাস। এটি এই রূপগুলো ধারণ করতে পারে। ক) অস্বীকার না করে আল্লাহর আইন (শরীয়তকে) প্রত্যাখ্যান করা। খ) আল্লাহর আইনকে অস্বীকার তথাপি প্রত্যাখ্যান করা। গ) আল্লাহর আইনকে মানুষের বানানো আইন দ্বারা বদল করা। আল্লাহ বলেন, “তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি ?” [সুরা শু’রা (৪২): ২১]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “তোমাদের মুখ থেকে সাধারণতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।” [সুরা নাহল (১৬): ১১৬]


উৎস: Types of Kurf (Disbelief)

অনুবাদক: মিনহাজ মুক্তাদির, মুসলিম মিডিয়া প্রতিনিধি

অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive