পর্ব ০১ | পর্ব ০২ 

আজ আদনানের মন খুবই ভালো।সে অফিসের কিছু বন্ধু আর ইন্টারনেট থেকে খুজে কুরআনের ভুল বের করেছে।সেগুলো দিয়ে আজ সে ফাতিমাকে পরাজিত করবে। অফিস থেকে ফেরার পথে সে ফাতিমার জন্য একটি অ্যন্ড্রয়েড মোবাইলও কিনে এনেছে। অবশ্য সেটা এখনো কাউকে সে বলেনি, ব্যাগে লুকিয়ে রেখেছে। রাতের খাবারের পরে যখন সে ফাতিমার সাথে একা গল্প করার সুযোগ পাবে তখন সে তাকে সারপ্রাইজ দিবে।তার সাথে আবার একটি গোলাপ ফুলও কিনেছে।

বিকাল ৫:১৩… ক্রিং ক্রিং.. (বাড়ির বেল)

IIRT Arabic Intensive

-ফাতিমা দরজা খোলার সাথে সাথে আদনান তার হাতে গোলাপ ফুলটি দিয়ে বললো: “নাও, এটি তোমার জন্য।” ফাতিমার মাথায় বাজ পরা অবস্থা।ফুলটি লুকাতে লুকাতে বলে উঠলো- আল্লাহ, মানুষের লজ্জা শরম উঠে গেলো নাকি? মা-বাবা দেখলে কি বলবে?

:- এতে লজ্জার কি আছে। আমি তোমাকে ফুল দিতেই পারি, তাতে সমস্যা কি?

-না সমস্যা নাই(মনে মনে: খুশিই হয়েছি,কিন্তু মতলবটা কি?এমন ভাবে কোনোদিন তো ফুল আনে না!) । আচ্ছা আসো ভিতরে আসো।

আদনান ফ্রেশ হয়ে রুমে গেলো। ড্রয়ার থেকে ল্যাপটপ নিয়ে চালু করে খাটে শুয়ে তাতে ভিডিও দেখা শুরু করলো।কিছুক্ষনপর সে ইউটিউব এ মানুষের রিপ্রোডাক্টিভ(প্রজননতন্ত্র) তন্ত্র নিয়ে ভিডিও দেখা শুরু করলো।ফাতেমাও তার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো, আদনান কি দেখে তা দেখার জন্য।ফাতেমা চিন্তা করলো, ঘটনা কি? আবার কিছুক্ষনপর ল্যাপটপ থেকে কুরআন এর অ্যাপ ওপেন করে কি যেন করতেছিলো।ফাতিমা অবাক হয়ে আদনানের দিকে তাকিয়ে আছে।চোখ দুটো যেন ডাবের মতো বড় হয়ে গিয়েছে তার। ফাতিমা অবশ্য এবার মনে মনে খুশিও হলো এবং ভাবলো হয়তো সে ধীরে ধীরে সংশয় থেকে ফিরে আসছে। কিছুক্ষন পর আবার কি কি প্রিন্ট করার জন্য পেনড্রাইভ এ করে ফাইল নিয়ে কম্পিউটার টেবিলে গিয়ে বসলো। ফাতিমা তো আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। কি করছে এসব! একটু আগ বাড়িয়ে দেখার চেষ্টা করলো ফাতিমা। কিন্তু আদনান তাকে দেখতে দিলো না। বললো পরে দেখো। হটাৎ দরজায় বিকট শব্দ!

: কি হলো??

– তেমন কিছু না। বাতাস হচ্ছে। মনে হয় বৃষ্টি হবে।

:ওহ! মাকে বলো তো একটু খিচুরী রান্না করতে। সাথে গরুর গোসত!

-আচ্ছা, বলছি…

ঘড়িতে রাত ৯:৩৩ বাজে। বাইরে বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।

~আদনান…এই আদনান!

: জি, আম্মুউউউউউউ…..

~খেতে আয় বাবা…

: আসছি মা…

রাতের খাবার খেয়ে মায়ের রান্নার প্রশংসা করে,রুমে চলে গেলো আদনান।ফাতিমাও সব কিছু গুছিয়ে রুমে গেলো… এদিকে টুপ টুপ বৃষ্টি পড়ছে।

:আদনান বললো- “চলো বারান্দায় গিয়ে গল্প করি”

– “না, এখন ঘুমাতে হবে।সকালে ফজরের নামাজে ওঠা লাগবে”- ফেতিমার উত্তর।

: আদনান বললো- “বেশিক্ষন লাগবে না।আর এখন তো তুমি কুরআন তিলাওয়াত করবে।সেই সময়টুকু পড়তে পড়তে একটু গল্প করবো। এছাড়া তোমার জন্য একটা গিফট এনেছি,সেটা দিবো।”

-ফাতিমা বললো- “কি গিফট?”

: “এন্ড্রয়েড মোবাইল।আদনান ব্যাগ থেকে বের করে ফাতিমার হাতে দিলো এবং বললো এতে একটা কুরআনের অ্যাপও আছে, যাতে তুমি যেকোনো সময় এটা পড়তে পারো।” আদনান উত্তর দিলো।

(ঘটনার সব ধরতে না পারলেও কিছু কিছু ফাতিমা বুঝেছে। কারন ফাতিমার ইসলাম প্রাক্টিসে সে নিষেধ না করলেও, এভাবে হেল্প করে না।সুতরাং, আদনানের যে কোনো মতলব আছে, সেটা ফাতিমা কিছু আঁচ করতে পেরেছে।)

– ফাতিমা বললো – “আচ্ছা চলো”

: বারান্দায় গিয়ে আদনান বললো- “এখন তুমি এটা থেকে কুরআন তিলাওয়াত করো, আমি শুনি।আর হ্যা, সূরা ত্বরিক থেকে শুরু করো, বাংলা ট্রান্সলেশানও এখান থেকে করবে। দেখো, নিচে বাংলাও দেওয়া আছে।

আদনানের মতলব বুঝতে ফাতিমার আর অপেক্ষা করতে হলো না। পরক্ষনেই ফাতিমা যেন অন্য জগতে হারিয়ে গেলো। সে কি যেন চিন্তা করছে।

: আদনান ফাতিমার এই অবস্থা দেখে বললো- “ কি চিন্তা করছো? পড়ো…পড়ো। দ্রুত পড়ো। ঠিক আছে আরবী পড়তে হবে না। বাংলাতেই পড়ো।

-ফাতিমা হাস্যকর স্বরে বললো- “হুম! পড়ছি।”

*পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি*

১) শপথ আকাশের, শপথ রাতের বেলায় আত্নপ্রকাশকারীর,

২) তুমি কি জানো সে আত্নপ্রকাশকারী কি?

৩) তা হচ্ছে একটি উজ্জ্বল তারকা,

৪) জমিনে এমন একটি প্রাণীও নেই যার উপর কোনো তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত নেই,

৫) মানুষ কি দেখে না তাকে কোন জিনিস দিয়ে বানানো হয়েছে?

৬) তাকে তৈরী করা হয়েছে এক ফোটা সবেগে( دَافِقٍ) স্খলিত পানি( مَّآءٍ) দিয়ে,

৭) যা বের হয়ে আসে মেরুদন্ড( ٱلصُّلْبِ) ও বুকের পাজরের(اَلتَّرَآئِبِ) মাঝখান থেকে;

৮) এভাবে যাকে তিনি বের করে এনেছেন তাকে তিনি পুনরায় জীবীত করতেও সক্ষম…

: হা হা হা। হয়েছে… হয়েছে… আর পড়া লাগবে না।ফাতিমা তুমি লক্ষ্য করো ৫-৭ নম্বর আয়াতে। এখানে বলা হয়েছে পুরুষের বীর্জ(Semen) নাকি মেরূদন্ড ও বক্ষপাজরের হাড় থেকে তৈরী হয়েছে??কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বলে বীর্জ(Semen) পুরুষের টেস্টিস(Testis) থেকে তৈরী হয়। এই বলে আদনান তার বৈজ্ঞানিক প্রমান সমেত সমস্ত প্রিন্ট করা কাগজ ফাতিমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো; বিশ্বাস না হয় প্রমান দেখো। হা হা হা। কতো হাস্যকর।হা হা হা।তোমরা তো প্রায়ই কুরান কে বিজ্ঞানময় বলো! এই তোমাদের বিজ্ঞানের নমুনা। হা হা হা। এতেই প্রমান হয় তোমাদের নবী একজন মিথ্যা নবী । কারন সে জানে না যে বীর্জ(Semen) কোথায় তৈরী হয়। আর কুরান আল্লারও(!) কিতাব নয়।যদি হতো তাহলে সে জানতো সিমেন(বীর্জ) কোথায় তৈরী হয়,কারন তোমাদের ভাষ্যমতে সে তো সৃষ্টিকর্তা, তার তো সবকিছু জানার কথা।হা হা হা হ।

-ফাতিমা বললো- “এই যে(হাতে চমটি কেটে) তোমার ভাষন শেষ হয়েছে? অনেক তো বললেন! এবার আমি কিছু বলি?”

: আদনান উত্তর দিলো- “ হ্যাঁ, শেষ হয়েছে। কেনো? তুমি কি আবার এটাকেও ডিফেন্ড(Defend) দিবা নাকি? এই বলে যে, বিজ্ঞানতো ভুলও হতে পারে। হয়তো এখনো সঠিকভাবে আবিষ্কার হয়নি।হা হা হা। জেনে রেখো এটা কিন্তু ফ্যাক্ট (প্রমানিত সত্য)।আমি তোমাদের বর্তমান স্কলার জাকির নায়েক, মরিস বুকাইলি, জামাল বাদউয়ি সহ অনেকের ব্যাখ্যা (explanation) শুনেছি। কিন্তু কারো ব্যাখ্যাই আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয় নি। ওগুলো বাদে বলো…

-ফাতিমা বললো- “হ্যা! ডিফেন্ড তো দিতেই হবে।কারন তোমার এই অনধিকার চর্চা দেখে আর কিছু না বলে থাকতে পারছি না!”

: আদনান বললো- “কি বলবে, বলো দেখি শুনি। হা হা।

-ফাতিমা বললো- “তুমি এখানে অনেক গুলো Claim ( প্রমান ছাড়া দাবী)করেছো। প্রত্যেকটার উত্তর আলাদাভাবে দিতে হবে।মনোযোগ দিয়ে শুনবে, হ্যাঁ।”

:আদনান বললো- “কোথায়? আমি তো প্রমান ছাড়া কিছু বলি নি! সব প্রমান তো তোমার হাতেই দিয়েছি। দেখো সেগুলো দেখো।

-“হ্যা দেখেছি। বলছি কেন তোমার কথাগুল প্রমান ছাড়া। একটু ওয়েট করো।” – ফাতিমা বললো।

-ফাতিমা আদনানের দিকে ঘুরে বসে বলা শুরু করলো- “দেখো প্রথমেই তুমি বলেছো যে ‘কুরআন বলেছে পুরুষদের বীর্জ(Semen) তৈরী হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজর থেকে’। কিন্তু কুরআন কখনোই এই কথা বলে নি যে সিমেন(বীর্জ) তৈরী হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্যে থেকে। তোমার প্রথমেই ট্রান্সলেশান বুঝতে ভুল হয়েছে। প্রথমে তুমি ৭ নং আয়াতে খেয়াল করো, এখানে বলা হয়েছে ‘যা বের হয়ে আসে’, এখানে ‘যা তৈরী হয় বলা’ হয় নি। এখানে আল্লাহ যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা হলো ইয়াখরুজু( يَخْرُجُ), যা এসেছে ফি’ল(ক্রিয়া) খরাজা( خرج)থেকে যার অর্থ ‘বের হয়ে যাওয়া”[১]; এর অর্থ কখনোই “সৃষ্টি বা তৈরী হওয়া” নয়। এর পরে তুমি ৬ নং আয়াতে আল-মা­­~য়ু(مَاء)এর বাংলা শুধু পুরুষদের সিমেন(semen) ভেবেছো। কিন্তু আল-মা­­~য়ু( مَاء)[২] এর বাংলা কখনোই শুধু পুরুষদের সিমেন(semen) নয়।এটার অর্থ হলো পানি(যেকোনো পানি জাতীয় জিনিস)। এর পরে যখন দাফিক( دَافِقٍ) শব্দটি এসেছে তখন এটার (مَّآءٍ دَافِقٍ ) এর অর্থ হয় স্ববেগে স্খলিত পানি।আল্লাহ এখানে নিদৃষ্ট করে বীর্জ(Semen) বা শুক্রানু(sperm) বা ডিম্বানু (Ovum) বলতে চাইলে তার জন্য যথাক্রমে মানিয়্যি(مَنِيّ)[৩] এবং লাকহ/ নুতফা(لَقَاح/ نُطفَ )[৪] এবং বুইয়াইদ্বহ (بُيَيْضَة)[৫] ব্যবহার করতেন।

আর এই সবেগে স্খলিত পানি শুধু পুরূষের ক্ষেত্রে নিদৃষ্ট নয় এটা মহিলাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য[৬] কারন মেয়েদের ডিম্বানু যখন ডিম্বাশয়(Ovary) থেকে বের হয় তখন কুমুলাস কমপ্লেক্স (Cumulus Complex) ও পানিসহ স্ববগেই বের হয়।[৭]

এতটুকু শুনে আদনানের মুখের খুশি খুশি ভাব মুহূর্তেই চলে গেলো। এবার আদনানের মনযোগ অন্যত্র চলে গেলো।

– ফাতিমা বললো- “আদনান কি ভাবছো?  মনোযোগ দিয়ে শোনো।”

: “হ্যা…ওহ …দুঃখিত। আচ্ছা এখন বলো।”

– ফাতিমা বললো- “তাহলে আমরা বুঝলাম যে ৬ নং আয়াতে আল্লাহ বুঝিয়েছেন যে আল্লাহ মানুষকে তৈরী করেছেন পুরূষ এবং নারী থেকে সবেগে স্খলিত পানি থেকে যা যথাক্রমে পুরুষের বীর্জ (Semen) ও নারীদের পানিসহ ডিম্বানুকে (Ovum) কে বুঝিয়েছেন। এখানে তো কোনো ভুল নেই। সুবহানাল্লাহ(আল্লাহ সমস্ত দুর্বলতা ও ভুল- ভ্রান্তি থেকে মুক্ত)

: আদনান বললো- “আচ্ছা সেটা নাহয় বুঝলাম। কিন্তু এর কোনোটাইতো মেরুদন্ড বা বক্ষপিঞ্জর এর মধ্যে থেকে আসে না। এটাকে তুমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবে?”

-ফাতিমা বললো- “হ্যাঁ, বলছি। এবার আসি ৭ নং আয়াতের দুটি শব্দ ; আসসুল্ব

(ٱلصُّلْبِ)  এবং আত-তার~য়িব (وَٱلتَّرَآئِبِ) এর ব্যাখ্যায়। লক্ষ্য করো প্রথম শব্দটা হলো সুলব( ٱلصُّلْبِ)। সুলব( ٱلصُّلْبِ) এমন একটি শব্দ যেটি পুরুষদের(মুযাক্কার) জন্যই নিদৃষ্ট। যেমনঃ প্রস্টেট (Prostate) বলতে আমরা ছেলেদের একটা অর্গানকেই(Organ) বুঝি।এবং কখনোই এটা মেয়েদের ক্ষেত্রে বুঝাবে না। ইবনে কাছীর এমনটিই বলেছেন। এখন অর্থের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই শব্দের অর্থ অনেকগুলো হয় ।যেমনঃ মেরুদন্ড, ঔরসজাত বা শ্রোনীদেশ থেকে আগত যাকে আমরা ইংরেজী তে Loins বলি[৮] আরবরা এটাকে সচারচর ঔরসজাত (Loins-শ্রোনীদেশ) হিসেবেই জানে বা ব্যাবহার করে। কথাটা শাইখ আব্দুল ওহাব আস-সাউরীর। তাহলে কুরআন যদি বলে, পুরুষদের ক্ষেত্রে সিমেন(semen) আসে (Loins-শ্রোনীদেশ) থেকে। তাহলে সেটা কি কুরআনের ভুল হয়? না, বরং এটাই সত্য। সুবহানাল্লাহ।”

: আদনান কিছুটা অবজ্ঞাসুরে বললো- “উনি বললেই কি আমরা এটা মেনে নেব যে, সুল্ব( ٱلصُّلْبِ) এর অর্থ এই আয়াতে মেরুদন্ড নয়? আমি এই আয়াতে এর অর্থ মেরূদন্ড অর্থ নিতেই পারি।”

-ফাতিমা বললো- “আচ্ছা সেটাতো আমি বলিনি যে তোমাকে প্রমান ছাড়াই উনার কথা মেনে নিতে হবে। দেখো তাহলে সুল্ব( ٱلصُّلْبِ) এর এই আয়াতে কি অর্থ হবে তা নিয়ে আমরা একটু গবেষনা করি। আল্লাহ তা’য়ালা এই শব্দটি কুরআনে দুই বার ব্যবহার করেছেন। একটি সুরা ত্বরিক এর ৭ নং আয়াতে এবং অন্যটি সুরা নিসার ২৩ নং আয়াতে।

আল্লাহ বলেনঃ ‘তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে ………… তোমাদের ঔরসজাত(أصْلاَبِكُمْ) পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।’ [ সুরা নিসা:২৩]

লক্ষ্য করো এখানের ট্রান্সলেশানে আস-সুল্ব( ٱلصُّلْبِ) এর বাংলা করা হয়েছে ঔরসজাত(From loins)। এর পরে যদি আমরা একটু ডিকশনারী তে এর অর্থ দেখি তা হলেও সুল্ব( ٱلصُّلْبِ)এর অর্থ আমরা ঔরসজাতই(loins) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাবো।তুমি যদি দেখতে চাও তাহলে বিখ্যাত আরবি টু ইংরেজী ডিকশনারী(Lexicon) দেখতে পারো[৯]। তুমি যদি এতেও সন্তুষ্ট না হও তাহলে তোমাকে বাইবেল থেকে রেফারেন্স দেই।অবশ্য এই রেফারেন্সটাই যথেষ্ট তোমাকে সন্তুষ্ট করার জন্য। কারন খ্রিষ্টানরা বাইবেল আরবিতে ট্রান্সলেট করেছে। সেখানেও তারা ঔরসজাত(Loins) এর আরবি করেছে সুল্ব( ٱلصُّلْبِ)[১০] । হা হা হা হা। এই বলে সে নিজের ড্রয়ার থেকে কিছু কাগজপত্র বের করলো। সেটি আদনানের হাতে দিয়ে বললো এই নাও, দেখো।”

আদনান হাতে কাগজ নিয়ে বিরবির করে বললো – “ ঠিকই তো! তাহলে আমার বন্ধু কি আমাকে ভুল বললো?”

– ফাতিমা আদনানকে জিজ্ঞাসা করলো – “আচ্ছা তুমি কি কখনো শেক্সপিয়ারের গল্প পড়েছো?”

: “হ্যা, পড়েছি। উনি তো একজন মহাকবি, নাট্যকার, অভিনেতা ও লেখক।উনার অনেক বই পড়েছি। সব নাম তো মনে নেই তবে Hamlet, Macbeth, Othello, Romeo and Juliet এগুলো পড়েছি।”-আদনানের উত্তর।

-ফাতিমা বললো- “আচ্ছা আমার কাছে না উনার লেখাগুলো অনেক অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য মনে হয়। উনি উনার লেখাতে এমন এমন শব্দ ব্যাবহার করেছে যে, উনার আগে ইংরেজীতে ওই শব্দ আগে কেউ ব্যাবহার করে নি।এরকম শব্দের ব্যাবহার কি উনার গ্রন্থের গ্রহনযোগ্যতা কমায় নি?”

: আদনান উত্তর দিলো- “আরে না না। এতে উনার গ্রহণযোগ্যতা কমবে কেনো বরং বেড়েছে।উনার মতো সাহিত্যিক ইংরেজীতে অল্প কয়েকজনই আছে। আর সাধারন মানুষের কাছে উনার আস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য শব্দ ব্যাবহার খারাপ লাগলেও সাহিত্যিকদের কাছে এগুলো উনার লেখার মাধুর্য বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তার ব্যবহৃত শব্দগুলো আজও ইংরেজীতে ব্যবহার হয়, যদিও এর প্রচলন আগে ছিলো না। আচ্ছা এগুলো তো এখন আলোচনার বিষয় নয়। তুমি টপিক চেঞ্জ করছো কেনো?”

-ফাতিমা বললো- “না…না। আমি টপিক চেঞ্জ করছি না। আমি আমার টপিকেই আছি। শুধু তোমার থেকে একটু ঘুড়িয়ে স্বীকারোক্তি নিলাম, হা হা।”

:আদনান প্রশ্ন করলো- “কিসের স্বীকারোক্তি?”

-ফাতিমা উত্তর দিলো – “বলছি…বলছি। এবার লক্ষ্য করো ৬ নং আয়াতের ২য় শব্দে তার~য়িব( اَلتَّرَآئِبِ) এর প্রতি।এই শব্দটি স্ত্রীবাচক।যেমনঃ ওভারী (Overy) বলতে আমরা কেবল এটাই বুঝি এটা Female দের একটি অর্গান (Organ)।তাই তার~য়িব( اَلتَّرَآئِبِ) বলতে মহিলাদের(মুয়ান্নাস) দেহের অংশ বুঝায়।এটা পুরুষদের জন্য নয়।এমনটিই ইবনে কাছীর(রহঃ) বলেছেন। এছাড়া তার~য়িব( اَلتَّرَآئِبِ) এমন একটি শব্দ যার অর্থ আরবিতে নিদৃষ্টভাবে বলা কঠিন। অর্থাৎ, অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য।

আগের শব্দের অর্থ যেমন তোমাকে বিভিন্ন স্থান(Source) থেকে দেখিয়েছি, এটার অর্থ অবশ্য তোমাকে তেমনভাবে দেখাতে পারবো না।কারন এটা খুবই Ambiguous শব্দ (অস্পষ্ট বা অনেক অর্থ থাকতে পারে)।আমি এই শব্দের অর্থ অনেক ডিকশনারিতে পাইনি।তবে Lexicon এ পেয়েছি।সেখানেও এটা বলা আছে যে এটা খুবই Ambiguous শব্দ (অস্পষ্ট বা অনেক অর্থ থাকতে পারে)[১১] । সাধারনভাবে বলতে গেলে এর অর্থ হয় ‘কলার বোন(ক্লাভিকল) থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত যেকোনো অংশ’। এছাড়াও “বক্ষ,বক্ষপাজর, পেট(abdomen), জরায়ু, ফেলোপিয়ান টিউব,ওভারী,দুই চোখ,এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান” এমন ট্রান্সলেশনও কোনো যায়গায় পেয়েছি[১১] । তাই এখন কুরআন যদি বলে মহিলাদের ক্ষেত্রে তাদের ডিম্বানু (Ovam with Cumulus Oophorus and Water) আসে পেট (abdomen= abdominal cavity+pelvic cavity<mainly ovary is situated in the pelvic cavity>) থেকে বা যদি বলি ওভারী(Ovary) থেকে তাতে কি কুরআনের ভুল হয়[১৩]? নিশ্চই নয়; বরং এটাই ঠিক।”

: আদনান বললো- “কিন্তু আল্লা(!) এতো কঠিন বা অস্পষ্ট শব্দ কেনো কুরআনে ব্যবহার করবেন। আল্লা(!) কি বলেন নি যে, কুরআনকে তিনি সহজ করে দিয়েছেন?”

-ফাতিমা বললো- “এর উত্তর তো তুমিই আগে দিয়ে দিয়েছো। আল্লাহ তায়ালা অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য কিছু শব্দ কিছু ব্যবহার করেছেন; এর ভাষাশৈলীকে বাড়ানোর জন্য, এর সৌন্দর্যে আরো মাধুর্য মেশানোর জন্য। যেমনটি করেছিলেন শেক্সপিয়ার। সাধারনভাবে, মনে করো দুইজন কথা বলছে অন্যজন পাশ থেকে শুনছে। হঠাৎ একজন একটি অপরিচিত শব্দ শুনতে পেলো। সে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা ওইদিকে নিয়ে যাবে এবং জিজ্ঞাসাও করতে পারে এর অর্থ কি? এভাবেই এই শব্দগুলো আল্লাহ তা’য়ালা ব্যাবহার করে আরবদের মনযোগ আকর্ষন করেছে। আর ঠিক এই কারনেই আরবরা মাঝে মাঝে কুরআন শুনে বলতো, এটি এমন কথা যে, তারা আগে কখনো শোনেনি। তিনি আরো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করেছেন যেমনঃ আলিফ-লাম-মিম,হা-আইন-মিম-ছোয়াদ ইত্যাদি।এগুলোও অস্পষ্ট শব্দ। আর হ্যা, আল্লাহ তা’য়ালা সূরা কমার এর ৩২ নং আয়াতে যে বলেছেনঃ “আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, উপদেশ গ্রহনের জন্য।” এখানে বলা হয়েছে কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহন সহজ। কিন্তু তুমি আরবি না বুঝে ট্রান্সলেশান পড়ে কুরআন এর সবকিছু সহজেই বুঝে ফেলবে? তাহলে তো তাফসীরকারকগন কুরআনের উপর এতো বড় বড় তাফসীর লিখতেন না। তাই না?সুতরাং, ট্রান্সলেশান পড়ে কুরআন এর সবকিছু সহজেই বুঝে যাবে; এমন বোঝার কথা আল্লাহ তা’য়ালা বলেন নি।”

: আদনান প্রশ্ন করলো- “তাহলে যারা ট্রান্সলেশান করেছে তারা তো ভাষা তোমার থেকে কম জানে না।তারা কেনো এমন ট্রান্সলেশান করলো?”

-ফাতিমা উল্টা প্রশ্ন করলো- “আচ্ছা! তোমার সমস্যা কি কুরআনের আরবী টেক্সট(Text) এ নাকি ট্রান্সলেশানে(Translation)?”

:আদনান উত্তর দিলো- “ট্রান্সলেশানে! আমি তো আর আরবী টেক্সট(Text) বুঝি না।”

-ফাতিমা বললো- “কুরআনের অনেক ট্রান্সলেশানে আমারও সমস্যা আছে, শুধু এই আয়াত না অন্য আয়াতেও আছে। সেটা মুল বিষয় না। ট্রান্সলেশান পড়ে তুমি কখনোই কুরআন ১০০% বুঝতে পারবে না।”

তোমার আরেকটি প্রশ্ন ছিলো যে, যারা ট্রান্সলেশান করেছে তারা আমার থেকে কম জানে কিনা? না, বরং তারা আমার থেকে বেশি জানে। কিন্তু তাদের কাছে এই বিষয়টি স্পষ্ট ছিলো না[১৪]। তুমি যদি ভাষাবিদ্যানুযায়ী এর বিশ্লেষন করো তাহলে দেখবে যে, তার~য়িব( اَلتَّرَآئِبِ) মূলত কোনো হাড়ের বাকা অংশকে বুঝায়। মায়ের জড়ায়ুতে যখন বাচ্চা থাকে, এক পর্যায়ে এটি বক্ষপাজরের ভিতরে ঢুকে যায়। যেহেতু ওই বক্ষপিঞ্জরগুলো বাকা, তাই অনেকে এই শব্দকে বক্ষপিঞ্জর অনুবাদ করেছে।আবার অনেকে ক্লাভিকলও (beauty bone) ট্রান্সলেশান করেছে। আবার, শ্রোনীঅস্থিচক্রের(Pelvic bone) পেলভিক ব্রিমের পিউবিক আর্চও (pubic arch of pelvic brim ) একটি বাঁকা অস্থি এবং ডিম্বাশয় (overy) থাকে এই হাড়ের বা আর্চের কেন্দ্রমুখী(medial) দিকে। এই পেলভিক অস্থিও যে বাঁকা হয়; এই জ্ঞান তখন যারা অনুবাদ করেছে তাদের ছিলো না। যেটা আমাদের আছে। তাই এভাবে ট্রান্সলেশান করলে আমরা এখন আরো স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে, তার~য়িব( اَلتَّرَآئِبِ)= শ্রোণী অস্থিচক্রের বাঁকা অংশের কেন্দ্রমুখী দিক(Area medial to the Pubic arch) থেকে মেয়েদের ডিম্বানু আসে। তখন এটা তো এখন আরো স্পষ্ট (specific) হয়ে যায়। সুতরাং, বৈজ্ঞানিকভাবে কুরআন ভুল নয়।সুতরাং, প্রমান হলো আল্লাহ তা’য়ালা জানতেন যে নারী পুরুষের সিমেন কোথা থেকে আসে। আচ্ছা আমার মোবাইলে এই ছবিটি দেখো।”

এরপর, তোমার পরবর্তী Claim ( প্রমান ছাড়া দাবী)হলো আল্লাহর রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)জানতেন না যে, সিমেন(semen) কোথা থেকে উতপন্ন হয়? তোমার এই ভিত্তিহীন দাবিটিও ভুল।কারন সহিহ মুসলিমের কয়েকটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কিছু লোক নিজেদেরকে নারীসহচর্য থেকে দূরে রাখার জন্য নিজেদের অন্ডকোষ কেটে ফেলার জন্য আল্লাহর রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর নিকট অনুমতি চাইলে, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের অনুমতি দেয় নি[১২]। কারন এভাবে নিজেকে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাহীন করা জায়িজ নেই। সুতরাং, এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি আল্লাহর রাসূলও(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)জানতেন যে সিমেন(semen) কোথায় উৎপন্ন হয়।”

এতটুকু বলে ফাতিমা হাফ ছাড়লো।এতক্ষনে আদনানের মুখ কালো হয়ে পেচার মতো হয়ে গিয়েছে।সে আর বলার মতো কিছুই খুজে পাচ্ছে না।কতো আশা নিয়ে এসেছিলো যে, আজ ফাতিমাকে কুরআনের ভুল দেখিয়ে তার বিশ্বাস ভেঙ্গে দেবে।কিন্তু কিছুই হলো না!

এরপর ফাতিমা আবার বলা শুরু করলো।

-ফাতিমা বললো- “দেখো, আসলে এই আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য উন্মোচন করতে চান নি।এখানে আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের একটি সাধারন উদাহরন দিয়ে বুঝিয়েছেন যে, মানুষের ভেবে দেখা উচিত যে তিনি মানুষকে কত সামান্য জিনিস দিয়ে তৈরী করেছেন এবং তিনি তাকে পুনরায় আবার তৈরী করতেও সক্ষম।এই জিনিস নিয়ে কিছু অবুঝ মুসলিম ভাইবোন (যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড বায়োলজির নয়), কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের সাদৃশ্য প্রমান করতে চায়।অথচ এটা বিজ্ঞান সংক্রান্ত আয়াত নয়।এই দেখে যারা নাস্তিক তারাও অপপ্রচার চালায়, শুধু মাত্র অনুবাদের উপর ভিত্তি করে। তুমি এখান থেকে বৈজ্ঞানিক ভুল ধরেছো, তাই আমি এটাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করলাম। এছাড়া এই আয়াত দিয়ে কুরআনের বৈজ্ঞানিক নিদর্শন আমি কাউকেই দেখাইনি। যাই হোক; এবার আমি একটু হাসি? হা হা হা। আর তোমাকেও তো কতদিন ধরে বলেছি যে, আরবি শিখে কুরআনকে বুঝার চেষ্টা করো। তা করলে আজ তুমিও এই অনধিকার চর্চা করতে না এবং তোমার সংশয়ও দূর হতো।আর এই ২০ হাজার টাকা খরচ করে মোবাইল কিনে কুশলে আমাকে ভুল বোঝানোর চেষ্টাও করতে না! একে তো তুমি হেরে গেলে আর অতিরিক্ত তোমার ২০০০০ টাকাও গেলো।হা হা হা। এবার বেশি করে হাসো ; হা হা হা। যে কুরআন ভুল আছে,হা হা হা। কি? এবার আরবী শিখবে তো?”

আদনানের মুখ দেখে মনে হলো ও কিছু একটা বলবে।কিন্তু কিছু না বলেই আদনান আজ একাই মশারী টানিয়ে,লাইট বন্ধ করে খাটের এক কোনায় একা শুয়ে পড়লো। আর বুদবুদ করে কি যেনো বললো; যার এতটুকুই শোনা গেলো যে, বাবা আমাকে এ কেমন স্ত্রী(Wife) এনে দিলো? এ দেখি আমার থেকে বেশী বোঝে!

(ইসলামফোবিস্টদের কুরআনের ভুল সংক্রান্ত অনেকগুলো অভিযোগের এই একটা অভিযোগ।এটি তাদের সেই অভিযোগের উত্তর। অবশ্য কুরআনের ভুল সংক্রান্ত সব অভিযোগগুলোই তাদের অজ্ঞতার ফলাফল এবং সবগুলো অভিযোগই খুবই দূর্বল। অবশ্য এই অভিযোগটা বেশ শক্ত ছিলো।আমি নিজেও মেডেকেল স্টুডেন্ট হিসেবে যতদিন অ্যারাবিক জানতাম না,ততদিন এই আয়াতের ব্যাখ্যা খুজে পাচ্ছিলাম না।কারন, জাকির নায়েক, জামাল বাদউয়ি প্রমুখ স্কলারদের বক্তব্যেও সন্তুষ্ট হতে পারি নি। আল্লাহর রহমতে কিছু আরবী শিখার পর শায়েখ সালমান আল অউদ ও শাইখ আব্দুল ওহাব আস-সাউরীর ও ডাক্তার ইবনুল হাসেমী এর সহযোগীতায় মনের মতো উত্তর পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।আল্লাহ তাদের হায়াতে বরকত দিন। যা কিছু কল্যান সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং যা কিছু ত্রুটি তা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে।)

COPYRIGHT: Ashraful Alam

তথ্য ও গ্রন্থসূত্রাবলীঃ

(১) বের হয়ে আসাঃ http://arabic.britannicaenglish.com/en/goes%20out

(২)পানিঃ http://arabic.britannicaenglish.com/en/water

(৩) সিমেনঃhttps://www.almaany.com/en/dict/ar-en/semen/

(৪) শুক্রানুঃ http://arabic.britannicaenglish.com/en/sperm

(৫) ডিম্বানুঃ https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/ovum/

(৬)ওভুলেশানঃ https://www.youtube.com/watch?v=nLmg4wSHdxQ

(৭) http://www.meddean.luc.edu/lumen/Meded/Histo/HistoImages/hl10-08.jpg

The Developing Human by Dr. Keith L. Moore (10th edition); page: 22

(৮) ٱلصُّلْبِ : A Word for word meaning of the QURAN ; By Mohar Ali , Page: 1975 , 3 no. point…

(৯) Lexicon: http://www.quransmessage.com/articles/verse%2086-7.htm

#Other: https://books.google.com.bd/books?id=knA9NptP7xsC&pg=RA1-PA791&lpg=RA1-PA791&dq=sulbi+loins&source=web&ots=9EiWgxj6g-&sig=RC_M0WNSPTHf8BkvVvQ1vn4YkpM&hl=en&sa=X&oi=book_result&ct=result&redir_esc=y#v=onepage&q&f=false

#https://books.google.com.bd/books?id=42oUAAAAIAAJ&pg=PA146&lpg=PA146&dq=sulb+loins&source=web&ots=Hx0CADj9x5&sig=Uf_0xSCK9j03pk0hXgUJodFyQw8&hl=en&sa=X&oi=book_result&ct=result&redir_esc=y#v=onepage&q=sulb%20loins&f=false

(১০) বাইবেলঃ

আরবিঃ https://www.enjeel.com/bible.php?bk=2

ইংরেজীঃ https://www.bible.com/bible/12/EXO.1.asv

যারা খুজতে চায় না তাদের জন্য এখানেই দিয়ে দিচ্ছিঃ

Exodus 1:5: And all the souls that came out of the loins of Jacob were seventy souls: and Joseph was in Egypt already. (American Standard Version)

The word ‘loins’ in this verse is rendered as ‘sulb’ by the Christian translators at ArabicBible.com: 5وَكَانَتْ جَمِيعُ نُفُوسِ الْخَارِجِينَ مِنْ صُلْبِ يَعْقُوبَ سَبْعِينَ نَفْسًا. وَلكِنْ يُوسُفُ كَانَ فِي مِصْرَ আন্ডারলাইন করা শব্দটিই সুল্ব ( صُلْبِ ); যারা আরবী পড়তে পারে না তাদের জন্য।

(১১)তার~য়িব( اَلتَّرَآئِبِ): http://www.quransmessage.com/articles/verse%2086-7.htm

(১২) সহিহ মুসলিমঃ কিতাবুন নিকাহঃ হাদিস নং- ৩২৯৫,৩২৯৬,৩২৯৭

(১৩) # http://www.reproduction-online.org/content/121/3/339.abstract

# http://americanpregnancy.org/getting-pregnant/ovulation-faq/

(১৪) […When we look at the word being translated as “ribs” (tarâ’ib, the plural of tarîbah) we find that it is used linguistically for the general are of the chest and the abdomen. In al-Qâmûs, the famous classical dictionary of al-Fayrûzabâdî it is defined as a number of things: “the bones of the chest or what comes after the two collarbones or what comes between the collarbones and the chest or the four ribs to the right of the chest or the four ribs to the left of the chest or the hands, eyes and feet or the collarbones.” Some Companions of the Prophet (peace be upon him) and some Successors had also provided many possible meanings, like the lower ribs and al-Dahhâk’s statement that it is the area between the breasts and feet…

This word clearly has a very broad and diverse definition. It is so ambiguous a word that the Companions of the Prophet (peace be upon him) could not give it a precise definition. Scholars of Qur’ânic commentary have consistently admitted to there being at least three different possible meanings for this word as it is used in the verse. This is an admission that they do not know for certain what the tarâ’ib are, except that they generally agree it refers to an area of the woman’s body. It can apply to any region nearing the ribcage. Therefore, the area of the ovaries, the fallopian tubes, or the uterus can easily fit into the general area that is being indicated by these verses.]

 

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

About The Author

আশরাফুল আলম

আমি আশরাফুল আলম। বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজে এম.বি.বি.এস কোর্সে এবং ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটি'তে Diploma in Islamic Studies কোর্সে অধ্যয়নরত আছি। ছোটবেলা থেকে মোটামুটি ধার্মিক ফ্যামিলিতে বেড়ে উঠলেও আমার মধ্যে তেমন আল্লাহর দ্বীনের তাফাক্কুহ ছিলো না। আসলে আমাকে কেউ বোঝায়ই নি- যে আল্লাহর দ্বীনের গুরুত্ব কেমন? সবাই শুধু সালাতের কথাই বলতো। নিয়মিত সালাত পড়লে জান্নাত পাওয়া যাবে- এতটুকুই জানতাম। যখন কলেজে উঠলাম তখন আল্লাহ্‌ তা'য়ালা কিছু ভাইয়ের পরিশ্রমের উসিলায় দ্বীনের বুঝ দিলেন। তারপর থেকে ইসলাম সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, সেটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে জানার চেষ্টা করেছি। আর যতই জেনেছি ততই মুগ্ধ হয়েছি- এই শরীয়তের বিস্তৃতি উপলব্ধি করে। লেখালেখি করার উৎসাহ পেয়েছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস থেকে। সালেহ আল মুনাজ্জিদ বলেন- নসীহাহ দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারপর তিনি নিম্নোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করেন, The Prophet (blessings and peace of Allah be upon him) said: “Allah, the angels, the inhabitants of heaven and earth, even the ant in its hole and even the fish in the sea, send blessings upon the one who teaches the people good.” Narrated by al-Tirmidhi, 2609; classes as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Jaami‘, 1838.

Related Posts

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.