ইবরাহীমের (‘আলাইহিসসালাম) অনুসারী দাবীদারদের অধিকাংশই (অর্থাৎ মুসলিম, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানগণ) পরকাল এবং জান্নাত ও জাহান্নামের অস্তিত্বে বিশ্বাসী। পুনর্জন্মে বিশ্বাসীরা বিশ্বাস রাখে যে মৃত মানুষ তার কর্মের ভিত্তিতে ভালো বা খারাপ জীবন নিয়ে পুনর্জন্ম লাভ করে। এর বিপরীতে ইবরাহীমের অনুসারীগণ মানেন যে জীবন মাত্র দুটিই। একটি মায়ের গর্ভ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, আরেকটি মৃত্যুর পর আখিরাতে পুনরুত্থান।

পুরষ্কার বনাম শাস্তি

তো সকল ধর্মের অনুসারীরাই পুরষ্কার ও শাস্তির ধারণায় বিশ্বাসী। কিন্তু সবার ধারণার প্রকৃতি ঠিক একই রকমের নয়। ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্মের মতো ইসলামেও আল্লাহকে ন্যায়বিচারক বলে বিশ্বাস করা হয়। তিনি দ্রুত পুরষ্কার দেন এবং শাস্তি দিতে দেরী করেন। কিন্তু তিনি যদি প্রেমময় সত্ত্বাই হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি শাস্তি দেন কেন?

IIRT Arabic Intensive

এ আলোচনা গড়ায় আমরা আসলেই আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করি কিনা সেই প্রশ্নে গিয়ে। আমরা যদি সত্যিই তাঁর অস্তিত্ব এবং পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করি, তাহলে মানতেই হবে যে তিনি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করবেন। এটি সম্ভব শুধুমাত্র তাঁর নবীদের কাছে পাঠানো ওয়াহীর মাধ্যমে যা তাঁরা স্বজাতির কাছে পৌঁছে দেন। প্রতিটি সংরক্ষিত ঐশী গ্রন্থই একজন দয়ালু স্রষ্টার নিদর্শন বহন করে। বিভিন্নভাবে আল্লাহ আমাদের সঠিক পথের ব্যাপারে জানিয়েছেন যাতে মানুষ ভুল না করে। কাজেই মুমিনের জন্য আল্লাহর ভয় হলো তার ঈমানকে মজবুত করার অংশ। আল্লাহকে বিশ্বাস করতে হলে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ভয় এবং আশা থাকতেই হবে।

ভালোবাসা এবং আশার আলোচনা অত্যন্ত ব্যাপক। এখানে যেহেতু আল্লাহর শাস্তি ও ন্যায়বিচার নিয়ে কথা হচ্ছে, তাই আমরা ভয়ের অংশটি নিয়েই আলোচনা করবো। কারণ এটিই হলো জাহান্নাম থেকে মুমিনের মুক্তির হাতিয়ার।

মুমিনের ভয় ও আশা

পুরষ্কার, শাস্তি এবং এদের যে কোনো একটি অর্জনের উপায় সম্পর্কে একজন মুমিন জানে। জানে বলেই সে আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে তাঁর সন্তুষ্টির নিকটবর্তী হতে চায়। এভাবেই তার আত্মিক পরিশুদ্ধি সম্পূর্ণ হয়। সে আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহকে সম্মান করে, সচেষ্ট থাকে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়ে আল্লাহর রহমতের খোঁজ করে। কারণ এটিই তাকে বিচার দিবসের ভয়াবহ অবস্থা এবং জাহান্নামের চিরস্থায়ী আযাব থেকে রক্ষা করবে।

“যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্য তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোনো আশংকা নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” [সূরা বাকারাহ (২):২৭৪]

কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, যে মুমিনের অন্তরে তাকওয়া আছে এবং আল্লাহর যাত ও সিফাত নিয়ে যে চিন্তাভাবনা করে, তার অন্তরে অবশ্যই আল্লাহর বড়ত্বের অনুভুতি জাগ্রত হবে। তাঁর অসীম ক্ষমতা মুমিনের হৃদয়ে ভয়ের সৃষ্টি করবে। ফলে সে ইখলাসের সহিত নিজেকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি উদ্রেককারী কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে। ফলে আল্লাহ তাকে পুরষ্কৃত করবেন দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে জান্নাত দান করার মাধ্যমে।

“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।” [সূরা আর-রহমান (৫৫):৪৬]

তারপরও প্রশ্ন আসতে পারে যে কীভাবে কেউ জানবে কীসে আল্লাহ খুশি হন আর কীসে নারাজ হন। উত্তর সোজা। আল্লাহ কোরআনে যা বলেছেন তার ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করার মাধ্যমে।

“আল্লাহর বান্দাদের মাঝে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।” [সূরা ফাতির (৩৫):২৮]

এমন এক মুমিন অবশ্যই জানবে যে আল্লাহর ন্যায়বিচারের কোনো তুলনা হয় না। আল্লাহ যা কিছুর ব্যাপারে ভয় দেখিয়েছেন, তার সবকিছুতে সে বিশ্বাস করে।

“এবং (মুমিন তো তারাই) যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তাদের পালনকর্তার শাস্তি সম্পর্কে ভীত-কম্পিত। নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্ক থাকা যায় না।” [সূরা আল-মাআরিজ (৭০):২৬-২৮]

এমনটাই রবের ন্যায়বিচার। মুমিন কেবল তাঁর প্রতিই আশা ও ভয় রাখে।

“…তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয় ও আশা সহকারে…।” [সূরা সাজদাহ (৩২):১৬]

এ প্রসঙ্গে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,  “মুমিনের হৃদয় যখন ভয় ও আশায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, আল্লাহ তখন তার আশা পূরণ করেন এবং সে যার ভয় করে তা থেকে তাকে রক্ষা করেন।” (ইবনে মাজাহ)

আল্লাহর ন্যায়বিচার

আখিরাত অস্বীকারকারীরা বিচার দিবসে জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করলে তাদের অবস্থা কেমন হবে?

“…তারাই সত্যিকার ক্ষতিগ্রস্ত যারা তাদের নিজেদের ও পরিবারের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেনে রাখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি। তাদের জন্য উপর ও নিচ হতে আগুনের জ্বালা থাকবে। এ শাস্তি দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন যে, হে আমার বান্দারা! আমাকে ভয় কর।” [সূরা আয-যুমার (৩৯):১৫-১৬]


উৎস: অ্যাবাউট ইসলাম ডট নেট (মূল আর্টিকেল লিংক)

অনুবাদ: আরমান নিলয়, মুসলিম মিডিয়া প্রতিনিধি

অনুবাদ কপিরাইট ©  মুসলিম মিডিয়া

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive