ভালোবাসা, পরিমাপ করে বোঝানোর বাইরের এক অনুভূতি। ভালোবাসা শক্তিশালী, সুন্দর, ভয়ঙ্কর। ভালোবাসা চঞ্চল, ভালোবাসা বুকের মাঝে জাগায় সুখের মতো ব্যথা। শেষমেশ ভালোবাসা- বিমূর্ত এক বস্তু! এর যেমন শক্তি আছে একজনকে সুখের সর্বোচ্চ চূড়ায় তুলে নিয়ে যাবার, তেমনি তমসাচ্ছন্ন গভীর গহ্বরে ডুবিয়ে দেয়ার মতো ক্ষমতাবান এই ভালোবাসা।

পুরো জীবন জুড়েই একজন মানুষ বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন মাত্রার ভালোবাসায় সিক্ত হয়। কিন্তু অনুগত ঈমানদারের মনে এমন এক ভালোবাসা থাকে, যা চিরস্থায়ী। আর তা হলো আল্লাহর রাসূল ﷺ এর জন্য তার ভালোবাসা।

IIRT Arabic Intensive

রাসূলুল্লাহ ﷺকে ভালোবাসার বহু কারণ আছে। সেগুলো নাহয় অন্য কোনোদিন বলা হবে। কিন্তু এই লেখায় রাসূলুল্লাহ (সা.)কে সত্যিকারের ভালোবাসার চিহ্নগুলো নিয়ে কথা শুরুর আগে একটা হাদীস আবারও মনে করে নেয়া যাক। অসাধারণ হৃদয়গ্রাহী এই হাদীস রাসূল (সা.) এর প্রতি একজন মুমিনের ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

একদিন মুমিনগণের মা, আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে বসা ছিলেন। রাসূল ﷺ-কে বেশ উৎফুল্ল দেখে তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন।”

রাসূলুল্লাহ ﷺ তার প্রিয়তমা স্ত্রী আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-র জন্য দু’আ করলেন :

“হে আল্লাহ! আমার আয়েশাকে মাফ করে দাও। তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দাও, তার আগামীর গুনাহ মাফ করে দাও, তার গোপনে করা গুনাহ মাফ করে দাও, তার প্রকাশ্যে করা গুনাহও মাফ করে দাও।”

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দু’আ শুনে আয়েশা (রা.) খুব হাসলেন। এতই হাসলেন যে, তাঁর মাথা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোলে ঢলে পড়ল। আল্লাহর রাসূল ﷺ আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আয়েশা! আমার এই দু’আ কি তোমাকে আনন্দিত করেছে?” জবাবে আয়েশা (রা.) বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! কী করে এমন দু’আ কাউকে সন্তুষ্ট করতে না পারে?” আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ ﷺ তখন বললেন, “আল্লাহর কসম! আমি আমার উম্মতের জন্য আমার প্রতিটি নামাযে এই একই দু’আ করি।” [১]

যে মানুষটা আমার জন্য, আপনার জন্য প্রতিবার সালাতে এত সুন্দর দু’আ করেছেন, তাঁকে ভালো না বেসে কি পারা যায়? আমরা আমাদের নিজেদেরকে নিয়ে যতটুকু ভাবি, আল্লাহর প্রিয়তম রাসূল ﷺ আমাদেরকে নিয়ে তার চাইতেও অনেক অনেক বেশি ভেবেছেন। আমাদেরকে তিনি ভালোবেসেছেন তার চাইতেও বেশি, যতটা আমরা নিজেদেরকে বাসি। জীবনের শেষ তেইশটি বছর তিনি অনবরত উম্মতের জন্য দু’আ করে গেছেন। কত ত্যাগ কত সংগ্রাম তাঁর- শুধু আমাদের কল্যাণের জন্যই তো! অথচ তবুও আমরা মাঝেমাঝেই নিজেদের ঈমান আমল নিয়ে হয়ে পড়ি ভীষণ গাফেল।

আমরা হয়তো প্রতিনিয়তই দাবি করি যে আমরা নবীজিকে অসম্ভব ভালোবাসি। আসলেই কি তাই? কিছু মৌলিক লক্ষণের সাথে মিলিয়ে সেই দাবির সত্যতা কতটুকু, সেটা দেখে নেওয়া যাক-

তাঁর অনুসরণ এবং তাঁকে অনুকরণ:

ক্রীড়া, মুভি, রাজনীতির মাঠের সেলেব্রিটিদের অনুসরণ তো হরহামেশাই দেখা যায় চারপাশে। তাদেরকে ভালোবেসে, তাদের মতো হতে চেয়ে ঠিক তাদেরই মতো করে চুলের স্টাইল পাল্টে নেয় কত মানুষ! পোশাক, বাচনভঙ্গি এমনকি আচরণও বদলে যায় কতজনের।

রাসূলুল্লাহ ﷺকে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় চিহ্ন সম্ভবত হতে পারে আমাদের জীবনকে কয়েকটি সিদ্ধান্তের সমষ্টি বানিয়ে নেওয়া। যে সিদ্ধান্তগুলো আমরা নেব শুধুমাত্র আল্লাহর রাসূলকে অনুসরণ করার মানসে। একটা বিখ্যাত কথা তো আছেই, “Your actions are louder than your words.” অর্থাৎ, একজন নিজের সম্পর্কে যা-ই বলুক না কেন, তার কাজ দেখেই মানুষ বিচার করবে সে কেমন। তাই আমরা যখন দাবি করব যে আমরা রাসূল (সা.)কে ভালোবাসি, তাহলে আমরা যেন তাঁকে অনুসরণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। এই চেষ্টাই বলে দেবে আমাদের দাবি কতটুকু সত্য। অন্যভাবে বলতে গেলে- রাসূলুল্লাহ ﷺ কে অনুসরণে আপনার আন্তরিকতার পরিমাণ, আপনি তাঁকে ভালোবাসার সমানুপাতিক।

এই অনুসরণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহর আমলের অনুসরণের তুলনায় তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি আয়ত্বে আনাকে কম গুরুত্বের সাথে নিই। একজন আন্তরিক মুসলিম হিসেবে সাধারণত আমরা নতুন কোনো সুন্নাহসম্মত ইবাদাতের সুযোগ পেলে তা হাতছাড়া করতে চাইব না। আর এক্ষেত্রে অনেক সময়ই হয়তো আমরা সফলও হব; কিন্তু উত্তম চরিত্র গঠন যে ঈমানের অঙ্গ সেটাই ভুলে বসে থাকব। অথচ নিজের চারিত্রিক শুদ্ধি অর্জনই হলো নবী করিম ﷺ কে অনুসরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। সুতরাং রাসূলকে অনুকরণ এবং অনুসরণ করতে চাইলে তাঁর কর্মপদ্ধতির অনুসরণ করার পাশাপাশি তাঁর জীবনাচরণকেও প্রতিফলিত করতে হবে আমাদের জীবনে।

পরীক্ষা হয়ে যাক:

নিজেকে জিজ্ঞেস করি: আচ্ছা, আমার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কি ঠিক তার মতো হচ্ছে, যে আল্লাহর রাসূল ﷺ কে অনুসরণ করে চলে? আমার আচরণ দেখে আমাকে কার মতো মনে হয়? আমার পরিবারের লোকদের সাথে, আত্মীয়, প্রতিবেশীদের সাথে আমার আচরণ কেমন? আমার চেয়ে যারা ছোট তাদের সাথে, যাঁরা বড়, যারা আমার অধীনস্থ তাদের সাথে আমি কেমন ব্যবহার করি? একজন মুসলিমের সাথে আর একজন অমুসলিমের সাথে আমার আচরণ কেমন? রাসূল ﷺ কী করতেন?

তাঁর জীবনী পড়া:

যখন আপনি একজনকে ভালোবাসবেন, তখন আপনি চাইবেন সেই ব্যক্তির কাজ, কথা এবং বাকি সবকিছু সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব জানতে। সাহাবী (রা.) গণ তাঁদের সন্তানদেরকে শিশু বয়স থেকেই অন্য অনেক কিছু শেখানোর আগে রাসূল ﷺ এর জীবন ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন।

পড়তে জানা প্রত্যেক মুসলিমেরই উচিত যতটুকু সম্ভব রাসূলের জীবনী নিয়ে পড়াশোনা করা। তাঁর দয়া, ভালোবাসা, সহানুভূতি, আত্মত্যাগ, কথামালা, তাঁর সুমহান চরিত্র, উম্মাহর জন্য তাঁর উদ্বেগ এবং সমগ্র সৃষ্টির মহান স্রষ্টার বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালনে তাঁর যে কঠোর পরিশ্রম- এসবকিছু ঠিকভাবে জানতে এবং বুঝতে হলে তাঁর জীবনী পড়ার কোনো বিকল্প নেই। যার শুরুটা হতে পারে সীরাত গ্রন্থের কোনো একটি ঘটনা পড়ার মাধ্যমে। যেমন: “চাঁদ যখন দ্বিখণ্ডিত হলো,” কিংবা ভালো একটি বই বা ভিডিও সিরিজ শেষ করার মাধ্যমে। যেভাবেই হোক, একজন মুমিনের উচিত অন্তত একবার হলেও রাসূলের সীরাতের প্রাথমিক বিষয়গুলো হলেও জানা।

কারো সম্পর্কে বেশি বেশি জানার তীব্র ইচ্ছা ছাড়া তাঁকে কীভাবে ভালোবাসা যেতে পারে? প্রশ্নটি কঠিন হলেও আমাদের অনেকেরই এর মুখোমুখি হওয়া উচিত। আর সত্যি কথা হলো, আমরা নবীজি ﷺকে যত বেশি ভালোবাসব, তাঁকে জানার ব্যাকুলতা ততই বেড়ে যাবে আমাদের। একইভাবে সীরাতগ্রন্থ পড়ার একটি প্রশ্নাতীত লাভ হলো, এর মাধ্যমে তাঁর প্রতি ভালোবাসা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।

পরীক্ষা হয়ে যাক:

যদি আমাদের কারো এখনো কোনো সীরাত পড়া হয়ে না থাকে, তাহলে অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ের একটি সীরাত পড়া শুরু করে দেওয়া উচিত। হয় একা একা, অথবা পরিবারকে সাথে নিয়ে। যদি প্রাথমিক পর্যায়ের পড়াশুনা হয়ে থাকে তাহলে আরেকটু পরিণত এবং বিস্তারিত সূত্র সম্বলিত কোনো বই পড়া যেতে পারে।

কুরআন অধ্যয়ন

কুরআন, মহান আল্লাহর সর্বশেষ এবং শ্রেষ্ঠ উপহার, যা আল্লাহ তাঁর রাসূল ﷺএর ওপর নাযিল করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই আমরা এই উপহারের স্বাদ নিতে পারছি। এই হিসেবে নবীজী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা থাকার আরেকটি চিহ্ন হবে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, বুঝে বুঝে পড়া, এর অধ্যয়ন, নিজ জীবনে কুরআনের শিক্ষার প্রয়োগ ঘটানো, এবং অন্যদেরকেও যথাসম্ভব তা জানানো। কুরআন সকল আঁধার দূর করার আলো। অন্তরের যে কোনো রোগ দূর করার দাওয়াই। কুরআন সকল পথভ্রষ্টকে পথ দেখায়। এই কুরআন প্রথম পাঠানো হয়েছে, এর শিক্ষা প্রথম দেওয়া হয়েছে আল্লাহর রাসূল ﷺএর কাছেই। আর কুরআন তাঁর কাছে নাযিল হয়েছে শুধুমাত্র আমাদের উভয় জীবনের মঙ্গল এবং সাফল্যের জন্যই তো।

কাজে নেমে পড়ি:

আসুন প্রতিদিন অল্প অল্প করে হলেও কুরআন পড়তে চেষ্টা করি। মনে রাখতে হবে, লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই। কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোনো একটি ভালো এবং বিশুদ্ধ তাফসীর থেকে দেখে নিলে আমাদের পড়াশোনাটা আরও ফলপ্রসূ হবে ইনশা আল্লাহ। তখনই আমরা কুরআনকে আত্মস্থ করতে পারব, এর শিক্ষার ওপর মনোযোগী হতে পারব, পারব নিজেদের জীবনে এর প্রয়োগ ঘটাতে।

তাঁর প্রতি দরূদ প্রেরণ

“আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ”-এর যে কোনো অনুমোদিত পাঠ থেকে পড়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয়নবীর উদ্দেশ্যে শান্তি, অনুগ্রহ এবং দয়া পাঠানোর জন্য আল্লাহর কাছে বলি। আর আনন্দের ব্যাপার হলো, আমরা রাসূল ﷺ এর উদ্দেশ্যে একবার দরূদ পড়লে, আল্লাহ দশবার আমাদের জন্য শান্তি, অনুগ্রহ এবং দয়া প্রেরণ করেন। [২] তাছাড়া যতবার আমরা তাঁর জন্য সালাম প্রেরণ করি, ততবারই একজন ফেরেশতা সেই সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছে দেন। [৩] পরিশেষে বলা যায়, আমরা যত বেশি তাঁর প্রতি দরূদ পড়ব, শেষ বিচারের দিন আমরা তাঁর তত বেশি কাছাকাছি থাকতে পারব। এবং সেই মহান দিনে রাসূল ﷺ এর সুপারিশও আমাদের ভাগ্যে জুটবে তত বেশি।

কাজে সম্পাদন:

প্রাথমিকভাবে আমরা সকালে দশবার, সন্ধ্যায় দশবার করে রাসূলুল্লাহর উদ্দেশ্যে দরূদ পাঠানোর অভ্যাস দিয়ে শুরু করতে পারি [৪] প্রতিদিন। এই চর্চাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব এরপর নিয়মিত। রাতে দিনে যখনই সময় পাই, বিশেষত যখনই তাঁর কথা আমাদের মনে পড়বে বা তাঁর নাম আমাদের সামনে উল্লেখ হবে, তখনই আমরা নবীজীর জন্য সালাম প্রেরণ করব।

তিনি যা ভালোবেসেছেন তাকে ভালোবাসা

এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে ইবাদতের বিভিন্ন উপায়। যেমন- প্রতি সোম এবং বৃহস্পতিবার সাওম পালন করা, রাতে তাহাজ্জুদ পড়া ইত্যাদি। আর যত বেশি সম্ভব সুন্নতের অনুসরণ করতে পারি আমরা। যেমন- মিসওয়াক ব্যবহার বা সাদা কাপড় পরিধান। রাসূলুল্লাহ ﷺকে ভালোবাসার এই চিহ্নের মধ্যে আরও আছে তিনি যাঁদেরকে ভালোবেসেছেন এবং তাঁকেও যাঁরা ভালোবেসেছেন অন্তরে তাঁদের প্রতি গভীর ভালোবাসা রাখা। অর্থাৎ সমস্ত সাহাবী (রা.) কে সমানভাবে ভালোবাসা। এই বৈশিষ্ট্য সেসমস্ত ব্যক্তির জন্য লিটমাস পেপারের মতো কাজ করবে যারা আল্লাহর রাসূল ﷺ কে ভালোবাসার দাবি করে অথচ তাঁর ভালোবাসার সম্মানিত সাহাবিদের ব্যাপারে খারাপ ধারণা রাখে। নাঊযুবিল্লাহ।

তাঁর কথা স্মরণ করা এবং জান্নাতে তাঁর প্রতিবেশী হওয়ার আশা করা

আমরা যখন কাউকে ভালোবাসি, তখন প্রায়ই আমাদের তার কথা মনে পড়ে। সুতরাং যত বেশি আমাদের মনে আল্লাহর শেষ নবী ﷺ এর জন্য ভালোবাসা বিরাজ করবে, তত বেশি সময় জুড়েই তো তিনি আমাদের অন্তরে থাকবেন। তাঁর জীবন, কর্মপদ্ধতি নিয়ে তত বেশি আমরা চিন্তাভাবনা করব। আর তবেই না আমরা বেশি বেশি দু’আ করতে পারব যেন পরকালে তাঁর সাথে, জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে আমরা একত্রিত হতে পারি।

কাজে নেমে পড়ি:

আসুন, আমাদের প্রতিদিনকার মুনাজাতে জান্নাতে রাসূল ﷺএর প্রতিবেশী হতে পারার দু’আও যুক্ত করি।

অন্যদেরকে রাসূল সম্পর্কে জানতে এবং তাঁর অনুসরণে উদ্বুদ্ধকরণ

কাউকে ভালোবাসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো- একজন ব্যক্তি চায় তার ভালোবাসার মানুষটি সম্পর্কে অন্যরাও জানুক। আর সেই মানুষটি যদি আমার, আপনার, আমাদের বন্ধু-পরিচিত সকলের এই জীবনে সফলতার এবং পরের জীবনে মুক্তির একমাত্র উপায় হন, তাহলে তো কথাই নেই। পরিবার ও বন্ধুদের কাছে রাসূল ﷺ এর কথা পৌঁছে দেওয়ার সহজ উপায় হতে পারে অবসরে, ছুটির দিনে তাঁর ব্যাপারে আলোচনা করা। অর্থাৎ এমন সময়গুলো, যখন আমরা সাধারণত আমাদের দ্বীনকে ভুলে গিয়ে দুনিয়াকে নিয়ে মেতে থাকি; আমরা ভুলে যাই- নিজেদের আত্মশুদ্ধি এবং আত্মোন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের আশপাশের মানুষগুলোকেও এর জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যিনি অন্যদেরকে রাসূল ﷺ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করেন, তাঁর মাঝে রাসূলকে ভালোবাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন অবশ্যই আছে।

কাজে সম্পাদন:

এই লেখাটিই অন্তত অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি আমরা। যেন তাদের অন্তরে রাসূল ﷺ এর প্রতি ভালোবাসা জেগে ওঠে। তারা যেন বিভিন্ন সীরাতগ্রন্থ পড়তে ও অনেক বেশি পরিমাণে সুন্নাহর অনুসরণ করতে আগ্রহী হয়।

আল্লাহ! কিয়ামতের আগ পর্যন্ত আপনার শান্তি এবং করুণা বর্ষিত করতে থাকুন আপনার রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার এবং অনুসারীগণের ওপর।

হে আল্লাহ! আপনার রাসূল ﷺ কে সত্যিকার অর্থে এবং পরিপূর্ণভাবে ভালোবাসার তৌফিক আমাদেরকে দান করুন। যতদিন না আপনার কাছে ফিরে যাচ্ছি, ততদিন একনিষ্ঠতার সাথে তাঁর পথ অনুসরণের তৌফিক দিন আমাদের।

আল্লাহ! জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকামে আপনার রাসূলের প্রতিবেশী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের তৌফিক আমাদের দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র

১। তিরমিযি

২। মুসলিম- যে ব্যক্তি আমার উদ্দেশ্যে দরূদ পেশ করে, আল্লাহও তার প্রতি দয়া বর্ষণ করেন।

৩। নাসাঈ- আল্লাহর প্রেরিত ফেরেশতারা পৃথিবীব্যাপী ঘুরে ঘুরে আমার উম্মতের পাঠানো দরূদের সংবাদ সংগ্রহ করে আমার নিকট পৌঁছে দেন।

৪। আত-তাবারানীর বর্ণনামতে, “যে ব্যাক্তি প্রতিদিন সকালে দশবার এবং সন্ধ্যায় দশবার আমার উদ্দেশ্যে দরূদ প্রেরণ করবে, তার জন্য আমি শেষ বিচারের দিন সুপারিশ করব।” এই হাদীসের বিশুদ্ধতার মান নিয়ে কিছু আলিমের মতভেদ আছে। তবে আল হাইসামি, সুয়ূতি, আল মুনযিরির মতো বিদগ্ধ হাদিস বিশারদগণ এর উল্লেখ করেছেন।


উৎস: muslimmatters.org (মূল আর্টিকেল লিংক)

অনুবাদক: মাহমুদ বিন আমান

অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Loading Disqus Comments ...
IIRT Arabic Intensive