পার্থিব লাভ কিংবা আগ্রহ যেটাই হোক না কেন, মাতৃভাষার বাইরেও আমরা অনেক ভাষা শিখে থাকি। তবে এর মধ্যে আরবি ভাষা শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি নয়, যেহেতু আমরা এটা শিক্ষা করার লাভ সম্পর্কে অবগত নই অথবা তেমন চিন্তা করে দেখিনি। এখানে আমরা আরবি ভাষা শিক্ষার কয়েকটি গুরুত্ব সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করতে চাই।

আরবি ভাষা শেখার অনেকগুলো কারন রয়েছে। প্রথমটা অবশ্যই কুরআনকে বুঝতে পারা। মহান আল্লাহ কুরআনে যেখানে আরবি ভাষার উল্লেখ করেছেন সেখানে আরবি ভাষার মর্যাদা বর্ণনা করেননি বরং মূলত এটা বুঝিয়েছেন যে, তোমাদের জানা আরবী ভাষায় নাযিল করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার। তিনি বলেন,

IIRT Arabic Intensive

إِنَّاجَعَلْنَاهُ قُرْآنًاعَرَبِيًّالَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

আমি একে করেছি কোরআন, আরবি ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝ। (কুরআন ৩৪:৩)

অন্যান্য কিতাবগুলোও স্ব স্ব নবীর মাতৃভাষায় নাযিল হয়েছে। ভাষাটা এখানে মূখ্য নয়। মূখ্য হল বার্তা বা সংবাদ যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বোঝাতে চান। আরবীকে এজন্যই কুরআনের ভাষা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে যেন আরববাসীরা তা বুঝতে পারেন। মহান আল্লাহ বলেন,

كَذَٰلِكَ أَوْحَيْنَاإِلَيْكَ قُرْآنًاعَرَبِيًّالِّتُنذِرَأُمَّ الْقُرَىٰ وَمَنْ حَوْلَهَا

এমনিভাবে আমি আপনার প্রতি আরবি ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন। (কুরআন ৪২:৭)

তাহলে প্রশ্ন আসে যে অনারবরা যাদের ভাষা আরবি নয় তারা কিভাবে বুঝবে! উত্তর খুব সহজ, তাদেরকে এটা শিখতে হবে। আর যেহেতু এই কাজটা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষকেই করতে হবে এজন্য মহান আল্লাহ এর শিক্ষাকে সহজ করেছেন। তিনি বারংবার কুরআনে উল্লেখ করেন,

وَلَقَدْيَسَّرْنَاالْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ

আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। (কুরআন ৫৪:১৭)

দ্বিতীয়ত, আরবি জানলে কুরআনের আয়াত বা হাদিস মুখস্ত করা অনেক সহজ হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ আমরা কদরের নিম্নোক্ত আয়াত তিনটি লক্ষ্য করি,

[إِنَّاأَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِالْقَدْرِ [٩٧:١] وَمَاأَدْرَاكَ مَالَيْلَةُالْقَدْرِ [٩٧:٢] لَيْلَةُالْقَدْرِخَيْرٌمِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ [٩٧:٣

প্রথম আয়াতে আমরা দেখছি “লাইলাতিল কাদরি” পরের আয়াতগুলোতে “লাইলাতুল কাদরি”। যারা আরবি জানেন না তারা মনে রাখেন এভাবে যে প্রথমে “লাইলাতিল” ও পরের দু’টিতে “লাইলাতুল”। এমনিভাবে কুরআনে আপনি দেখবেন কোথাও মু’মিনুন আবার কোথাও মু’মিনিন। সাধারণভাবে মুখস্ত রাখা অনেক কষ্টসাধ্য, কিন্তু আরবি জানা থাকলে বাক্যের গঠনই আপনাকে বলে দেবে কোথায় কি হবে।

তৃতীয়ত, কুরআন হাদিসের উপস্থাপন সহজ ও প্রাণবন্ত হবে যখন আপনি ভাষার প্রয়োগ ও প্রকাশ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। আরবি না জানলে আপনাকে আলাদা করে পুরো বাক্যের অর্থ মুখস্ত করতে হবে। সেক্ষেত্রে একদিকে যেমন দ্বিগুন সময় ও শ্রম প্রয়োজন তেমনি আয়াত বা হাদিসের শব্দে শব্দে বিচরণ করা সম্ভব হয়না।

চতুর্থত, কুরআনের অনেকগুলো আলৌকিকত্বের মধ্যে একটা হল তার ভাষা। যেটা চোখ দিয়ে দেখা যায় না, অন্তর দিয়ে দেখতে হয়। আরবি ভাষা বোঝা ব্যাতিত এই আধ্যাত্মিকতা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কুরআনের অলঙ্কার, ছন্দ ও তথ্যের উপস্থাপন এমন যে মহান আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত মানব জাতিকে চ্যালেঞ্জ করে রেখেছেন যে কেউ এর মত একটা সূরাও রচনা করতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন,

وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّانَزَّلْنَاعَلَىٰ عَبْدِنَافَأْتُوابِسُورَةٍمِّن مِّثْلِهِ

যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। (কুরআন ২:২৩)

মানুষ ও জ্বীন উভয়ে মিলেও কেন কুরআনের একটা সূরা রচনা করতে পারবে না? কি এমন গভীরতা এর মাঝে যেখানে কেউ কোনদিন পৌঁছাতে পারবে না? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদেরকে অবশ্যই আরবি জানতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা অনুবাদ কখনই আল্লাহর কালাম নয়। একটা ভাষার অনুবাদ কখনই অনুবাদকৃত ভাষাকে পুরোপুরি ধারন করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ একটি বাংলা কবিতার ইংরেজি অনুবাদ পড়ে যদিও কবিতার ভাবার্থ বোঝা যায়, কিন্তু কখনই কবিতার আসল স্বাদ ও সৌন্দর্য উপলব্ধি করা যায় না।

সবকিছু বিবেচনায় মহান আল্লাহর কালামকে পুরোপুরিভাবে অনুভব করতে হলে আরবি জানার বিকল্প নাই।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive