মুহাররম মাসের নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে শুরু হয় ইসলামিক চান্দ্রবছরের হিসাবে নতুন বর্ষ। এটি যেহেতু ইসলামিক বর্ষ ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস, নতুন বর্ষ বরণ ছাড়াও এর সাথে জড়িত আছে বাড়তি মাহাত্ম্য, আর আল্লাহর অশেষ রহমতের সুসংবাদ। মুসলিমদের মোটামুটি সবাই রমাদান, জিলহজ্জ্ব এই সব মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্টের ব্যপারে জানলেও অনেকেই জানেন না যে, বছরের প্রথম মাস হওয়া ছাড়াও মুহাররম মাসের আরো অনেক বিশেষত্ব রয়েছে। এই লেখাটিতে মহিমান্বিত আশুরার রোজার তাৎপর্যের পাশাপাশি মুহাররম মাসের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হবে৷

গুরুত্ব

‘মুহররম’ শব্দটির অর্থই হলো সম্মানিত। কাজেই এটি একটি সম্মানিত মাস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নিজে কুরআনে এর মহিমা উল্লেখ করেছেন। কুরআনে আল্লাহ ত’আলা বলেছেন

IIRT Arabic Intensive

তন্মধ্যে চারটি (জিলক্বদ, জিলহজ্জ্ব, মুহররম ও রজব) সম্মানিত। [সূরা তওবা:৩৬]

অতএব অন্য তিনটি সম্মানিত মাসের সাথে এই মাসটির উল্লেখের ফলে আমরা এর মর্যাদা অনুধাবন করতে পারি; যা কিনা কোন অংশেই কম নয় বরং সমান।

বৈশিষ্ট্য

আমরা প্রত্যেকেই রমাদান মাসের অনন্য বৈশিষ্টের ব্যাপারে জানি। নিম্নে বর্ণিত হাদিস হতে আমরা মুহররম মাসের ফযীলত সম্পর্কেও জানতে পারব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

রমযানের সিয়ামের পর সর্বোত্তম সওম হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের সওম। [সহীহ মুসলিম: ২৬৪৫]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদিসটি থেকে দুইটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়।

প্রথমত: এটিকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: রমাদানের রোজার পরেই এই মাসের রোজা মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে।

 একজন মুসলিম হিসেবে আপনি যদি রময়াদান মাসের বাইরেও রোজার রাখার তৃপ্তি ও শান্তি পেতে চান, তাহলে মুহাররম মাসেই তা পেতে পারেন।

আশুরার দিন

মুহাররম মাসের দশম দিনিটিকে আশুরার দিন বলা হয়। এটি হল এই মাসের পবিত্রতম দিন এবং বছরের সম্মানিত দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্নিত অনেকগুলো হাদিস থেকে আমরা এই মাসের দশ তারিখ তথা আশুরার ঐতহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে পারি। আশুরার এই পবিত্র দিনটির গুরুত্ব ও মহিমা সম্পর্কে প্রথম যে হাদিসটি জানা যায়, সেটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় হিজরতের ঠিক পরের সময়ের ঘটনা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন সেখানে ইহূদীরা মুহাররমের ১০ তারিখে রোজা রাখছে। এই দিনটিতে মূসা আলাইহি ওয়া সালাম তার অনুসারীদেরকে নিয়ে লোহিত সাগর পারি দিয়ে রক্ষা পান এবং ফেরআউন ও তার বাহিনীকে আল্লাহর সাগরে ডুবিয়ে দেন। এই ঘটনার সম্মানেই ইহুদীরা প্রতি বছর এই দিনটিতে রোজা রাখত। তাদের কাছে এই কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:

তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আঃ) এর বেশী হকদার। [আবু দাউদ:২৪৪৪]

এর পর তিনি ঐদিন রোজা পালনের নির্দেশ দেন।  এর পাশাপাশি আরো হাদিস থেকে জানা যায় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রোজার আগে অথবা পরে আরেকদিন রোজা রাখার ব্যপারে তাগিদ দিয়েছেন যাতে মুসলমানদের রোজা ইহুদীদের রোজা থেকে ভিন্নতা পায়।

যখন অন্যান্য সাহাবীরা জানালেন যে এই দিনটিতে রোজা রাখা ইহুদী এবং খৃষ্টানদের মাঝেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:

ইনশাআল্লাহ, আমারা আগামী বছর নবম তারিখেও রোজা পালন করবো। [সহীহ মুসলিম:২৫৫৬]

একই প্রসংগে আরেকটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

আশুরার দিনে রোজা রাখ এবং ইহূদীদের থেকে ভিন্নতা অবলম্বন কর। এই দিনের আগে অথবা পরের দিনও একটি রোজা রাখ। [বায়হাকী]

কাজেই সুন্নাহ অনুযায়ী বেশী বেশী নেকী আশা করলে আমাদের মুহহাররম মাসে দুইটি রোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে; একটি আশুরার দিন অর্থাৎ মুহাররমের ১০ তারিখে আরেকটি এর আগের দিন অথবা পরের দিন।

এক কথায় উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি, ইসলামে মুহাররম মাসের মর্যাদা মহান এবং আশুরার দিনটিও আমাদের জন্য অনেক বরকতময়। আল্লাহ যেন আমাদের ইসলামের নতুন বছরে দ্বীনের প্রকৃত মর্ম অনুযায়ী নিজেদের পরিচালিত করার তৌফিক দেন এবং এই পবিত্র মাসের বরকত পূর্ণরূপে লাভ করার সুযোগ দান করেন।

আমীন।


উৎস: Quranreading.com (মূল আর্টিকেল লিন্‌ক)

অনুবাদ: আম্মাতে রাব্বানী

অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া

 

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive