কুরআনকে কি দৈনন্দিন জীবনের সাথে একীভূত করা যায়? এটি কি মানুষের আচার-আচরণে পরিবর্তন ঘটাতে পারে? অবশ্যই; এটি মানুষের হৃদয়, মন ও আত্মাকে আলোকিত করতে পারে।

কিশোর বয়সে নিজের প্রকৃত পরিচয় জানার জন্য একবার আমি কুরআন হাতে তুলে নিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম আমার জন্মের কারণ কী, দায়িত্ব ও কর্তব্যরূপে আল্লাহ আমার কাছ থেকে কী চান এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জীবনকে কীভাবে অতিবাহিত করতে হবে।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

আর তখন থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ এই মহিমান্বিত বইটি আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার সাথে সাথে আমার জীবনকে যেভাবে চিত্তাকর্ষক ও উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে তুলেছে, তাতে আমার হৃদয় সর্বদা কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ থাকে।

নিন্মোক্ত উপায়গুলোসহ আরো নানাভাবে একজন মুসলিম কুরআনের সাথে নিজের সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন:

তিলাওয়াত

শুদ্ধ তাজবীদের সাথে কুরআন তিলাওয়াত হৃদয় ও আত্মাকে প্রশান্ত করে, আর ঘরকে করে তোলে রহমতপূর্ণ। এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে আল্লাহর আরো নিকটবর্তী মনে করবেন এবং আপনার দুঃখ-দুর্দশাগুলোও দূরীভূত হবে। দৈনিক, বিশেষ করে ফজরের সালাতের পর কয়েক পাতা কুরআন তিলাওয়াত একজন মুসলিমকে দ্বীনের পথে থাকতে এবং আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে সাহায্য করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“পবিত্র কুরআনের পাঠক, হাফেয ও তার উপর আমলকারীকে (কিয়ামতের দিন) বলা হবে, ‘তুমি কুরআন করীম পড়তে থাকো ও চড়তে থাকো। আর ঠিক সেইভাবে স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে পড়তে থাকো, যেভাবে দুনিয়াতে পড়তে। কেননা, (জান্নাতের ভিতর) তোমার স্থান ঠিক সেখানে হবে, যেখানে তোমার শেষ আয়াতটি খতম হবে।’” (আবূ দাউদ, তিরমিযী)

কুরআনের তরজমা ও তাফসির পাঠ করা

সবচেয়ে উপভোগ্য অবসর বিনোদনগুলোর মধ্যে বই পড়া অন্যতম, যা লক্ষ লক্ষ মানুষ অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে উপভোগ করে থাকে। আর কর্মব্যস্ততাহীন দিনে কুরআন কিংবা এর তাফসির পাঠের চাইতে উপভোগ্য বিনোদন আর কী হতে পারে? তাফসির যেমন কুরআনের রহস্যসহ বিভিন্ন শব্দ, আয়াত ও সূরার অন্তর্নিহীত অর্থ উদঘাটন করে, তেমনি প্রাজ্ঞ ও প্রখ্যাত ‘আলিমদের লিখিত কুরআনের তরজমা ও তাফসির পাঠ করে অর্জিত জ্ঞানের দ্বারা বাস্তবতা সম্পর্কেও একটি ভালো ধারণা লাভ করা সম্ভব।

হিফ্‌য বা মুখস্থ করা

আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুরআনের কোনো অংশই যে ব্যক্তির পেটে নেই সে (সেই পেট বা উদর) বিরান ঘরের সমতুল্য।” (তিরমিযি)

আল্লাহর মহান বাণীসমূহ হৃদয়ঙ্গম করার মাধ্যমে হতাশার সময় আপনি তা গুনগুন করে তিলাওয়াত করতে পারবেন এবং রাতে দীর্ঘ তিলাওয়াতসহ নফল সালাত আদায় করতে পারবেন। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ যখন প্রাসঙ্গিক আয়াতসমূহ আপনার স্মরণে এনে দিয়ে দুনিয়াবী জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে আপনাকে অন্তর্দৃষ্টি দান করবেন, তখন নিজেকে আপনি আরো বেশি আল্লাহর নিকটবর্তী মনে করবেন।

মনোযোগের সাথে তিলাওয়াত শ্রবণ

কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করার সবচেয়ে সেরা উপায় হলো ইন্টারনেট, মসজিদ কিংবা অন্য কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত অথবা কোনো বড় ‘আলিমের তাফসির কিংবা আলোচনা শোনার সময় মনোযোগের সাথে শোনা। কুরআন সম্পর্কিত যে কোনো আলোচনার পর ঈমান বেড়ে যাওয়ার যে অনুভূতি তা ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করা যে কোনো ছাত্রই স্বীকার করবে।

কুরআনের উপর ‘আমল করা

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে আমাদের কুরআনের সাথে লেগে থাকা উচিত; এটি এমনই একটি গ্রন্থ যা সমগ্র মানবজাতির দিকনির্দেশনার জন্য নাযিল করা হয়েছে। তাই কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত ‘আমলগুলো কুরআনে যেভাবে ‘আমল করতে বলা হয়েছে সেভাবে যদি ‘আমল করা না হয়, তাহলে এগুলো থেকে তেমন কোনো কল্যাণ আসবে না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলো কিয়ামতের দিন একজন মুসলিমের বিরুদ্ধেও সাক্ষ্য দিতে পারে।

চুক্তি সম্পাদনা থেকে শুরু করে ঋণ গ্রহণ, উত্তরাধীকারীদের মাঝে সম্পদের বণ্টন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তম কাজের দ্বারা প্রতিবাদ, বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়া, ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, দ্বীনিভাবে সন্তানের প্রতিপালন, দান-সদাকা করাসহ সকল ক্ষেত্রেই একজন মুসলিমের কীভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন যাপন করা উচিত তার পূর্ণাঙ্গ দিক-নির্দেশনা দেওয়া আছে কুরআনে।

অন্যদের কুরআন শেখানো

‘উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,

“তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়।” (আল-বুখারী)

“আমি কুরআন শেখাই” – কথাটা অত্যুক্তি মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি খুব কঠিন কাজ নয়। কয়েকজন বন্ধুকে চায়ের আড্ডায় আমন্ত্রণ জানিয়েই কাজটি করা যেতে পারে। আড্ডার কোনো এক পর্যায়ে কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করে, সেই আয়াতগুলোর তরজমা ও তাফসির পাঠ করা। তারপর সবাই মিলে আলোচনা করা কীভাবে কুরআন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো বাস্তব জীবনে ব্যবহার করা যায়। এভাবে আড্ডার ফাঁকেই সামান্য সময় ব্যয় করে হয়ে যেতে পারে কুরআন প্রচারের কাজটি।

এক্ষেত্রে ছোট সূরাগুলো প্রথমে কিংবা ক্রমানুসারে সমগ্র কুরআনই পাঠ করা যেতে পারে। মূল কথা হলো কুরআনের মাধ্যমে দাওয়াহ প্রদানের একটি রাস্তা তৈরি করা এবং নিয়মিত এর উপর ‘আমল করা। অন্যকে কুরআন শিক্ষাদানের এই ‘আমলটি একাকী কুরআনের উপর ‘আমল করার চাইতে অনেক বেশি কল্যাণকর।

কুরআনের অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া

একসাথে কুরআন শেখার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যে বন্ধন গড়ে ওঠে, তা সত্যিই অসাধারণ। হীন ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে এ এক অপার্থিব ভালোবাসা, যা কেবল আল্লাহর জন্যই।

কুরআন আমার জীবনকে উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে তুলেছে, কল্যাণকর জ্ঞানের দ্বারা আত্মাকে করেছে সমৃদ্ধ এবং আমার স্রষ্টা, আল্লাহর আরো নিকটবর্তী হওয়ার পথ দেখিয়েছে। এই চমৎকার অনুভূতি অর্জনের ইচ্ছে কি আপনার নেই?


উৎস: অ্যাবাউট ইসলাম ডট নেট (মূল আর্টিকেল লিংক)

অনুবাদ: মুসাফির শহীদ, মুসলিম মিডিয়া প্রতিনিধি

অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া

শুরু হোক আপনার অ্যারাবিক শেখার যাত্রা।  ফেব্রুয়ারি ২০১৭ এ শুরু হতে যাচ্ছে দুই বছর মেয়াদি অনলাইন ভিত্তিক আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স IIRT Arabic Intensive প্রোগ্রামের নতুন ব্যাচ, যেখানে অ্যাপনি বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, ইনশা আল্লাহ। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.arabic.iirt.info

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.