ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় মানবজাতিকে যতই সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করা হোক না কেন, মানুষ বারবার বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করে। একটা আদিম সত্ত্বা তার ভেতরে ঠিকই থেকে যায়। এজন্যে মানুষের একমাত্র ইলাহ আল্লাহ রাব্বুল ইযযাত যেটা করেছেন তা হলো, তিনি যুগে যুগে নবীদেরকে প্রেরণ করেছেন। একটা ইন্ট্রেস্টিং বিষয় হচ্ছে প্রত্যেক নবীই মেষ পালন করতেন কিংবা ছাগল চরাতেন। কারণ মানবজাতির আচরণ অনেকটা ছাগল ভেড়ার মতো। এদেরকে এক পালে ঐক্যবদ্ধ রাখা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। এদের পাল থেকে হারিয়ে যাবার সহজাত একটা প্রবণতা থাকে। তাই এদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাখালকে খুব সচেতন থাকতে হয়। আল্লাহ এই অন্ধকার থেকে মানুষকে আলোতে আনার জন্যই যুগে যুগে নবী এবং কিতাব পাঠিয়েছেন।

আমরা যারা এই আধুনিক যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি কিংবা কোনো সহশিক্ষার অঙ্গনে যাতায়াত রয়েছে, তাদের সবারই অভিজ্ঞতা আছে মানুষের এই ছাগলপ্রবণতা অনুভব করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা হয় তা হলো, তারা দীর্ঘদিন মা বাবার সাথে থাকার পর হুট করেই একটা উন্মুক্ত পরিবেশের মুখোমুখি হয়। একটা আপাত বন্দীদশা থেকে স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়ায় ডানা মেলার সুযোগ পায়। আর এই মুহূর্তে তাদের সাথে যদি আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি বা সঠিক গাইডলাইন না থাকে, তাহলে তারা সহজেই বিচ্যুত হতে পারে।

IIRT Arabic Intensive

ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের বল্গাহারা আচরণের পেছনে মূল যে কারণ, তা হচ্ছে ট্রেন্ড ফলো করা। আমার ৪ বছরের অভিজ্ঞতা অন্তত তা-ই বলে।  প্রায় ৪ বছরের ভার্সিটি জীবনে যে কিছু বিষাক্ত জাহিলিয়াতের ট্রেন্ড/কালচার দেখেছি, সেগুলো নিয়ে কথা বলাই আজকের লেখার উদ্দেশ্য।  নিচে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলবো, যা নিয়ে ভার্সিটি পড়ুয়া অনেকেরই অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই এই লেখা।

১. ফ্রি মিক্সিং এর হাতেখড়ি

আমার নিজ চোখে দেখা এমন কিছু ছেলেপেলে আছে, যারা স্কুল লাইফে মেয়েদের সাথে শত চেষ্টা করেও কথা বলতে পারতো না। ভার্সিটিতে এসে দেখা গেলো দিব্যি মেয়েদের নিয়ে ঘুরছে এবং সময় কাটাচ্ছে। এটাকে আমার ভার্সিটি লাইফের সবচেয়ে বড় জাহিলিয়াত মনে হয়।  একটা ছেলে একটা মেয়ের উপর স্বাভাবিকভাবেই একটা আকর্ষণ অনুভব করে।  স্কুল/কলেজে থাকতে নিজের যেহেতু তেমন কোনো পরিচয় গড়ে ওঠে না, তাই স্বভাবতই স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে অপজিট সেক্সের সাথে ভাব জমানোটা আসে না।  অবশ্য এখনকার স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের মাঝেও এগুলো অনেকটাই শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপরেও বাবা মার তত্ত্বাবধানে থাকায় এখনো ততটা অনেকের মাঝে ছড়ায়নি।  কিন্তু ভার্সিটিতে আসলে হ্যাংআউট, ক্লাস পার্টি , গ্রুপ স্টাডির নাম করে এসমস্ত কাজ পুরোদমে শুরু হয়।  আমার অভিজ্ঞতা মতে যেই ছেলেটি ফার্স্ট ইয়ারেও অতটা মেয়েঘেঁষা থাকে না, ফোর্থ ইয়ারে আসতে আসতে অনেকটাই তেমন হয়ে যায়।

২. মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ

কোনো মা-বাবা কিংবা শিক্ষক যদি আজকে আমার এই লেখাটা পড়ে থাকেন, তবে আপনাদের একটা তথ্য দিবো। হয়তো এই জিনিসটি আপনার অজান্তে আপনার আদরের সন্তানের সাথেই ঘটছে।  আমার এক কাছের বন্ধুর ঘটনা, তাই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার কোনো সুযোগ নেই।

আমার সেই বন্ধুটি প্রথম যখন হলে আসে, তখন কুরআন নিয়ে ঢুকেছিলো। আগে থেকেই সালাত পড়ার অভ্যাস ছিলো। কুরআন তিলাওয়াতও করতো মাঝেমধ্যে। আমি নিজেই ওর ভালো সময়টা দেখেছি। ভার্সিটি লাইফে একটা বছর যেতে না যেতেই অনেক কিছু চেঞ্জ হয়ে যায় ছেলেটার। রুটিনমাফিক গাঁজা খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে যায় সে। বাসায় গেলে যে তার এ নেশা না করতে পেরে কষ্টও হয়, সে কথাও বলেছিলো একদিন। এবং বাসায় গিয়ে কীভাবে নেশার বিষয়টা গোপন রাখে, তাও জানিয়েছিলো। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বাসায় তার এই নেশা সম্বন্ধে তো কোনো ধারণাই নেই, এমনকি সে যে ধুমপান করে এটাও তারা জানে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কত ভদ্র বাবা মায়ের ছেলে যে মদ গাঁজা খায়, তার কথা জানলে বা শুনলে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন।

তাই বাবা মা ও অভিভাবক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি। আপনার ছেলে হয়তো বড় হয়ে গিয়েছে। তারপরেও তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেমন কাটছে, এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখার চেষ্টা করা আপনার অবশ্য কর্তব্য।

৩. পার্টি, ফেস্ট, কালচারাল উৎসব

বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে নিজের ভার্সিটি এবং যেসব ভার্সিটি সম্পর্কে জানাশোনা আছে, সেগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে যেটা জানি তা হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে এসব পার্টি, ফেস্ট কালচারাল উৎসবের সয়লাব ঘটেছে। এসব প্রোগ্রামে দুই একটা সেগমেন্ট বাদ দিলে প্রায় পুরোটাই ইসলামবিরোধী কার্যক্রম দিয়ে ভরা থাকে। সঙ্গীত-সন্ধ্যা  কিংবা কড়া মেকাপ দেওয়া ক্লাসমেটের কিংবা বড় আপুর  সুন্দর শরীর দেখে অনেকেই যে বিনোদন নেন, তা তাঁরা সবার সামনে অস্বীকার করলেও অনেক সময় উন্মাদনার মুহূর্তগুলোতে নিজেরাই বলে বেড়ান। আমার মনে পড়ে আমি যখন লেভেল-১ টার্ম-১ এর ছাত্র, তখনও মনে হয় এতটা কালচারাল প্রোগ্রাম বা কনসার্ট হতো না যতটা আমি থার্ড ইয়ার কিংবা ফোর্থ ইয়ারে এসে দেখেছি।

দুটি উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। আমি যখন ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র, তখন ক্যাম্পাসে “শাড়ি পাঞ্জাবি ডে” নামক কোনো প্রোগ্রাম হতে দেখিনি। কিন্তু থার্ড ইয়ারে উঠে দেখলাম হুট করে কোত্থেকে এ প্রোগ্রামের আমদানি হয়ে গেলো এবং নিয়ম করে চলতে থাকলো। এবং মেয়েরা সুন্দর সাজগোজ দিয়ে শরীর দেখানো শাড়ি পরে একটা বিশেষ দিনে জড়ো হতে শুরু করলো।

আরেকটা হলো কনসার্টের ছড়াছড়ি। আগে দেখা যেত বাৎসরিক একটা প্রোগ্রামে ব্যান্ড এনে মানুষের কানের বারোটা বাজানো হতো। ৪ বছর যেতে যেতে দেখলাম এমন অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে যে, নবীন বরণ উৎসব, হল উৎসব, হেন উৎসব নেই যেখানে কনসার্ট করা হচ্ছে না।  অবস্থা খুবই জটিল।

আরেকটি চরম বিরক্তিকর পার্টি হচ্ছে ডিজে পার্টি। এখানে টাকা দিয়ে ডিজে ভাড়া করে আনা হয়। সে নানাবিধ বাদ্য বাজনা বাজায় এবং তালে তালে সবাই নাচানাচি করে থাকে। এসমস্ত পার্টিতে মদপান খুব সাধারণ একটা বিষয়। বড় ভাইদের কাছে একটা কাহিনী শুনেছি। একটি ব্যাচের র‍্যাগ প্রোগ্রামে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। এবং ডিজে হিসেবে সেখানে একজন নারী ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই তার পোশাক আশাক খুব সুবিধার ছিলো না। এর মধ্যে কিছু ছেলেপেলে মদ খেয়ে টালমাটাল অবস্থা। এক পর্যায়ে উন্মাদ হয়ে যাওয়া কিছু ছেলেপেলে সেই ডিজের গায়ে হাত দেয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা পর্যন্তও করে। এরপর সে ডিজে পালিয়ে বাঁচে।

অভিভাবক ও সচেতন সমাজের উদ্দেশ্যে এটাই বলতে চাই, আপনাদের প্রজন্মে হয়তো এতকিছু হয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিকতার নাম দিয়ে এমন এমন কাজ করছে, যা হয়তো আপনাদের চোখকে প্রতিনিয়তই এড়িয়ে যাচ্ছে।

৪. পর্নোগ্রাফি ও যৌন উন্মাদনা

একটা কথা আমি অনেকবারই বলেছি। কিছু মানুষ আছে যারা উপর দিয়ে খুব সুশীল আচরণ করে। তাদের অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নারী সমাজের প্রতি তাদের চেয়ে দরদী আর কেউই নেই।  নারীর অধিকার ও সম্মানের ব্যাপারে তারাই সবচেয়ে বেশি সোচ্চার।  কিন্তু তাদের সাথে যাদের ব্যক্তিগত পরিচয় আছে কিংবা কোনোভাবে অল্প স্বল্প মেশবার সুযোগ হয়েছে, তাঁরা জানেন এই সম্প্রদায়ের আসল অবস্থানটা কেমন। এটা অবশ্য স্কুল লাইফ থেকে দেখে আসা জিনিস। ক্লাসমেটের শরীর নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগা ছেলের সংখ্যা নিতান্ত কম না। আমাদের বোনেরা যদি জানতো তাদের অনেক ছেলেবন্ধু তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের সম্বন্ধে কী ভাবে বা কী বলে, তাহলে তারা কখনোই এদের কাছেও ঘেঁষতো না। অবশ্য এমন মেয়েও আছে, যারা পছন্দ করে যে ছেলেরা তাদের নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভুগবে। এটা তো গেলো যৌন উন্মাদনার একটি দিক। এতে হয়তো সামাজিকতার কারণে কিছুটা লাগাম আছে। কিন্তু আরেকটি দিক আছে, যা লাগামহীন যৌনতায় মানুষকে উৎসাহিত করে।

পর্নোগ্রাফি হচ্ছে সেই বিষাক্ত জিনিসের নাম। স্কুল লাইফ থেকেই প্রকাশ্য দিবালোকে বন্ধুসমাজে পর্নের অবাধ চর্চা দেখেছি।  এরা যে ভার্সিটিতে এসেও একই কাজ করবে, তা বুঝতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। একদিনের একটা অভিজ্ঞতা খুব পীড়া দিয়েছিলো। ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে কোনো এক কাজে একটা হলের গণরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। দরজা দিয়ে ঢুকতেই দেখি দরজার সামনে মাটিতে বসে একটা ছেলে অবর্ণনীয় কিছু নোংরা দৃশ্য দেখছে। খুব ঘেন্না লাগছিলো। প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যেভাবেই হোক, এসব দেখা ঘৃণ্য কাজ – এতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে এসব করে, তাদের নোংরামিটা কত গভীরে পৌঁছেছে ভেবে দেখেছেন কি?

এমন আলাপ আলোচনাও কানে এসেছে যেখানে বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে আলোচনা হয় কে কোন ক্যাটাগরির পর্ন পছন্দ করে। আর এ বিষয়গুলো যে শুধু ছেলেদের মধ্যে, এমনটি নয়। একজন মেয়ের পর্ন দেখা সংক্রান্ত এমন একটি কাহিনী কানে এসেছে, যা বলার মতো হলে বলতাম। কিন্তু লেখার মধ্যে নোংরা আবর্জনা লেগে যাবে, এই ভয়ে বলতে পারছি না।

৫. অশ্রাব্য গালিগালাজের চর্চা

স্কুল কলেজের ছেলেপুলেরাও গালিগালাজ করে। কিন্তু ভার্সিটিতে এসে অবস্থা এমন হয়, যেন প্রতি শব্দে একটা করে ‘চ বর্গীয় শব্দ’ না বললে তাদের মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। এই অশ্রাব্য গালিগালাজের চর্চার একটা পরোক্ষ ক্ষতি আছে, যা খুব বিপদজনক। দেখা যায় একটি ছেলে কখনো গালিগুলো না দিলেও শুনতে শুনতে কানে সয়ে যায়। প্রথম প্রথম এসব শুনলে যেমন বমি আসতো, ধীরে ধীরে তেমনটা আসে না। একজন বন্ধুর কাছে শুনেছি সে গালি দিতে দিতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো যে, বাসায় গিয়ে মা বাবার সামনেও মুখ দিয়ে ওসব চলে আসতো।

৬. র‍্যাগিংয়ের নামে মানসিক টর্চার

জাহিলিয়াতের অন্যতম আরেকটি উপাদান হলো র‍্যাগিংয়ের নামে নতুন ব্যাচের ছেলেপেলেদের কখনো মানসিক কখনো বা শারীরিক নির্যাতন করা। এই র‍্যাগিংয়ের ভুক্তভোগী হয়ে কত ছেলেপেলে যে মানসিক কষ্টে ভুগেছে বা রেজাল্ট খারাপ করেছে, তা ভাবলে গা শিউরে উঠে। সব মানুষের ধৈর্যশক্তি বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেবার সামর্থ্য সমান নয়। অনেক ছেলেপেলে আছে যারা র‍্যাগিংটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। আমার এক কাছের বন্ধুই আছে, যে র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে ফার্স্ট ইয়ারে থাকতেই প্রচণ্ডরকম মানসিক ডিপ্রেশনে পড়ে যায় এবং এটা তার রেজাল্টেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী কর্তৃক ছাত্রদের জোর জবরদস্তি চালানোর খবরও পত্রপত্রিকায় আমরা দেখে আসছি। মিছিলে না যাওয়ায় কিংবা রাজনৈতিক দলে নাম না লেখানোয় “গেস্ট রুমে নির্যাতনে”র বিষয়টাও আমাদের অনেকেরই জানা। গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা অনেক ছাত্রই হলগুলোতে থাকতে বাধ্য হয়। তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের নানাভাবে হেনস্তা করে।

৭. মেয়েদের ধূমপান প্রবণতা

এই জিনিসটা খুব সম্প্রতি আমার চোখে পড়েছে। ধূমপান এককালে সমাজে খুব খারাপভাবে দেখা হতো। যারা সিগারেট টানতো, তারাও ছাদে বা বাথরুমে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে টানতো। কিন্তু ভার্সিটির ছেলেপেলে এগুলোর থোড়াই কেয়ার করে। তাই দেখতে দেখতে জিনিসটা সয়ে গিয়েছিলো। যদিও খারাপ কাজ লিঙ্গ নির্বিশেষেই খারাপ, কিন্তু সেদিন যখন চোখে পড়লো কিছু অতি আধুনিকা মেয়ে সিগারেট খাচ্ছে আর মুখে তাদের অশ্রাব্য গালাগাল, তখন বিষয়টা আমাকে হুট করে খুব নাড়া দিয়েছিলো। কোথায় যাচ্ছি আমরা পুরো জাতি? পাশ্চাত্যের অনুসরণ আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এসব মেয়েদের বাবা মায়েরা কি এসব জানেন না?  কী জানি।! এভাবে চললে হয়তো মেয়েদের ধূমপানও অনেকটা সয়ে যাবে!

শেষ কথা

এ লেখার মূল উদ্দেশ্য এটাই ছিলো যে, অভিভাবক শ্রেণি ও সচেতন মহলকে জানিয়ে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আধুনিকতার নামে সম্প্রতি কতশত জাহিলিয়াত চলছে। সব ভার্সিটিতে হয়তো এগুলোর সবগুলোই খুঁজে পাওয়া যাবে না। বা এমনও ভার্সিটিতে আছে, যাতে আরো নতুন নতুন জাহিলিয়াতের উপাদান বিদ্যমান আছে বা ভবিষ্যতে আসবে। আমরা চেষ্টা করেছি অল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাহিলিয়াত সামনে তুলে আনবার। খুঁজলে এমন আরো বহুসংখ্যক পাওয়া যাবে। তাছাড়া ছোটখাটো অনেক নোংরা অশ্লীল কাজ তো অনবরত চোখে বা কানে আসছেই। পারিবারিক পরিমণ্ডলে এইগুলো নিয়ে অধিক সচেতনতা সৃষ্টি না হলে এবং ইসলামের প্রকৃত চর্চা অনুপস্থিত থাকলে এগুলো দিনকে দিন বাড়তেই থাকবে, কমবে না। তাই আসুন সংশ্লিষ্ট সবাই নিজে সচেতন হই এবং আশেপাশের মানুষগুলোকেও সচেতন করি।  আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না আমাদের ভাইবোনেরা এইসব নোংরা জাহিলিয়াতের সমুদ্রে গা ভাসাক।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

One Response

  1. Khalid

    Thank you. most important post. it’s not possible to control over without parenting from childhood, and it’s very easy to safe with having practice religion from childhood”

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive