আচ্ছা, আল্লাহ্‌ যে আছে এর প্রমাণ কী? প্রমাণ মানে এই ‘জ্ঞান’ এর উৎস কী? আমরা সাধারণত ‘জ্ঞান’ আর ‘জ্ঞানের উৎস’কে ‘সমার্থক’ শব্দ হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। প্রথম প্রশ্নের সিম্পল উত্তর হচ্ছে ‘ওয়াহী’ বা ‘Revelation’, ‘Revealed Knowledge’। যেমন, আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেছেন

জেনে রাখুন (ফা’আলাম), আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। [সূরাহ মুহাম্মাদ (৪৭):১৯]

এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের কাছে যেই ‘জ্ঞান’ বা ‘ইলম’টা এসেছে, তা হচ্ছে ‘আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই’।

IIRT Arabic Intensive

ইউরোপিয়ান রেনেসাঁর ফলে ‘সাইন্টিফিক কমিউনিটি’র কাছে ‘রোমান ক্যাথলিক’ ধর্মের পরাজয় হয়। এর প্রধান কারণ চার্চের বিভিন্ন টিচিং (জ্ঞান) এর সাথে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ডিসকভারি বা আবিষ্কার (জ্ঞান) এর ‘কনফ্লিক্ট’। সারা বিশ্বে ইউরোপ বা পাশ্চাত্যের বিজয়ের ফলে জ্ঞানের উৎস থেকে ‘ওয়াহী’কে বাদ দেওয়া হয়। জ্ঞান বলতে এখন আমাদের বুঝানো হয়, ‘‘যা মানুষ তাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারে, তা-ই জ্ঞান। এই জ্ঞান ‘পর্যবেক্ষণ’ (অবজারভেশন), ‘এক্সপেরিমেন্ট’ বা হিউম্যান অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পাওয়া যায়।’’ এই জ্ঞানের ডেফিনেশন এতই জনপ্রিয় যে, এমনকি স্রষ্টার অস্তিত্বও এই ‘ম্যাটিরিয়ালিস্টিক জ্ঞান’ এর দ্বারা সাব্যস্ত হতে হবে বলে অনেকেই বিশ্বাস করে। যেমন, রিচার্ড ডকিন্সকে একজন প্রশ্ন করেছিলো, ‘‘আচ্ছা, আকাশ ভেদ করে কেউ একজন এসে যদি বলে ‘আই অ্যাম ইওর লর্ড,’ তখন কি আপনি বিশ্বাস করবেন?’’ তার উত্তর ছিলো, ‘‘ব্যাপারটা নিয়ে আসলেই আমি ভয় করি।’’[১] এর মূল কারণ হচ্ছে, রিচার্ড ডকিন্সের কাছে ‘জ্ঞান’ হচ্ছে তা-ই, যা ‘চোখে’ দেখা যায়, মানুষ ‘ইন্দ্রিয়ে’র মাধ্যমে যা উপলব্ধি করতে পারে।

জান্নাত, জাহান্নাম বা পরকাল যে আছে, তা আমরা কীভাবে জানি? আমি তো আপনাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবো না এই যে দেখেন, এইটা পরকাল, এখান থেকে দু’শ কিলোমিটার দূরে, গুগল ম্যাপে দেখা যাচ্ছে! তবে আমি কীভাবে জানি? আমার মেন্টাল ফ্যাকাল্টি (হিউম্যান রিজনিং) ব্যবহার করে আমি কিছু ধারণা পাই। পরকাল বলতে যদি কিছু না থাকে, তবে ওই যে পদ্মা সেতুর টাকা মারলো, ওই যে ব্যাংকের টাকা হাইজ্যাক করলো, ওই যে একশ তরুণীকে ধর্ষণ করলো এরপর সহপাঠীদের মিষ্টি খাওয়ালো, ওই যে ইরাকে লক্ষ লক্ষ লোক মারলো, এদের কি কোনো বিচার হবে না? আমার হিউম্যান রিজনিং বলে, এদের বিচার হতেই হবে। সত্যের জয় হতেই হবে। রিভিলেশন বা ‘ওয়াহী’ যখন আমার এই রিজনিং এর সাথে মিলে যায় বা আমার রিজনিংকে ‘কনফার্ম’ করে, তখন আমি নিশ্চিত ‘পরকাল’ আছে। আল্লাহ্‌ বলেছেন,

যারা দুষ্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মতো করে দেবো, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ! [সূরাহ আল-জাসিয়াহ (৪৫):২১]

মন্দ লোক আর ভালো লোকদের ফলাফল আল্লাহ্‌ সমান করে দেবেন না। ইরাকের যেই ছোট্ট মেয়েটিকে আমেরিকান সেনারা ধর্ষণ করেছে, আবু গারিব কারাগারে যেসব যুবতীদের দৈনিক ১০-১২ জন মার্কিন সেনা পালাক্রমে ধর্ষণ করতো, এসব ঘটনা কালের স্রোতে ভেসে যাবে না। এদের শাস্তি হবেই, জাস্টিস প্রতিষ্ঠা হবেই।

এখন যদি কেউ এসে বলে, ওকে আমার কাছে ‘ওয়াহী’ এসেছে মাটির তৈরি এই মূর্তিকে পূজা করতে হবে? তখন আমি কি মেনে নেবো? ইব্রাহীম (‘আলাইহিসসালাম) এর জাতির দাবী ছিলো এইটা। ইব্রাহীম (‘আলাইহিসসালাম) গিয়ে মূর্তিগুলো ভেঙে দিলেন। যে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না, সে কীভাবে আমাকে রক্ষা করবে? অনেক আগে একজন আমাকে বললো একটা বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে, বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় মূর্তিগুলো নাকি দুধ পান করতেছে। আমি বললাম, আমি তো প্রতিদিন দুধ পান করি! ইতিহাসে একদিন দুধ পান করায় যদি এগুলো পূজার যোগ্য হয়ে যায়, তাহলে আমি কি পূজিত হওয়ার যোগ্য নই?

আচ্ছা রিচার্ড ডকিন্স, কিংবা স্টিফেন হকিং কি জ্ঞানী নয়? আল্লাহ্‌ বলেছেন,

তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে (ইয়া’লামুনা) এবং তারা পরকালের খবর রাখে না। [সূরাহ আর-রূম (৩০):৭]

সমস্যা হলো, ফিজিক্সের সূত্র দিয়ে মেটাফিজিক্যাল বিষয়ে কমেন্ট করা। যেখানেই ‘মানবীয় বুদ্ধি’ শেষ, সেখান থেকেই ‘মেটাফিজিক্স’ শুরু। এখানে দু’টো বিষয়। এক হচ্ছে বিশ্বের বাহ্যিক দিক যা আমরা হিউম্যান সেন্সের দ্বারা, হিউম্যান এক্সপেরিয়েন্স, অবজারভেশনের দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি। আরেকটা হলো ‘পরকাল’ যা হিউম্যান রিজনিং এর দ্বারা উপলব্ধি করা গেলেও, রিভিলেশন বা ‘ওয়াহী’ ছাড়া প্রমাণ করা যায় না। তাহলে দু’ধনের নলেজ বা ‘জ্ঞান’ পাওয়া গেলো। একটা সাইন্সের বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে অর্জন করা যায়; আরেকটা লজিক্যাল হলেও, চূড়ান্ত কনফার্মেশনের জন্য ‘ওয়াহী’ এর দরকার হয়। যেমন, জীবনের উদ্দেশ্য কী? এর উত্তরের জন্য ‘ওয়াহী’ দরকার, নেচারাল সাইন্স এর উত্তর দিতে পারবে না। যেমন, আল্লাহ্‌ বলেছেন,

আমার ইবাদাত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। [সূরাহ আয-যারিয়াত (৫১):৫৬]

নাসা তো ‘নিউ হরাইজন’ স্পেস ক্রাফটকে পৃথিবী থেকে মাত্র ৭.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে প্লুটোতে পাঠিয়েছে। মানবজাতি যদি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে ২.৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অ্যান্ড্রোমিডাতেও যেতে সক্ষম হয়, সৃষ্টির উদ্দেশ্য বের করতে পারবে না ‘ওয়াহী’ ছাড়া।

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর। [সূরাহ আন-নাহল (১৬):৭৮]

আল্লাহ্‌ আমাদেরকে এমনভাবে মায়ের গর্ভ থেকে বের করেন, যখন আমরা কিছুই জানতাম না। এরপর আমরা জ্ঞান অর্জন করি কানে শুনে, চোখ দিয়ে দেখে, ও অন্তকরণের মাধ্যমে, যা আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাকে ওয়াহী করেন বা ইলহাম করেন। আল্লাহ্‌ বলেছেন

এমন লোকও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতণ্ডা করে। [সূরাহ লুকমান (৩১): ২০]

আল্লাহ্‌র কিতাব হচ্ছে জ্ঞানের একটা উৎস, বরং প্রধান উৎস যার মাধ্যমে মানুষ পথনির্দেশ পেয়ে থাকে। আসলে আল্লাহ’র কিতাব হচ্ছে ‘অ্যাবসোলিউট নলেজ’ বা ‘ইলমে’র উৎস। এর বাইরে সাইন্টিফিক ডিসকাভারিগুলো হচ্ছে স্পেকুলেশান বা ধারণা। বরং একটা ধারণা থেকে অন্যটা থেকে উন্নতমানের, এই যা! যেমন, বিগ ব্যং এর ফলে মিলিয়ন বছর ধরে এই বিশ্ব পেরিয়ে আজকের আমরা। ব্যাপারটা হচ্ছে, আমরা কেউই টাইম মেশিনে চড়ে মিলিয়ন বছরে কী হয়েছিলো তা দেখে আসতে পারবো না। ইনফ্যাক্ট, এই মর্মে কোনো ইতিহাসও রেকর্ডেড নেই। সৃষ্টির শুরু থেকে এই পর্যন্ত যা বর্ণনা করা হয়, এটাকে বলা যায় দুয়ে দুয়ে চার মিলানো। আমরা কিছু এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে এবং বর্তমানের কিছু ডেটা বা এভিডেন্সের ওপর ভিত্তি করে মিলিয়ন বিলিয়ন বছরের একটা ‘গল্প’ সাজালাম। এটা হচ্ছে এক্সট্রাপোলেশান (Extrapolation), ধারণা, অ্যাবসোলিউট জ্ঞান নয়।

তাই মানুষের এক্সপেরিমেন্ট বা সাইন্টিফিক ডিস্কাভারিগুলো বড়জোর মানুষকে কোনো বিষয়ে ধারণা দিতে সক্ষম হতে পারে, অ্যাবসোলিউট ট্রুথ বা জ্ঞান দিতে সক্ষম নয়। আরেকটা উদাহরণ দেওয়া যাক। চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রতি বছর ৩.৭৮ সেঃ মিঃ করে দূরে সরে যাচ্ছে, মানে আমাদের হাতের নখ এক বছরে যতটুকু বড় হয় ততটুকু করে।[২] এটাকে বলা যায় ‘জ্ঞান’। এখন এর ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে যে চাঁদ আসলে একসময় পৃথিবীর অংশ ছিলো, পৃথিবী থেকে স্প্লিট হয়ে চাঁদের সৃষ্টি। কারণ, চাঁদের দূরে সরে যাওয়াকে রিভার্স করলে, মানে সময় এর উল্টো দিকে চললে দেখা যায়, চাঁদ পৃথিবীর সাথে মিশে যায়, ক্ল্যাশ করে। এটা হচ্ছে ‘ধারণা’।

রিভিলেশন বা ‘ওয়াহী’র দ্বারা কনফার্ম হওয়া ছাড়া সবই আমাদের ধারণা মাত্র, কারণ সবকিছুর অ্যাবসোলিউট রিয়েলিটি আমরা জানি না। যিনি এসব সৃষ্টি করেছেন, তিনি জানেন। আমার কাছে নলেজ হচ্ছে এই যে, আমি চাঁদকে দেখি তা একটা রুটির মতো দেখায়। চাঁদের বুকে কালো কালো মারিয়াগুলো দেখা যায়। এই যা। হাবল টেলিস্কোপে যে চাঁদকে দেখে, সে আরও বড় দেখে। এটা তার কাছে চাঁদ সংক্রান্ত জ্ঞান। আর চাঁদ কীভাবে এলো, এই সংক্রান্ত সকলকিছুই ‘ধারণা’, যা আমাদেরকে বড়জোর ‘ধারণা’ দিতে সক্ষম, অ্যাবসোলিউট ট্রুথ নয়! এজন্যেই ইমাম আওযা’ঈ ও ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুমাল্লাহ) বলেছেন, “‘ইলম’ তা-ই, যা মুহাম্মদ ﷺ এর সাহাবীরা বর্ণনা করেছেন, অন্য যা আছে তা ‘ইলম’ বা জ্ঞান নয়”।[৩]

আচ্ছা, আমার কাছে কীভাবে এই ‘জ্ঞান’ এসেছে যে এই দেশে ৭১ এ যুদ্ধ হয়েছিলো? বা আরোও আগে শায়েস্তা খানের আমল যে এই ভূমিতে অতিবাহিত হয়েছে, তা কীভাবে আমরা জানি? উত্তর: সাক্ষ্যের (Testimony) মাধ্যমে। এই সাক্ষ্য হতে পারে লিখিত, বা মৌখিক। যখন সাক্ষ্যদাতার পরিমাণ অনেক হয়, তখন আর সন্দেহ থাকে না। হাদীসের ভাষায় এটাই মুতাওয়াতির, মানে কোনো বিষয়ে এত জন সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, মিথ্যার ওপর একমত হওয়া তাদের পসিবল না। সৃষ্টিকর্তা অনেক রাসূল পাঠিয়েছেন তাঁর একত্ববাদ প্রচার করার জন্য, লিখিত ইতিহাসেও আমরা অনেকের নাম জানতে পারি। তাঁদের সোর্স অব নলেজ যদি এক জায়গা না হতো, তাহলে একই মেসেজ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। যেখানে একেকজন এসেছেন ভিন্ন ভিন্ন সময়, ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। এটাই মুতাওয়াতির বা কনকারেন্ট নলেজ। মানুষের সাক্ষ্য কতটুকু বিশ্বাস করবো, তা নির্ভর করে সাক্ষ্যদাতার সত্যবাদিতার ওপর। যেমন, চট্টগ্রাম থেকে কেউ এসে বললো, সেখানে বন্যা হচ্ছে। আমার যদি অন্য কোনোভাবে ইনফরমেশনের সোর্স না থাকে, তবে আমাকে এই ব্যক্তির সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। এখন আমি যদি আগে থেকেই জানি যে এই ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলতে অভ্যস্ত, আমি নিশ্চয়ই তার কথা বিশ্বাস করবো না। তার সাক্ষ্য বাতিল।

যেমন, যুক্তরাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যাগাজিন এর এক সার্ভেতে দেখা গেলো ২৫ ভাগ ব্রিটিশ নাগরিক নাসা যে চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছে, তা বিশ্বাস করে না।[৪] এর কারণ কী? কারণ চন্দ্র অভিযান নিয়ে ‘ইলম’ বা ‘জ্ঞান’ এর একমাত্র উৎস নাসা (NASA). যেহেতু প্রত্যেক মানুষের পক্ষে চন্দ্র অভিযানের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব না, তাই তারা এক্ষেত্রে নাসার সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে। যেহেতু তারা নাসাকে ‘সাক্ষ্যে’র জন্য বিশ্বাস যোগ্য মনে করে না, তাই তারা তাদের ইনফরমেশনেও বিশ্বাস করে না। আমাদের দেশের যেই ছেলেটি বিবর্তনবাদ নিয়ে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে, তার পক্ষে হয়তো জীবনেও কোনো জীবাশ্ম বা এর পক্ষের এভিডেন্সগুলো দেখে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব না। এমনকি প্রত্যেক সাইনটিস্টও নিজস্ব বিষয়ের সব কিছু এক্সপেরিমেন্ট করে দেখে না, তারা জাস্ট অন্যদের সাক্ষ্যের ওপর ডিপেন্ড করে। এখন যেই ছেলেটা বিবর্তনবাদ নিয়ে প্রতিদিন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ধর্মকে ‘অন্ধবিশ্বাস’ বানিয়ে প্রচার করছে, সে হয়তো রিচার্ড ডকিন্সদের কমিউনিটির সাক্ষ্যকে ‘ওয়াহী’র মতো বিশ্বাস করে। কিন্তু সবাই তো রিচার্ড ডকিন্সের সাক্ষ্যকে বিশ্বাস করে না!

শেষ কথা কী? ‘Absence of Knowledge is not Knowledge’! আমি জানি না বা আমার পক্ষে অবজার্ভ করা সম্ভব না ‘পরকাল’ আছে কি না, তার মানে এই না যে পরকাল নেই। আম যদি বলি পরকাল নেই, তার মানে আমি আমার জ্ঞানহীনতাকেই জ্ঞান মনে করছি! এই ডিলিউশনেই ভুগছে পূর্ব ও পশ্চিমের অনেক সাইন্টিস্ট ও তাদের অনুসারীরা, বরং পুরো সাইন্টিফিক কমিউনিটি এই ডিলিউশনে পড়েছে। কুর’আন ও সুন্নাহ হচ্ছে ‘ইলমে’র প্রধান উৎস। বরং অ্যাবসোলিউট ট্রুথ জানার একমাত্র উৎস হলো ওয়াহী বা রিভিলেশন । স্টিফেন হকিন্সরাও জ্ঞান রাখে, তবে তা হচ্ছে কেবল এই বাহ্যিক জীবনের জ্ঞান। মানুষ বিভিন্ন ভাবে ‘ইলম’ অর্জন করে। এক্সপেরিমেন্ট, অবজারভেশন, অন্যের দেওয়া সাক্ষ্য, রিভিলেশন বা ওয়াহী। ওয়াহী থেকে প্রাপ্ত সব জ্ঞান অবজারভেশনের মাধ্যমে জানা সম্ভব না। যদি তা-ই হতো, তবে ‘ওয়াহী’র দরকার হতো না।

গ্রন্থাবলি ও তথ্যসূত্র

১। ‘Head to Head – Dawkins on religion: Is religion good or evil?’ (Al Jazeera English)

২। ‘Why the Moon is getting further away from Earth’ (BBC)

৩। আল হাফিজ ইবনু রজব আল হাম্বলী, The Excellence of Knowledge: The virtue of the salaf over the khalaf পৃ: ৫০

৪। ‘Could moon landings have been faked? Some still think so’ (CNN)

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

IIRT Arabic Intensive