وَلِلَّهِالْأَسْمَاءُالْحُسْنَىٰفَادْعُوهُبِهَا ۖوَذَرُواالَّذِينَيُلْحِدُونَفِيأَسْمَائِهِ ۚسَيُجْزَوْنَمَاكَانُوايَعْمَلُونَ- ٧:١٨٠

“আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নাম বিকৃত করে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।” [সূরা আ’রাফ (৭): ১৮০]

কেউ যদি এসব নাম থেকে নিরানব্বইটি বিশেষ নাম সংরক্ষণ করতে পারে তবে তার জন্য জান্নাতের ঘোষণা রয়েছে।

IIRT Arabic Intensive

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً غَيْرَ وَاحِدَةٍ مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلاَمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ الْغَفَّارُ الْقَهَّارُ الْوَهَّابُ الرَّزَّاقُ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الْخَافِضُ الرَّافِعُ الْمُعِزُّ الْمُذِلُّ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ الْحَكَمُ الْعَدْلُ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ الْحَلِيمُ الْعَظِيمُ الْغَفُورُ الشَّكُورُ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ الْحَفِيظُ الْمُقِيتُ الْحَسِيبُ الْجَلِيلُ الْكَرِيمُ الرَّقِيبُ الْمُجِيبُ الْوَاسِعُ الْحَكِيمُ الْوَدُودُ الْمَجِيدُ الْبَاعِثُ الشَّهِيدُ الْحَقُّ الْوَكِيلُ الْقَوِيُّ الْمَتِينُ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ الْمُحْصِي الْمُبْدِئُ الْمُعِيدُ الْمُحْيِي الْمُمِيتُ الْحَىُّ الْقَيُّومُ الْوَاجِدُ الْمَاجِدُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ الْقَادِرُ الْمُقْتَدِرُ الْمُقَدِّمُ الْمُؤَخِّرُ الأَوَّلُ الآخِرُ الظَّاهِرُ الْبَاطِنُ الْوَالِي الْمُتَعَالِي الْبَرُّ التَّوَّابُ الْمُنْتَقِمُ الْعَفُوُّ الرَّءُوفُ مَالِكُ الْمُلْكِ ذُو الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ الْمُقْسِطُ الْجَامِعُ الْغَنِيُّ الْمُغْنِي الْمَانِعُ الضَّارُّ النَّافِعُ النُّورُ الْهَادِي الْبَدِيعُ الْبَاقِي الْوَارِثُ الرَّشِيدُ الصَّبُورُ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি (এক কম একশ) নাম রয়েছে, যে উহা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, আর রাহমান, আর-রহী’ম, আল-মালিক, আল-কুদ্দুস, আস-সালাম, আল-মু’মিন, আল-মুহাইমিন, আল-আ’জীজ, আল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বিইর, আল-খালিক্ব, আল-বারী, আল-মুছউইর, আল-গফ্ফার, আল-ক্বাহার, আল-ওয়াহ্হাব, আর-রজ্জাক্ব, আল ফাত্তাহ, আল-আ’লীম, আল-ক্ববিদ্ব’, আল-বাসিত, আর-রফীই’, আল-মুই’জ্ব, আল-মুদ্বি’ল্লু, আস্-সামিই’, আল-বাছীর, আল-হা’কাম, আল-আ’দল, আল-লাতীফ, আল-খ’বীর, আল-হা’লীম, আল-আ’জীম, আল-গফুর, আশ্-শাকুর, আল-আ’লিইউ, আল-কাবিইর, আল-হা’ফীজ, আল-মুক্বীত, আল-হাসীব, আল-জালীল, আল-কারীম, আর-রক্বীব, আল-মুজীব, আল-ওয়াসি’ , আল-হাকীম, আল-ওয়াদুদ, আল-মাজীদ, আল-বাই’ছ’, আশ্-শাহীদ, আল-হা’ক্ব, আল-ওয়াকিল, আল-ক্বউইউ, আল-মাতীন, আল-ওয়ালিইউ, আল-হা’মীদ, আল-মুহছী, আল-মুব্দি’, আল-মুঈ’দ, আল-মুহ’য়ী, আল-মুমীতআল-হাইয়্যু, আল-ক্বাইয়্যুম, আল-ওয়াজিদ, আল-মাজিদ, আল-ওয়াহি’দ, আল-আহাদ, আছ্-ছমাদ, আল-ক্বদির, আল-মুক্ব্তাদির, আল-মুক্বদ্দিম, আল-মুয়াক্খির, আল-আউয়াল, আল-আখির, আজ-জ’হিরআল-বাত্বিন, আল-ওয়ালি, আল-মুতাআ’লি, আল-বার্, আত্-তাওয়াব, আল-মুনতাক্বিম, আল-আ’ফঊ, আর-রউফ, মালিকুল-মুলক, যুল-জালালি-ওয়াল-ইকরাম, আল-মুক্ব্সিত, আল-জামিই’, আল-গণিই’, আল-মুগনিই’, আল-মানিই’, আয্-যর, আন্-নাফিই’, আন্-নূর, আল-হাদী, আল-বাদীই’, আল-বাক্বী, আল-ওয়ারিস’, আর-রাশীদ, আস-সবুর।” [তিরমিযি, ৩৫০৭ (যয়ীফ)]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمَا مِائَةً إِلاَّ وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, “আল্লাহ তা’আলার এমন নিরানব্বইটি (এক কম একশ) নাম রয়েছে, যে উহা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [বুখারী, ২৭৩৬]

তবে আল্লাহর নামসমূহ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমিত নয়। প্রসিদ্ধ একটি হাদীসে এসেছে,

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমি আপনার কাছে প্রর্থনা করছি প্রত্যেক নামের উসিলায় যা কেবল আপনার, যে নাম আপনি নিজেকে দিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টিকুলের মধ্যে কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার ইলমে গায়েবে  রেখে দিয়েছেন।” [মুসনাদ আহমাদ ও হাকিম]

আল্লাহর নামসমূহের প্রতি ঈমানের একটি দাবি হলো, এ নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকা, আল্লাহর কাছে দু‘আ করা; ইবাদাত ও প্রার্থনা উভয় প্রকারের দু‘আ। ইবাদাতের দু‘আর অর্থ এ নামগুলো পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা। আর প্রার্থনার দু‘আর অর্থ এ নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে  কোনো কিছু চাওয়া।وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا আয়াতটি এদিকেই ইঙ্গিত করছে। এ বিষয়ে হাদীসেও স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক ব্যক্তিকে এই বলে দু’আ করতে শুনলেন “হে আল্লাহ! আমি আপনার  কাছে এই বলে প্রার্থনা করছি যে, আপনার জন্যই প্রশংসা, আপনি ছাড়া অন্য  কোনো ইলাহ নেই। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। আপনি অতি দয়াশীল। আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা। আপনি মর্যাদাবান ও সম্মানের পাত্র। হে চিরঞ্জীব, হে সকল সত্ত্বার ধারক। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “তুমি ইসমে-আযমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছো, যার দ্বারা ডাকলে আল্লাহ সাড়া দেন, যার দ্বারা প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন।” [মুসনাদ আহমাদ (হাসান)]

১. الرَّحْمَنُ পরম দয়াময় (The Exceedingly Beneficent, The Exceedingly Gracious)

২. الرَّحِيمُ পরম দয়ালু (The Exceedingly Merciful)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ – ١:١

“শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।” [সূরা ফাতিহা (১): ১]

وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ – ٢:١٦٣

“আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।”  [সূরা বাক্বারাহ (২): ১৬৩]

أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ جَعَلَ اللَّهُ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْءٍ، فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ جُزْءًا، وَأَنْزَلَ فِي الأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا، فَمِنْ ذَلِكَ الْجُزْءِ يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ، حَتَّى تَرْفَعَ الْفَرَسُ حَافِرَهَا عَنْ وَلَدِهَا خَشْيَةَ أَنْ تُصِيبَهُ

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহ তাঁর দয়াকে এক’শ ভাগ করেছেন, তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আর পৃথিবীতে এক ভাগ নাযিল করেছেন। এই একভাগের কারণেই তাঁর সৃষ্টিগুলো একে অন্যের উপর দয়া করে, এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চার উপর থেকে পা তুলে নেয় এই ভয়ে যে, বাচ্চা ব্যথা পাবে।” [বুখারী, ৬০০০]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ حِينَ يَمْضِي ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ فَيَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَنَا الْمَلِكُ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ فَلاَ يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُضِيءَ الْفَجْرُ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “আমাদের পালনকর্তা মহান আল্লাহ প্রতি রাতের তৃতীয় প্রহরে নিম্নতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, আমি মালিক, আমিই মালিক, কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছো আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করবো? কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো?’ এভাবে তিনি ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আহবান করেন।” [মুসলিম, ৭৫৮]

৩. الْمَلِكُ সর্বাধিকারী (The King, The Sovereign, The Absolute Ruler)

وَلِلَّهِمُلْكُالسَّمَاوَاتِوَالْأَرْضِوَمَابَيْنَهُمَا ۖوَإِلَيْهِالْمَصِيرُ- ٥:١٨

“আর আল্লাহ্‌রই মহাকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর সাম্রাজ্য এবং এই দুইয়ের মধ্যে যা আছে, আর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন।” [সূরা মায়িদাহ (৫): ১৮]

إِنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ – ٩:١١٦

“নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ মহাকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। আর আল্লাহ্‌কে ছেড়ে দিয়ে তোমাদের জন্য অভিভাবকের কেউ নেই বা সাহায্যকারীও নেই।” [সূরা তাওবাহ (৯): ১১৬]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ ‏ “‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্নিত, নবী (সাঃ) বিপদের সময়ে এই দু’আ পড়তেন, “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং অশেষ ধৈর্যশীল, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই যিনি আরশে আযিমের প্রভু, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই যিনি আসমান ও জমিনের মালিক এবং সম্মানিত আরশের মালিক।” [মুসলিম, ২৭৩০]

৪. الْقُدُّوسُ নিষ্কলুষ (The Holy, The Divine, The Pure One, The Purifier)

৫. السَّلَامُ শান্তি বিধায়ক (The Peace, The Source of Peace and Safety)

৬. الْمُؤْمِنُ নিরাপত্তা বিধায়ক (The Guarantor, The Affirming, The Inspirer of Faith)

৭. الْمُهَيْمِنُ রক্ষণ ব্যবস্থাকারী (The Guardian)

৮. الْعَزِيزُ সর্বশক্তিমান (The Almighty, The Invulnerable)

৯. الْجَبَّارُ পরাক্রমশালী (The Irresistible, The Compeller)

১০. الْمُتَكَبِّرُ অহংকারের ন্যায্য অধিকারী (The Majestic, The Supreme, The Greatest)

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ – ٥٩:٢٣

“তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্ম্যশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’আলা তা থেকে পবিত্র।” [সূরা হাশর (৫৯): ২৩]

يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ – ٦٢:١

“রাজ্যাধিপতি, পবিত্র, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, যা কিছু আছে নভোমণ্ডলে ও যা কিছু আছে ভূমণ্ডলে।” [সূরা জুমুআ (৬২): ১]

عَنْ ثَوْبَانُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ يَقُولُ ‏ “‏ اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) যখন সালাতের সালাম ফিরাতেন তখন তিনি তিনবার ইস্তেগফার পড়তেন এবং তারপর বলতেন “হে আল্লাহ্‌! তুমি শান্তিময়, তোমার থেকে শান্তি অবতীর্ণ হয়। তুমি বরকতময়, হে পরাক্রমশালী ও মর্যাদা প্রদানকারী।” [ইবনু-মাজাহ, ৯২৮(সহীহ)]

১১. الْخَالِقُ সৃষ্টিকারী (The Creator)

ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ – ٦:١٠٢

“তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী।” [সূরা আন’আম (৬): ১০২]

اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ – ٣٩:٦٢

“আল্লাহ সর্বকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।” [সূরা যুমার (৩৯): ৬২]

১২. الْبَارِئُ উন্মেষকারী (The Developer, The Maker of Order)

১৩. الْمُصَوِّرُ রূপদানকারী (The Fashioner, The Shaper, The Designer)

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ – ٥٩:٢٤

“তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নামসমূহ তাঁরই। নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।” [সূরা হাশর (৫৯): ২৪]

১৪. الْغَفَّارُ পুনঃপুনঃ মার্জনাকারী (The Repeatedly Forgiving, The Forgiving)

وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ – ٢٠:٨٢

“আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।” [সূরা ত্বা-হা (২০): ৮২]

رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ – ٣٨:٦٦

“তিনি আসমান-জমিন ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, পরাক্রমশালী, মার্জনাকারী।” [সূরা সোয়াদ (৩৮): ৬৬]

عَنْأَنَسُبْنُمَالِكٍ،قَالَسَمِعْتُرَسُولَاللَّهِصلىاللهعليهوسلميَقُولُ‏ “‏قَالَاللَّهُيَاابْنَآدَمَإِنَّكَمَادَعَوْتَنِيوَرَجَوْتَنِيغَفَرْتُلَكَعَلَىمَاكَانَفِيكَوَلاَأُبَالِييَاابْنَآدَمَلَوْبَلَغَتْذُنُوبُكَعَنَانَالسَّمَاءِثُمَّاسْتَغْفَرْتَنِيغَفَرْتُلَكَوَلاَأُبَالِييَاابْنَآدَمَإِنَّكَلَوْأَتَيْتَنِيبِقُرَابِالأَرْضِخَطَايَاثُمَّلَقِيتَنِيلاَتُشْرِكُبِيشَيْئًالأَتَيْتُكَبِقُرَابِهَامَغْفِرَةً

আনাস ইবন মালিক (রা:) হতে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- “সুমহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকতে থাকো এবং আমার আশা পোষণ করতে থাকো, সে পর্যন্ত আমি তোমাকে মার্জনা করতে থাকি, তোমার যত পাপই হোক না কেন। আর আমি কোনো ভয় করি না। হে আদম সন্তান! যদি তোমার পাপরাশি আসমান পর্যন্তও পৌঁছে, তারপর তুমি আমার কাছে মাফ চাও, আমি তোমাকে মাফ করে দিই এবং আমি কাউকে গ্রাহ্য করি না। সুতরাং  হে আদম সন্তান, যদি তুমি পৃথিবী সমান পাপ নিয়ে আমার কাছে আসো এমন অবস্থায় যে তুমি কাউকে আমার শরীক করনি, আমি আসবো সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে।'” [তিরমিযি, ৩৫৪০(হাসান)]

أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ عَبْدًا أَصَابَ ذَنْبًا ـ وَرُبَّمَا قَالَ أَذْنَبَ ذَنْبًا ـ فَقَالَ رَبِّ أَذْنَبْتُ ـ وَرُبَّمَا قَالَ أَصَبْتُ ـ فَاغْفِرْ لِي فَقَالَ رَبُّهُ أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ غَفَرْتُ لِعَبْدِي‏.‏ ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ أَصَابَ ذَنْبًا أَوْ أَذْنَبَ ذَنْبًا، فَقَالَ رَبِّ أَذْنَبْتُ ـ أَوْ أَصَبْتُ ـ آخَرَ فَاغْفِرْهُ‏.‏ فَقَالَ أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ غَفَرْتُ لِعَبْدِي، ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا ـ وَرُبَّمَا قَالَ أَصَابَ ذَنْبًا ـ قَالَ قَالَ رَبِّ أَصَبْتُ ـ أَوْ أَذْنَبْتُ ـ آخَرَ فَاغْفِرْهُ لِي‏.‏ فَقَالَ أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ غَفَرْتُ لِعَبْدِي ـ ثَلاَثًا ـ فَلْيَعْمَلْ مَا شَاءَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, কোনো বান্দা পাপ করলো। অতঃপর বলে, হে আমার রব আমি পাপ করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন। তার রব বলেন, আমার বান্দা জানে যে তার একজন রব রয়েছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন অথবা তার জন্য পাকড়াও করেন, আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করেদিলাম। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চান সে পাপ হতে বিরত থাকে।অতঃপর আবারপাপ সংগঠিত করল, অতঃপর বলে, হে আমার রব, আমি আবার পাপ করেছি, আপনি তা ক্ষমা করুন। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা জানে যে তার একজন রব রয়েছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন অথবা তার জন্য পাকড়াও করেন? আমার বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহর যতদিন চান সে পাপ হতে বিরত থাকে।অতঃপর আবার পাপ করল । অতঃপর বলে, হে আমার রব আমি পাপ করেছি আবারও, আপনি আমার জন্য তাক্ষমা করুন। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা জানে যে তার একজন রব রয়েছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন অথবা তার জন্য পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করেদিলাম, সে যা ইচ্ছা করুক। [বুখারী, ৭৫০৭]

১৫. الْقَهَّارُ  দমনকারী (The Subduer)

قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ

“বলুন, আল্লাহই প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি একক, পরাক্রমশালী।” [সূরা রা’দ (১৩):১৬]

قُلْ إِنَّمَا أَنَا مُنذِرٌ ۖ وَمَا مِنْ إِلَٰهٍ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ – ٣٨:٦٥

“বলুন, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং এক পরাক্রমশালী আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই।” [সূরা সোয়াদ, (৩৮):৬৫]

هُوَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ

“তিনি আল্লাহ, এক পরাক্রমশালী।” [সূরা যুমার (৩৯):৪]

১৬. الْوَهَّابُ  মহা দাতা (The Bestower, The Giver of All)

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ – ٣:٨

“হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলঙ্ঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।” [সূরা আলে ইমরান (৩):৮]

قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَّا يَنبَغِي لِأَحَدٍ مِّن بَعْدِي ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ – ٣٨:٣٥

“সোলায়মান বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।” [সূরা সোয়াদ (৩৮):৩৫]

১৭. الرَّزَّاقُ জীবিকা দাতা (The Provider, The Sustainer)

إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ – ٥١:٥٨

“আল্লাহ তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।” [সূরা যারিয়াত (৫১):৫৮]

১৮. الْفَتَّاحُ প্রারম্ভকারী, বিজয়দানকারী (The Opener, The Victory Giver)

قُلْ يَجْمَعُ بَيْنَنَا رَبُّنَا ثُمَّ يَفْتَحُ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَهُوَ الْفَتَّاحُ الْعَلِيمُ – ٣٤:٢٦

“বলুন, আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে সমবেত করবেন, অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে সঠিকভাবে ফয়সালা করবেন। তিনি ফয়সালাকারী, সর্বজ্ঞ।” [সূরা সাবা (৩৪):২৬]

১৯. الْعَلِيمُ মহাজ্ঞানী (The All-Knowing, The Knower of All, Omniscient)

إِنَّ اللَّهَ عَالِمُ غَيْبِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ – ٣٥:٣٨

“আল্লাহ আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও সবিশেষ অবহিত।” [সূরা ফাতির (৩৫):৩৮]

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ – ٥٩:٢٢

“তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা।” [সূরা হাশর (৫৯):২২]

২০. الْقَابِضُ  সংকোচনকারী (The Restrainer, The Straightener, The Constrictor)

২১. الْبَاسِطُ সম্প্রসারণকারী (The Extender / Expander, The Reliever)

وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ – ٢:٢٤٥

“আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।” [সূরা বাক্বারাহ (২):২৪৫]

২২. الْخَافِضُ  অবনমনকারী (The Abaser, The Humiliator)

২৩. الرَّافِعُ উন্নয়নকারী (The Exalter)

نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَّن نَّشَاءُ

“আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি।” [সূরা আন’আম (৬):৮৩]

يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ

“তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন।” [সূরা মুজাদালাহ (৫৮)-১১]

২৪. الْمُعِزُّ সম্মানদাতা (The Giver of Honor, The Bestower of Honors)

২৫. الْمُذِلُّ সম্মানহরণকারী (The Giver of Dishonor, The Humiliator)

قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٣:٢٦

“বলুন, ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” [সূরা আলে ইমরান (৩): ২৬]

২৬. السَّمِيعُ সর্বশ্রোতা (The All Hearing)

وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ – ٢:١٢٧

“স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা’বাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দুআ করেছিলো, পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।” [সূরা বাক্বারাহ (২):১২৭]

فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوا ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ – ٢:١٣٧

“অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মতো, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।” [সূরা বাক্বারাহ (২):১৩৭]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ – ٤٩:١

“মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন।” [সূরা হুজুরাত (৪৯):১]

২৭. الْبَصِيرُ  সর্ব দ্রষ্টা (The All Seeing)

لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ ۖ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

“কোনো কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।” [সূরা শুরা (৪২):১১]

هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۚ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا ۖ وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ ۚ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ – ٥٧:٤

“তিনি নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।” [সূরা হাদীদ (৫৭):৪]

২৮. الْحَكَمُ বিচারপতি (The Judge, The Arbitrator)

 إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ

“বিধান দেবার অধিকার শুধু আল্লাহ্‌র।” [সূরা ইয়ুসুফ (১২):৪০]

وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا

“এবং তিনি কাউকে নিজ হুকুমে শরীক করেন না।” [সূরা কাহফ (১৮):২৬]

أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ

“সাবধান! তাঁরই সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই।” [সূরা আ’রাফ (৭):৫৪]

وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

“আর বিধান তাঁরই, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।” [সূরা ক্বাসাস (২৮):৭০]

২৯. الْعَدْلُ ন্যায়নিষ্ঠ (The Utterly Just)

وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا ۚ لَّا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ – ٦:١١٥

“আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোনো পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।” [সূরা আন’আম (৬):১১৫]

৩০. اللَّطِيفُ  সুক্ষ্মদক্ষতাসম্পন্ন (The Gentle, The Subtly Kind, The Subtle One)

৩১. الْخَبِيرُ সর্বজ্ঞ (The All Aware)

وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَىٰ فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا – ٣٣:٣٤

“আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানগর্ভ কথা, যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয় তোমরা সেগুলো স্মরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে খবর রাখেন।” [সূরা আহযাব (৩৩):৩৪]

أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ – ٦٧:١٤

“যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি করে জানবেন না? তিনি সূক্ষ্মজ্ঞানী, সম্যক জ্ঞাত।” [সূরা মুলক (৬৭):১৪]

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ – ٤٩:١٣

“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। [সূরা হুজুরাত (৪৯):১৩]

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ – ٥٩:١٨

“মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কী প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাকো। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন।” [সূরা মুনাফিক্বুন (৬৩):১১]

৩২. الْحَلِيمُ সহিষ্ণু (The Forbearing, The Indulgent)

لَّا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ – ٢:٢٢٥

“তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে ধরবেন না, কিন্তু সেসব কসমের ব্যাপারে ধরবেন, তোমাদের মন যার প্রতিজ্ঞা করেছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী ধৈর্য্যশীল।” [সূরা বাক্বারাহ (২):২২৫]

تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ ۚ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَٰكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ ۗ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا – ١٧:٤٤

“সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে, সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না। কিন্তু তাদের পবিত্রতা, মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পারো না। নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।” [সূরা বানী ইসরাঈল (১৭):৪৪]

৩৩. الْعَظِيمُ সুমহান (The Magnificent)

لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ – ٤٢:٤

“নভোমণ্ডলে যা কিছু আছে এবং ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর। তিনি সমুন্নত, মহান।” [সূরা শুরা (৪২):৪]

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ – ٥٦:٩٦

“অতএব, আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামে পবিত্রতা ঘোষণা করুন।” [সূরা ওয়াক্বিয়াহ (৫৬):৯৬]

৩৪. الْغَفُورُ ক্ষমাশীল (The Much-Forgiving, The Forgiver and Hider of Faults)

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ – ٣:٣١

“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাসো, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।” [সূরা আলে ইমরান (৩):৩১]

وَاسْتَغْفِرُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” [সূরা মুযযাম্মিল (৭৩):২০]

فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ – ٨:٦٩

“সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।”[সূরা আনফাল (৮):৬৯]

৩৫. الشَّكُورُ  গুণগ্রাহী (The Grateful, The Rewarder of Thankfulness)

لِيُوَفِّيَهُمْ أُجُورَهُمْ وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِ ۚ إِنَّهُ غَفُورٌ شَكُورٌ – ٣٥:٣٠

“পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।” [সূরা ফাত্বির (৩৫):৩০]

وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنَّا الْحَزَنَ ۖ إِنَّ رَبَّنَا لَغَفُورٌ شَكُورٌ – ٣٥:٣٤

“আর তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দূঃখ দূর করেছেন। নিশ্চয় আমাদের পালনকর্তা ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।” [সূরা ফাত্বির (৩৫):৩৪]

وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُ فِيهَا حُسْنًا ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ

“যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।” [সূরা শুরা (৪২):২৩]

إِن تُقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفْهُ لَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۚ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ – ٦٤:١٧

“যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তিনি তোমাদের জন্যে তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল।” [সূরা তাগাবুন (৬৪):১৭]

৩৬. الْعَلِيُّ অত্যুচ্চ (The Sublime, The Highest)

وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

“তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।” [সূরা বাক্বারাহ (২):২৫৫]

إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا

“নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।” [সূরা নিসা (৪):৩৪]

لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ – ٤٢:٤

“নভোমণ্ডলে যা কিছু আছে এবং ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর। তিনি সমুন্নত, মহান।” [সূরা শুরা (৪২):৪]

৩৭. الْكَبِيرُ বিরাট, মহৎ (The Greatest)

عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ – ١٣:٩

“তিনি সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় অবগত, মহোত্তম, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান।” [সূরা রা’দ (১৩):৯]

ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ – ٢٢:٦٢

“এটা এ কারণেও যে, আল্লাহই সত্য; আর তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য এবং আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।” [সূরা হাজ্জ (২২):৬২]

ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ – ٣١:٣٠

“এটাই প্রমাণ যে, আল্লাহ-ই সত্য এবং আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব মিথ্যা। আল্লাহ সর্বোচ্চ, মহান।” [সূরা লুক্বমান (৩১):৩০]

৩৮. الْحَفِيظُ মহারক্ষক (The Preserver)

إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ – ١١:٥٧

“নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগারই প্রতিটি বস্তুর হেফাজতকারী।” [সূরা হুদ (১১):৫৭]

৩৯. الْمُقِيتُ  আহার্য দাতা (The Nourisher)

مَّن يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً يَكُن لَّهُ نَصِيبٌ مِّنْهَا ۖ وَمَن يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُن لَّهُ كِفْلٌ مِّنْهَا ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيتًا – ٤:٨٥

“যে লোক সৎকাজের জন্য কোনো সুপারিশ করবে, তা থেকে সে-ও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক সুপারিশ করবে মন্দ কাজের জন্যে, সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” [সূরা নিসা (৪):৮৫]

৪০. الْحَسِيبُ হিসাব গ্রহনকারী (The Reckoner)

وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا – ٤:٨٦

আর তোমাদেরকে যদি কেউ দুআ করে, তাহলে তোমরাও তার জন্য দুআ কর; তারচেয়ে উত্তম দুআ অথবা তারই মতো ফিরিয়ে বলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী।” [সূরা নিসা (৪):৮৬]

الَّذِينَ يُبَلِّغُونَ رِسَالَاتِ اللَّهِ وَيَخْشَوْنَهُ وَلَا يَخْشَوْنَ أَحَدًا إِلَّا اللَّهَ ۗ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ حَسِيبًا – ٣٣:٣٩

“সেই নবীগণ আল্লাহর পয়গাম প্রচার করতেন ও তাঁকে ভয় করতেন। তাঁরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করতেন না। হিসাব গ্রহণের জন্যে আল্লাহ যথেষ্ঠ।” [সূরা আহযাব (৩৩):৩৯]

৪১. الْجَلِيلُ প্রতাপশালী (The Majestic, The Mighty)

وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ – ٥٥:٢٧

“একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।” [সূরা আর-রহমান (৫৫):২৭]

৪২. الْكَرِيمُ উদার, অকৃপণ (The Bountiful, The Generous)

وَمَن شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ – ٢٧:٤٠

“যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে নিজের উপকারের জন্যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং যে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে জানুক যে, আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত কৃপাশীল।” [সূরা নামল (২৭):৪০]

৪৩. الرَّقِيبُ নিরীক্ষণকারী (The Watchful One)

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا – ٤:١

“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।” [সূরা নিসা (৪):১]

৪৪. الْمُجِيبُ  প্রার্থনা গ্রহণকারী (The Responsive, The Answerer)

وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ – ١١:٦١

“আর সামুদ জাতি প্রতি তাদের ভাই সালেহ-কে প্রেরণ করি; তিনি বললেন, হে আমার জাতি। আল্লাহর বন্দেগী কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো উপাস্য নেই। তিনিই জমিন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। অতএব; তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই দিকে ফিরে চলো। আমার পালনকর্তা নিকটেই আছেন, কবুল করে থাকেন; সন্দেহ নেই।” [সূরা হুদ (১১):৬১]

৪৫. الْوَاسِعُ সর্বব্যাপী, অসীম (The Vast, The All-Embracing, The Boundless)

وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ – ٢:١١٥

“পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহকে পাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।” [সূরা বাক্বারাহ (২):১১৫]

الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِالْفَحْشَاءِ ۖ وَاللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًا ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ – ٢:٢٦٨

“শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।” [সূরা বাক্বারাহ (২):২৬৮]

৪৬. الْحَكِيمُ প্রজ্ঞাময়, বিচক্ষণ (The All-Wise, The Perfectly Wise)

هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ – ٣:٦

“তিনিই সেই আল্লাহ, যিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেন মায়ের গর্ভে, যেমন তিনি চেয়েছেন। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আলে ইমরান (৩):৬]

وَلِلَّهِ جُنُودُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا – ٤٨:٧

“নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা ফাতহ (৪৮):৭]

سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ – ٦١:١

“নভোমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাবান।” [সূরা সফ (৬১):১, সূরা হাদীদ (৫৭):১]

৪৭. الْوَدُودُ স্নেহশীল (The Loving One)

وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ – ١١:٩٠

“আর তোমাদের পালনকর্তার কাছে মার্জনা চাও এবং তাঁরই পানে ফিরে এসো। নিশ্চয়ই আমার পরওয়ারদেগার খুবই মেহেরবান অতিস্নেহময়।” [সূরা হুদ (১১):৯০]

وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ – ٨٥:١٤

“তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়।” [সূরা বুরুজ (৮৫):১৪]

৪৮. الْمَجِيدُ  গৌরবময় (All-Glorious, The Majestic One)

قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۖ رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ ۚ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ – ١١:٧٣

“তারা বললো, তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছো? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রশংসিত মহিমাময়।” [সূরা হুদ (১১):৭৩]

৪৯. الْبَاعِثُ  পুনরুত্থানকারী (The Resurrector)

وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَّا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَن فِي الْقُبُورِ – ٢٢:٧

“এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।” [সূরা হাজ্জ (২২):৭]

৫০. الشَّهِيدُ  সাক্ষ্যদানকারী (The Witness)

لَّٰكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنزَلَ إِلَيْكَ ۖ أَنزَلَهُ بِعِلْمِهِ ۖ وَالْمَلَائِكَةُ يَشْهَدُونَ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا – ٤:١٦٦

“আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তিনি যে তা সজ্ঞানেই করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।” [সূরা নিসা (৪):১৬৬]

سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ ۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ – ٤١:٥٣

“এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাবো পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, এ কুরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা সর্ববিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি যথেষ্ট নয়?” [সূরা হা-মীম সেজদাহ (৪১):৫৩]

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ شَهِيدًا – ٤٨:٢٨

“তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহ যথেষ্ট।” [সূরা ফাতহ (৪৮):২৮]

৫১. الْحَقُّ  সত্য (The Truth, The Reality)

ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَىٰ وَأَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٢٢:٦

“এগুলো এ কারণে যে, আল্লাহ সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [সূরা হাজ্জ (২২):৬]

فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ – ٢٣:١١٦

“অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।” [সূরা মুমিনুন (২৩):১১৬]

৫২. الْوَكِيلُ তত্বাবধায়ক (The Trustee, The Dependable, The Advocate)

إِنَّمَا اللَّهُ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ ۘ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا

“নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমানসমূহ ও জমিনে রয়েছে সবই তাঁর। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।” [সূরা নিসা (৪):১৭১]

وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَكِيلًا – ٣٣:٣

“আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কার্যনির্বাহীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।” [সূরা আহযাব (৩৩):৩]

ر رَّبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا – ٧٣:٩

“তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। অতএব, তাঁকেই গ্রহণ করুন কর্মবিধায়করূপে।” [সূরা মুযযাম্মিল (৭৩):৯]

৫৩. الْقَوِيُّ শক্তিশালী (The Strong, The Possessor of All Strength)

مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ – ٢٢:٧٤

“তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা বোঝেনি। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর, মহাপরাক্রমশীল।” [সূরা হাজ্জ (২২):৭৪]

اللَّهُ لَطِيفٌ بِعِبَادِهِ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ ۖ وَهُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ – ٤٢:١٩

“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী।” [সূরা শুরা (৪২):১৯]

كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ – ٥٨:٢١

“আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি এবং আমার রাসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হবো। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী।” [সূরা মুজাদালাহ (৫৮):২১]

৫৪. الْمَتِينُ দৃঢ়তাসম্পন্ন (The Firm, The Steadfast, The Forceful One)

إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ – ٥١:٥٨

“আল্লাহ তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।” [সূরা যারিয়াত (৫১):৫৮]

৫৫. الْوَلِيُّ অভিভাবক (The Friend, Patron and Helper)

إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَٰذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا ۗ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ – ٣:٦٨

“মানুষদের মধ্যে যারা ইব্রাহীমের অনুসরণ করেছিল, তারা, আর এই নবী এবং যারা এ নবীর প্রতি ঈমান এনেছে তারা ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠতম, আর আল্লাহ হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু।” [সূরা আলে ইমরান (৩):৬৮]

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ ۚ وَكَفَىٰ بِاللَّهِ وَلِيًّا وَكَفَىٰ بِاللَّهِ نَصِيرًا – ٤:٤٥

“অথচ আল্লাহ তোমাদের শত্রুদেরকে যথার্থই জানেন। আর অভিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসাবেও আল্লাহই যথেষ্ট।” [সূরা নিসা (৪):৪৫]

إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ ۖ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ – ٧:١٩٦

“আমার সহায় তো হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। বস্তুতঃ তিনিই সাহায্য করেন সৎকর্মশীল বান্দাদের।” [সূরা আ’রাফ (৭):১৯৬]

إِنَّهُمْ لَن يُغْنُوا عَنكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ۚ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۖ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ – ٤٥:١٩

“আল্লাহর সামনে তারা আপনার কোনো উপকারে আসবে না। যালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ পরহেযগারদের বন্ধু।” [সূরা জাসিয়াহ (৪৫):১৯]

৫৬. الْحَمِيدُ প্রশংসিত (The All Praiseworthy, The Praised One)

الر ۚ كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ – ١٤:١

“আলিফ-লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে।” [সূরা ইবরাহীম (১৪):১]

وَلَقَدْ آتَيْنَا لُقْمَانَ الْحِكْمَةَ أَنِ اشْكُرْ لِلَّهِ ۚ وَمَن يَشْكُرْ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ ۖ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ – ٣١:١٢

“আমি লুকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।” [সূরা লুক্বমান (৩১):১২]

لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ – ٣١:٢٦

“নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।” [সূরা লুক্বমান (৩১):২৬]

৫৭. الْمُحْصِي  হিসাবগ্রহণকারী (The Accounter, The Numberer of All)

وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ كِتَابًا – ٧٨:٢٩

“আমি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষিত করেছি।” [সূরা নাবা (৭৮):২৯]

৫৮. الْمُبْدِئُ  আদি স্রষ্টা (The Originator, The Producer, The Initiator)

৫৯. الْمُعِيدُ পুনঃসৃষ্টিকারী (The Restorer, The Reinstater Who Brings Back All)

قُلْ هَلْ مِن شُرَكَائِكُم مَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۚ قُلِ اللَّهُ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ – ١٠:٣٤

“বলো, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মাঝে যে সৃষ্টিকে পয়দা করতে পারে এবং আবার জীবিত করতে পারে? বলো, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং অতঃপর তার পুনরুদ্ভব করবেন। অতএব, কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?” [সূরা ইউনুস (১০):৩৪]

أَمَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ – ٢٧:٦٤

“বলো তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও মাটি থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।” [সূরা নামল (২৭):৬৪]

أَوَلَمْ يَرَوْا كَيْفَ يُبْدِئُ اللَّهُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ – ٢٩:١٩

“তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ কীভাবে সৃষ্টিকর্ম শুরু করেন অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন? এটা আল্লাহর জন্যে সহজ।” [সূরা আনকাবুত (২৯):১৯]

إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ – ٨٥:١٣

“তিনিই প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন এবং পুনরায় জীবিত করেন।” [সূরা বুরুজ (৮৫):১৩]

৬০. الْمُحْيِي  জীবনদাতা (The Giver of Life)

৬১. الْمُمِيتُ  মরণদাতা (The Bringer of Death, The Taker of Life)

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ – ٧:١٥٨

“বলে দাও, হে মানবমণ্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও জমিনে তাঁর রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।” [সূরা আ’রাফ (৭):১৫৮]

وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ – ١٥:٢٣

“আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চুড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।” [সূরা হিজর (১৫):২৩]

فَانظُرْ إِلَىٰ آثَارِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمُحْيِي الْمَوْتَىٰ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٣٠:٥٠

“অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।” [সূরা রুম (৩০):৫০]

لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٥٧:٢

“নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম।” [সূরা হাদীদ (৫৭):২]

৬২. الْحَيُّ জীবিত (The Living, The Ever Living One)

৬৩. الْقَيُّومُ স্বয়ংস্থিতিশীল (The Subsisting, The Self-Existing One)

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ

“আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক।” [সূরা বাক্বারাহ (২):২৫৫]

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ – ٣:٢

“আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক।” [সূরা আলে ইমরান (৩):২]

৬৪. الْوَاجِدُ পর্যবেক্ষক, আবিষ্কর্তা (The Perceiver, The Finder)

أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَىٰ – ٩٣:٦

“তিনি কি আপনাকে এতীমরূপে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।” [সূরা দ্বুহা (৯৩):৬]

وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا فَاضْرِب بِّهِ وَلَا تَحْنَثْ ۗ إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا ۚ نِّعْمَ الْعَبْدُ ۖ إِنَّهُ أَوَّابٌ – ٣٨:٤٤

“তুমি তোমার হাতে এক মুঠো তৃণশলা নাও, তদ্বারা আঘাত কর এবং শপথ ভঙ্গ করো না। আমি তাকে পেলাম সবরকারী। চমৎকার বান্দা সে। নিশ্চয় সে ছিল প্রত্যাবর্তনশীল।” [সূরা সোয়াদ (৩৮):৪৪]

৬৫. الْمَاجِدُ মহান (All-Glorious, The Majestic)

قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۖ رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ ۚ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ – ١١:٧٣

“তারা বললো, তুমি আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে বিস্ময়বোধ করছো? হে গৃহবাসীরা, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও প্রভুত বরকত রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ প্রশংসিত মহিমাময়।” [সূরা হুদ (১১):৫৩]

৬৬. الْوَاحِدُ একক (The One, The Unique, The All Inclusive, The Indivisible)

৬৭. الاحد এক, অতুলনীয়, স্বতন্ত্র (Uniquely One)

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ – ١١٢:١

“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক।” [সূরা ইখলাস (১১২):১]

وَإِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ لَّا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ – ٢:١٦٣

“আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।” [সূরা বাক্বারাহ (২):১৬৩]

إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَاحِدٌ – ٣٧:٤

“নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।” [সূরা সফফাত (৩৭):৪]

৬৮. الصَّمَدُ অভাবমুক্ত (The Self-Sufficient, The Satisfier of All Needs)

اللَّهُ الصَّمَدُ – ١١٢:٢

“আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।” [সূরা ইখলাস (১১২):২]

৬৯. الْقَادِرُ শক্তিশালী (The All-Powerful, He Who is able to do Everything)

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَىٰ أَن يُحْيِيَ الْمَوْتَىٰ ۚ بَلَىٰ إِنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٤٦:٣٣

“তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর সৃষ্টিতে কোনো ক্লান্তিবোধ করেননি, তিনি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম? কেন নয়,?নিশ্চয় তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।” [সূরা আহক্বাফ (৪৬):৩৩]

৭০. الْمُقْتَدِرُ  প্রবল, পরাক্রম (The Creator of All Power)

وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًا تَذْرُوهُ الرِّيَاحُ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ مُّقْتَدِرًا – ١٨:٤٥

“তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুষ্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।” [সূরা কাহফ (১৮):৪৫]

كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَاهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ – ٥٤:٤٢

“তারা আমার সকল নিদর্শনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিলো। অতঃপর আমি পরাভূতকারী, পরাক্রমশালীর ন্যায় তাদেরকে পাকড়াও করলাম।” [সূরা ক্বমার (৫৪):৪২]

৭১. الْمُقَدِّمُ অগ্রবর্তীকারী (The Expediter, He Who Brings Forward)

৭২. الْمُؤَخِّرُ  পশ্চাদবর্তীকারী (The Delayer, He Who Puts Far Away)

يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرْكُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ إِنَّ أَجَلَ اللَّهِ إِذَا جَاءَ لَا يُؤَخَّرُ ۖ لَوْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ – ٧١:٤

“আল্লাহ তা’আলা তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার নির্দিষ্টকাল যখন হবে, তখন অবকাশ দেওয়া হবে না, যদি তোমরা তা জানতে! [সূরা নূহ (৭১): ৪]

৭৩. الْأَوَّلُ সর্বপ্রথম, যার কোনো শুরু নেই (The First, The Beginning-less)

৭৪. الْآخِرُ সর্বশেষ, যার কোনো শেষ নেই (The Last, The Endless)

৭৫. الظَّاهِرُ প্রকাশ্য (The Manifest One, The Evident, The Outer)

৭৬. الْبَاطِنُ গুপ্ত (The Hidden One, The Unmanifest, The Inner)

هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ – ٥٧:٣

“তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।” [সূরা হাদীদ (৫৭):৩]

৭৭. الْوَالِيَ কার্য নির্বাহক (The Protecting Friend, The Friendly Lord)

إِنَّهُمْ لَن يُغْنُوا عَنكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ۚ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۖ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ – ٤٥:١٩

“আল্লাহর সামনে তারা আপনার কোনো উপকারে আসবে না। যালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ পরহেযগারদের বন্ধু।”  [সূরা জাসিয়াহ (৪৫):১৯]

لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ ۗ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ ۚ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ – ١٣:١١

“তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে। আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোনো জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।” [সূরা রা’দ (১৩): ১১]

৭৮. الْمُتَعَالِي  সুউচ্চ (The Supremely Exalted, The Most High, The Supreme One)

عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ – ١٣:٩

“তিনি সকল গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় অবগত, মহোত্তম, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান।” [সূরা রা’দ (১৩):৯]

৭৯. الْبَرُّ  ন্যায়বান (The Good, The Beneficent, The Doer of Good)

إِنَّا كُنَّا مِن قَبْلُ نَدْعُوهُ ۖ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ – ٥٢:٢٨

“আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি সৌজন্যশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা তূর (৫২):২৮]

৮০. التَّوَّابُ তওবা গ্রহণকারী (The Ever Returning, The Guide to Repentance)

فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ – ٢:٣٧

অতঃপর আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।” [সূরা বাক্বারাহ (২):৩৭]

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا – ١١٠:٣

“তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।” [সূরা নাসর (১১০):৩]

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَلْ لَهُ مِنَ تَوْبَةٍ فَقَالَ لاَ ‏.‏ فَقَتَلَهُ فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ نَعَمْ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلاَ تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ ‏.‏ فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ فَقَالَتْ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلاً بِقَلْبِهِ إِلَى اللَّهِ ‏.‏ وَقَالَتْ مَلاَئِكَةُ الْعَذَابِ إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ ‏.‏ فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ قِيسُوا مَا بَيْنَ الأَرْضَيْنِ فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ ‏.‏ فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ فَقَبَضَتْهُ مَلاَئِكَةُ الرَّحْمَةِ

আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘তোমাদের পূর্বে (বনী ইসরাঈলের যুগে) একটি লোক ছিলো; যে ৯৯টি মানুষকে হত্যা করেছিলো।অতঃপর লোকদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তাকে একটি খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীর কথা বলা হলো। সে তার কাছে এসে বললো, ‘আমি ৯৯জন মানুষকে হত্যা করেছি। এখন কি আমার তওবার কো্নো সুযোগ আছে?’ সে বললো, ‘না।’ সুতরাং সে (ক্রোধান্বিত হয়ে) তাকেও হত্যা করে একশত পূরণ করে দিলো। পুনরায় সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। এবারও তাকে এক আলেমের খোঁজ দেওয়া হলো। সে তার নিকট এসে বললো যে, ‘আমি একশত মানুষ খুন করেছি।সুতরাং আমার কি তওবার কোন সুযোগ আছে?’ সে বললো, ‘হ্যাঁ আছে! তার ও তওবার মধ্যে কে বাধা সৃষ্টি করবে? তুমি অমুক দেশে চলে যাও। সেখানে কিছু এমন লোক আছে, যারা আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদাত কর। আর তোমার নিজ দেশে ফিরে যেও না। কেননা, ও দেশ পাপের দেশ।’ সুতরাং সে ব্যক্তি ওই দেশ অভিমুখে যেতে আরম্ভ করলো। যখন সে মধ্যরাস্তায় পৌঁছলো, তখন তার মৃত্যু এসে গেলো। (তার দেহ-পিঞ্জর থেকে আত্মা বের করার জন্য) রহমত ও আযাবের উভয় প্রকার ফিরিশ্তা উপস্থিত হলেন। ফিরিশ্তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক আরম্ভ হলো। রহমতের ফিরিশ্তাগণ বললেন, ‘এই ব্যক্তি তওবা করে এসেছিলো এবং পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর দিকে তার আগমন ঘটেছে।’ আর আযাবের ফিরিশ্তারা বললেন, ‘এ এখনো ভালো কাজ করেনি (এই জন্য সে শাস্তির উপযুক্ত)।’ এমতাবস্থায় একজন ফিরিশ্তা মানুষের রূপ ধারণ করেউপস্থিত হলেন। ফিরিশ্তাগণ তাঁকে সালিস মানলেন। তিনি ফায়সালা দিলেন যে, ‘তোমরা দু’ দেশের দূরত্ব মেপে দেখো। (অর্থাৎ এ যে এলাকা থেকে এসেছে সেখান থেকে এই স্থানের দূরত্ব এবং যে দেশে যাচ্ছিলো তার দূরত্ব) এই দুয়ের মধ্যে সে যার দিকে বেশি নিকটবর্তী হবে, সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে।’ অতএব তাঁরা দূরত্ব মাপলেন এবং যে দেশে সে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলো, সেই (ভালো) দেশকে বেশি নিকটবর্তী পেলেন। সুতরাং রহমতের ফিরিশতাগণ তার জান কবয করলেন।” [মুসলিম, ২৭৬৬]

কিন্ত ইবনে কাসীর (রহঃ) তাঁর আল-বিদায়্যাহ ওয়া-নিহায়্যাহ গ্রন্থে হাদীসটির আরেকটু বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন এইভাবে, প্রকৃতপক্ষে, লোকটি যেখানে মারা গিয়েছিলো, সেখান থেকে বরং তার নিজ দেশের দূরত্বটাই ছিলো কম। কিন্ত যে জায়গাটা থেকে লোকটি যাত্রা শুরু করেছিলো, আল্লাহ সে জায়গাটাকে আদেশ দেন সরে যেতে, আর যে জায়গাটার দিকে লোকটি যাচ্ছিলো, তাকে আদেশ দেন কাছে চলতে আসতে। তারপর তিনি ফেরেশতাদের আদেশ দেন পরিমাপ করতে। যার ফলে দেখা যায়, লোকটি যে জায়গার দিকে যাত্রা শুরু করেছিলো, সে দূরত্বটাই কম। যার ফলে রহমতের ফেরেশতাগণ তার আত্মা নিয়ে চলে যান এবং ভয়াবহ পরকালে আযাবের হাত থেকে লোকটি রক্ষা পায়।

৮১. الْمُنْتَقِمُ  প্রতিশোধ গ্রহণকারী (The Avenger)

فَإِمَّا نَذْهَبَنَّ بِكَ فَإِنَّا مِنْهُم مُّنتَقِمُونَ – ٤٣:٤١

“অতঃপর আমি যদি আপনাকে নিয়ে যাই, তবু আমি তাদের কাছে থেকে প্রতিশোধ নেবো।” [সূরা যুখরুফ (৪৩):৪১]

يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَىٰ إِنَّا مُنتَقِمُونَ – ٤٤:١٦

“যেদিন আমি প্রবলভাবে ধৃত করবো, সেদিন পুরোপুরি প্রতিশোধ গ্রহণ করবোই।” [সূরা দুখান (৪৪):১৬]

৮২. الْعَفُوُّ ক্ষমাকারী (The Pardoner, The Effacer, The Forgiver)

فَأُولَٰئِكَ عَسَى اللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًا – ٤:٩٩

“অতএব, আশা করা যায়, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।” [সূরা নিসা (৪):৯৯]

إِن تُبْدُوا خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُوا عَن سُوءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا – ٤:١٤٩

“তোমরা যদি কল্যাণ কর প্রকাশ্যভাবে কিংবা গোপনে অথবা যদি তোমরা আপরাধ ক্ষমা করে দাও, তবে জেনো, আল্লাহ নিজেও ক্ষমাকারী, মহাশক্তিশালী।” [সূরা নিসা (৪): ১৪৯]

৮৩. الرَّءُوفُ  কোমল হৃদয় (The Kind, The Pitying, The Clement)

يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُّحْضَرًا وَمَا عَمِلَتْ مِن سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ أَمَدًا بَعِيدًا ۗ وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ۗ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ – ٣:٣٠

“সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভালো কাজ করেছে, চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দূরের হতো! আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।” [সূরা আলে ইমরান (৩):৩০]

هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَىٰ عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لِّيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ ۚ وَإِنَّ اللَّهَ بِكُمْ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ – ٥٧:٩

“তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।” [সূরা হাদীদ (৫৭):৯]

৮৪. مَالِكُالْمُلْكِ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী (The Owner of all Sovereignty)

قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٣:٢٦

“বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।” [সূরা আলে ইমরান (৩): ২৬]

৮৫. ذُوالْجَلَالِوَالْإِكْرَامِ মহিমান্বিত ও মাহাত্ম্যপূর্ণ (The Lord of Majesty and Generosity)

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ – ٥٥:٢٦وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ – ٥٥:٢٧

“ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।” [সূরা আর-রহমান (৫৫):২৭-২৮]

تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ – ٥٥:٧٨

“কত পূণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব।” [সূরা আর-রহমান (৫৫):৭৮]

৮৬. الْمُقْسِطُ  ন্যায়পরায়ণ (The Requiter, The Equitable One)

شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ۚ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ – ٣:١٨

“আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আলে ইমরান (৩):১৮]

৮৭. الْجَامِعُ একত্রীকরণকারী (The Gatherer, The Unifier)

رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ – ٣:٩

“হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করবে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ওয়াদার অন্যথা করেন না।” [সূরা আলে ইমরান (৩):৯]

৮৮. الْغَنِيُّ সম্পদশালী (The Rich One, The Independent)

قَوْلٌ مَّعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِّن صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذًى ۗ وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَلِيمٌ – ٢:٢٦٣

“নম্র কথা বলে দেওয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ওই দান খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেওয়া হয়। আল্লাহ তা’আলা সম্পদশালী, সহিষ্ণু।” [সূরা বাক্বারাহ (২):২৬৩]

الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ ۗ وَمَن يَتَوَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ -٥٧:٢٤

“যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয়, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।” [সূরা হাদীদ (৫৭):২৪]

৮৯. الْمُغْنِي অভাবমোচনকারী (The Enricher, The Emancipator)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ -٩:٢٨

“হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্র্যের আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুণায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা তাওবাহ (৯):২৮]

৯০. الْمَانِعُ প্রতিরোধকারী (The Defender, The Preventer of Harm)

৯১. الضَّارُّ (তাগুতের) অকল্যাণকর্তা (The Distressor, The Harmer)

وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ – ٦:١٧

“আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [সূরা আন’আম (৬):১৭]

৯২. النَّافِعُ কল্যাণকর্তা (The Benefactor)

أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَن يَشَاءُ وَيَقْدِرُ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ – ٣٠:٣٧

“তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন এবং হ্রাস করেন? নিশ্চয় এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” [সূরা রুম (৩০):৩৭]

৯৩. النُّورُ জ্যোতি (The Light)

اللَّهُ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ ۖ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ ۖ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِن شَجَرَةٍ مُّبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَّا شَرْقِيَّةٍ وَلَا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ ۚ نُّورٌ عَلَىٰ نُورٍ ۗ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ ۗ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ – ٢٤:٣٥

“আল্লাহ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।” [সূরা নূর (২৪): ৩৫]

৯৪. الْهَادِي পথ প্রদর্শক (The Guide, The Way)

وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِينَ ۗ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا – ٢٥:٣١

“এমনিভাবে প্রত্যেক নবীর জন্যে আমি অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু করেছি। আপনার জন্যে আপনার পালনকর্তা পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারীরূপে যথেষ্ট।” [সূরা ফুরক্বান (২৫):৩১]

৯৫. الْبَدِيعُ অভিনব সৃষ্টিকারী (The Originator)

بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ – ٢:١١٧

“তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোনো কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে এ কথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।” [সূরা বাক্বারাহ (২): ১১৭]

بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُن لَّهُ صَاحِبَةٌ ۖ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ – ٦:١٠١

“তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের আদি স্রষ্টা। কীরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোনো সঙ্গী নেই ? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।” [সূরা আন’আম (৬):১০১]

৯৬. الْبَاقِي অক্ষয়, চিরস্থায়ী (The Immutable, The Infinite, The Everlasting One)

كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ – ٥٥:٢٦وَيَبْقَىٰ وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ – ٥٥:٢٧

“ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া।” [সূরা আর-রহমান (৫৫):২৭-২৮]

৯৭. الْوَارِثُ উত্তরাধিকারী (The Heir, The Inheritor of All)

وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ – ١٥:٢٣

“আমিই জীবনদান করি, মৃত্যুদান করি এবং আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।” [সূরা হিজর (১৫):২৩]

৯৮. الرَّشِيدُ সঠিক পথের নির্দেশক (The Guide to the Right Path, The Righteous Teacher)

وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا – ٧٢:١٠

“আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের অমঙ্গল সাধন করা অভীষ্ট, না তাদের পালনকর্তা তাদের মঙ্গল সাধন করার ইচ্ছা রাখেন।” [সূরা জিন (৭২):১০]

৯৯. الصَّبُورُ ধৈর্যশীল (The Timeless, The Patient One)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ – ٣:٢٠٠

“হে ঈমানদানগণ! ধৈর্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন কর। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পারো।” [সূরা আলে ইমরান (৩):২০০]

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

IIRT Arabic Intensive

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.