কেসস্টাডি-১

দু’ ছেলে-মেয়ে আর শ্বশুর-শাশুড়ীকে নিয়ে ছ’ জনের সংসার সীমার। সীমা সব কাজ দিনে দিনেই সেরে রাখে। সন্ধ্যায় কোনোরকমে ইফতারটা শেষ করেই সিরিয়াল দেখতে বসে সে। চলে রাত ১১.৩০ অবধি। ছেলেমেয়েদের স্কুল বন্ধ, তারাও মায়ের সঙ্গী হয়। অন্যান্য মাসের মতো রমাদ্বান মাসেও সীমার সিরিয়াল আসক্তিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা মেনে নিতে চান না। ফলে প্রায় দিনই চলে মনোমালিন্য। রমাদ্বানের পবিত্রতার আবহের কোনো ছিটেফোঁটাও থাকে না পারিবারিক পরিমণ্ডলে।

কেসস্টাডি-২

-হুররে… ছক্কা.. দে আরেকটা.. .. নানান টাইপের উল্লাসধ্বনি ভেসে আসছে ড্রয়িংরুম থেকে। এদিকে ইফতারের সময় সমাগত। অথচ টেলিভিশনে খেলা দেখছে সবাই। এর মাঝে ভেসে আসে মাগরিবের আযান ধ্বনি। স্ক্রিনেই চোখ রেখে ইফতার করছে খেলাপ্রেমিকেরা। ইবাদাতের মহামূল্যবান সময়টুকু চলে যায় নিদারুণ অবহেলায়। শুধু বাসা-বাড়িতে নয়, বাইরে কোথাও বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার সুযোগ পেলেও জটলা বেঁধে খেলা দেখতে মত্ত হয়ে যায় অনেকেই।

IIRT Arabic Intensive

রমাদ্বানের বরকতময় সময়গুলি অতিবাহিত করছি আমরা। প্রথম দুই দশক পেরিয়ে শেষ দশদিন সমুপস্থিত আমাদের মাঝে। কিন্তু কীভাবে সময় কাটাচ্ছি আমরা? উপরের কেসস্টাডিগুলোকে অস্বীকার করার উপায় নেই আমাদের। আমরা অনেকেই রমাদ্বানের মহামূল্যবান সময় ব্যয় করছি সিরিয়ালের পেছনে। অহেতুক সময় নষ্ট করছি। অথচ মুমিনের বৈশিষ্ট্যের পরিচয়ে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন-

وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ

যারা অসার কাজ থেকে দূরে থাকে। [সূরাহ আল-মুমিনূন (২৩):৩]

দেশের প্রতিটা কোণায় কোণায় চলছে স্যাটেলাইট সংস্কৃতির রাজত্ব। ডিশ ক্যাবল লাইন আর ইন্টারনেট সুবিধা শহরের সীমানা পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মাটির ঘরেও পৌঁছে গেছে। ছেলে-বুড়ো নির্বিশেষে খবর দেখা আর অবসর কাটানোর জন্য বেছে নিচ্ছেন টেলিভিশন বা ইন্টারনেটকে। একক পরিবারগুলোতে নারীদের অবসর সময়ের একান্ত সঙ্গী টেলিভিশন। আবার চাকুরিজীবী মায়ের সন্তানেরাও টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে তাদের একাকী, নিঃসঙ্গ সময় কাটাচ্ছে। কেউ কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিভিন্ন দামী ডিভাইস। দিচ্ছেন কোনোরকম নজরদারী ছাড়াই অবাধ ব্রডব্যান্ডিং ইন্টারনেট সুবিধা। সিরিয়ালের প্রতি আসক্তি আমাদেরকে এমন আষ্টেপৃষ্টে ধরেছে যে, অনেক প্র্যাক্টিসিং মুসলিম মা-বোনেরাও এ থেকে বের হতে পারছেন না। বছরের অন্যান্য সময়গুলোর মতো পবিত্র রমাদ্বানের বরকতময় সময়েরও অনেকটা চলে যাচ্ছে সিরিয়াল দেখতে দেখতে। আগের দিনগুলোতে রমাদ্বান আসলেই নারী-পুরুষ সকলকেই দেখা যেত কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন, যিকির-আযকারে নিমগ্ন। আর এখন সিরিয়ালের আসক্তিতে অনেকেই কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নে তেমন একটা সময় দেন না। এমনকি সিরিয়ালের আসক্তির ফলে পারিবারিক আবহ থেকেও রমাদ্বানের পবিত্র আবহও খুঁজে পাওয়া ভার হতে চলেছে।

কী দেখছে দর্শকরা

বেশিরভাগ দর্শকই ভারতীয় সিরিয়ালে আসক্ত। একবারও কি ভেবে দেখেছেন ভারতীয় হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির সিরিয়ালগুলো কি আমাদের রমাদ্বানের পবিত্রতা নষ্ট করে না? অথচ অধিকাংশ সিরিয়ালই মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দুয়ানী কোনো শ্লোক বা ধর্মীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু করা হয়। আবহসঙ্গীতে থাকে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, ঢোল-বাদ্য, পূজার সঙ্গীত। আর সম্পূর্ণ সিরিয়াল পূজার সরঞ্জামে ভরপুর। এছাড়াও অভিনেত্রীদের মেকাপ-গেটাপে থাকে চরম অশ্লীলতার সয়লাব। আর কাহিনীগুলোতে থাকে-

ক. পারিবারিক কলহ বা সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব-কলহ। সমগ্র সিরিয়ালে এই দ্বন্দ্ব-কলহের সাথে চলে কূটবুদ্ধির চর্চা। চলে মা-ছেলেতে ঝগড়া, ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ, ননদ-ভাবীর সাথে মনোমালিন্য, বউ-শ্বাশুড়ীর ঝগড়া; এমনকি প্রতিপক্ষকে বিনাশ করতে চলে নানারকম ষড়যন্ত্র।

খ. পরকীয়া। এক পুরুষের একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। এক নারীর একাধিক পুরুষে আসক্তি, ভাবী-দেবর বা অন্য কোনো আত্মীয়ের সাথে অশ্লীল সম্পর্ক।

গ. ধর্ম। সর্বশেষে সব কাহিনীর শেষ পরিণতি দেখানো হয় ধর্মের কাছে গিয়ে। সুদীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এসব সিরিয়ালে যখন যে পূজা, তখন সেই পূজায় গিয়ে কাহিনী আবর্তিত হয়।

এছাড়া অস্ত্র, মদ, সিগারেট, খুন-আত্মহত্যা ইত্যাদির উপস্থিতি। অর্থাৎ, এক কথায় হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি ও সেক্যুলার ধ্যান-ধারণার পৃষ্ঠপোষক এসব সিরিয়ালগুলি।

পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট

প্রিয় পাঠক! পত্রিকায় প্রকাশিত নিচের সংবাদগুলি দেখুন। তারপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন আপনার পরিবারে সিরিয়াল নামক অন্ধকূপটি চালু রাখবেন কি রাখবেন না। (সতর্কতা: নিউজ সাইটগুলোতে আওরাহ উন্মুক্ত ছবি রয়েছে)

১.পছন্দের সিরিয়াল দেখতে না পেয়ে আত্মহত্যা তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

২. ভারতীয় সিরিয়াল দেখা নিয়ে ঝগড়া, নিহত ১ তথ্যসূত্র: অনলাইন সংবাদ বিডি ডট কম

৩. স্টার জলসা সিরিয়াল দেখতে বারণ করায় স্বামীকে খুন করলো স্ত্রী তথ্যসূত্র: জাস্ট নাও ২৪ ডট নেট

৪. পাখি থ্রিপিস কিনে না দেওয়ায় স্বামীকে তালাক দিলো এক স্ত্রী তথ্যসূত্র: দ্য ঢাকা টাইমস

ভারতীয় সিরিয়াল কিরণমালা কেড়ে নিলো যা কিছু তথ্যসূত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর

৫. ১৬ পরিবার নিঃস্ব

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর বড়দাপ (সরকারপাড়া) গ্রামে কিরণমালা সিরিয়ালটি দেখতে গিয়ে ১৬টি পরিবারের বসতবাড়ি-জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জানা যায়, ওইদিন রাত ৮.৪০ মিনিটে বাড়িতে সবাই ‘কিরণমালা’ সিরিয়াল দেখার সময় চুলার আগুন ফুসকে রান্নাঘরে আগুন লাগে। এরপর তা আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও মালামাল কিছুই রক্ষা করা যায়নি।

৬. পানিতে ডুবে ২ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের সবুর মোল্লা নামের এক পরিবারের সবাই একত্রে দেখছিলেন কিরণমালা। একই সময় পুকুর পাড়ে খেলা করছিলো সবুর মোল্লার ছেলে আসাদুর রহমান (৬) ও তার চাচাতো বোন মনিরা খাতুন (৪)। এক পর্যায়ে সবার অগোচরে শিশু দুটি পুকুরে পড়ে যায়। সিরিয়াল শেষ হতে হতে না ফেরার দেশে চলে যায় অবুঝ শিশু দুটি। সিরিয়াল শেষে পরিবারের সদস্যরা দেখেন পুকুরের পানিতে ভাসছে দুটি নিথর দেহ।

৭. ঘরের ভেতরে পুড়ে অঙ্গার তালাবদ্ধ মেয়ে

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার চকহরিপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের স্ত্রী শোকেলা খাতুন দুই শিশু কন্যাকে ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে বাড়ির পাশের দোকানে দলবেঁধে কিরণমালা দেখতে যান। এরই মাঝে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন ধরে তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বড় মেয়ে সায়মা (১০) ঘরের জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসলেও আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় ছোট মেয়ে ঋতু (৭)। কিরণমালায় মগ্ন থাকা মা খবর পেয়ে যখন বাড়িতে পৌঁছান, তখন দেখেন সব শেষ।

৮. কিরণমালা সিরিয়াল দেখতে না পেরে নীলফামারীতে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা তথ্যসূত্র: প্রিয় ডট কম

কিরণমালা দেখা নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াবাড়ি এলাকায় চিত্তরঞ্জন সাহার দুই কন্যার মধ্যে ঝগড়া হয়। এটা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, এক পর্যায়ে বড় বোন সঞ্জিতা সাহা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

 ৯. হবিগঞ্জে কিরণমালা দেখা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২ শতাধিক তথ্যসূত্র: বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম

১৮ আগস্ট ২০১৬ হবিগঞ্জে কিরণমালা দেখা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত হন শতাধিক।

রাতে ধল বাজারে শাকির রেস্টুরেন্টে স্টার জলসায় কিরণমালা সিরিয়াল দেখা নিয়ে ধল গ্রামের সানু মিয়ার মেয়ে রেবা ও হাফসার সঙ্গে একই গ্রামের আকবর মিয়ার মেয়ে শেফালির বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে তাদের পরিবারের লোকজন সেখানে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রেস্তোরাঁ মালিকসহ পাঁচজন আহত হন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধান করেন। এর জেরে পরদিন সকালে উভয় পক্ষের লোকজন বাজারের পাশের একটি মাঠে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুর করেন তাঁরা। এ সময় হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও আমাদের অজানা রয়ে গেছে অনেক ঘটনা।

সিরিয়ালের প্রভাব

সিরিয়ালের প্রভাব আমাদের মন-মানস থেকে শুরু করে ভাষায়,আচার-আচরণে, পোশাক-আশাকে, সামাজিক অনুষ্ঠানে এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলের খাতার কাভারেও দেখা যাচ্ছে। এমনকি ধানের নামকরণও করা হয় ‘কিরণমালা’

পোশাক

সিরিয়ালের প্রভাব আমাদের পোশাক শিল্পকেও প্রভাবিত করছে। গত ক’ বছর ধরে ঈদবাজারগুলোতে আজব সব নামে চলছে ভারতীয় পোশাকের একচেটিয়া আধিপত্য। ফলে দেশীয় বস্ত্রশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া এসব পোশাকের অধিকাংশেরই ডিজাইন মুসলিম সংস্কৃতির সাথে যায় না। তবে মজার ব্যাপার হলো, পূজার সময় এসব পোশাকের দৌরাত্ম্য তেমন একটা চোখে পড়ে না! সত্যিই সেলুকাস।

হিন্দিপ্রীতি

শিশু ও তরুণদের বড় একটা অংশ হিন্দি ভাষার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। অন্য একটি ভাষা শেখা বা চর্চা করা খারাপ কিছু নয়, কিন্তু ভাষাভিত্তিক উপনিবেশায়নের প্রভাবের দিকে সতর্ক দৃষ্টি কাম্য।

সাংসারিক অশান্তি

সারাদিন ভারতীয় গল্পবিহীন সিরিয়ালের অনৈতিকতা, পারিবারিক কলহ, কুটিলতা, শিশুদের মিথ্যা বলা, চাতুরি শেখানোর কৌশল, হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি, পূজা ইত্যাদি দেখতে দেখতে স্লো পয়জনিংয়ের মতো আমাদের নারীদের মন-মানসে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। পারিবারিক ভিত যেমন নড়বড়ে হচ্ছে, তেমনি আত্মীয়তার বন্ধন ঢিলে হয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ালে অতিমাত্রায় আসক্তির ফলে পারিবারিক কলহ বেড়ে চলেছে। বেড়ে চলেছে পরস্পর-পরস্পরের প্রতি সন্দেহ-সংশয়। ফলে হচ্ছে সম্পর্কের অবনতি।

অনৈতিক সম্পর্ক

সিরিয়ালে সারাক্ষণ পরকীয়া, অশালীন সম্পর্ক, অশ্লীল আচরণ দেখতে দেখতে এগুলোকে এখন সবাই সাধারণ বিষয় মনে করছে। অনেকেই সুযোগ পেলে পরকীয়া বা অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ, আত্মহত্যা, নারী নিগ্রহ বেড়েই চলেছে।

সামাজিক অনুষ্ঠান

গায়ে হলুদ, বিয়ে, সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা যা-ই হোক, ধুম-ধাড়াক্কা হিন্দি গানের তালে তালে চলে সব। চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তেরা, বাসে-লঞ্চে, মোড়ের টং দোকানে, শপিং মলে সবখানেই অশালীন হিন্দি গানের সয়লাব।

বিলাসিতা

সিরিয়াল দেখে দেখে আমাদের দেশের নারী ও কিশোরীরাও সিরিয়ালের নায়িকাদের অনুকরণে ড্রেস, গহনা, মেকআপ করতে শুরু করেছে। ঈদের পোশাক সিরিয়ালের নায়িকার নামে না হলে আজকাল আর কেউই কিনতেই চায় না। সাজ-পোশাকের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এসবকে কেন্দ্র করে ঝগড়া, আত্মহত্যা, এমনকি ডির্ভোসের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট

সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি মায়েরা সিরিয়াল দেখায় মগ্ন থাকায় সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না। এমনকি অনেকেই স্কুল, কলেজ পড়ুয়া সন্তানকে সাথে নিয়েই সিরিয়ালে মজেছেন। ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে।

মোটকথা, দৈনিক অহেতুক সময় নষ্ট করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব সিরিয়ালে দেখতে দেখতে ধীরে ধীরে দর্শকদের মানসিক পরিবর্তন ঘটছে, চিন্তা-চেতনা জড়বাদীতে রূপান্তরিত হচ্ছে। কমে যাচ্ছে দ্বায়িত্ববোধ। হারিয়ে যাচ্ছে পারস্পরিক বিশ্বাস-আস্থা। অবক্ষয় হচ্ছে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের। এমনকি  ইসলামিক অনুশাসনগুলো বার্ডেন মনে হচ্ছে।

রমাদ্বানে এসব সিরিযাল দেখার ফলে পারিবারিক আবহ থেকে রমাদ্বানের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। আত্মিক পবিত্রতা যথাযথভাবে অর্জিত হচ্ছে না। রমাদ্বানের প্রকৃত শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

আমাদের করণীয়

■ রমাদ্বানের এই আত্মশুদ্ধির মাসে আমরা দৃঢ় শপথ নেই অনৈতিক, রুচিহীন সিরিয়াল দেখা থেকে বিরত থাকতে প্রাণপণ চেষ্টা করবো।

■ ব্যক্তি, পরিবার সকল ক্ষেত্রে অবাধে টেলিভিশন দেখার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরীতে সবাই এগিয়ে আসি।

■ সচেতন অভিভাবক ও পরিবারকর্তাগণ টেলিভিশনের বদলে পরিবার ও সন্তানের জন্য সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করি।


লেখক: সুমাইয়্যা সিদ্দীকা

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive