মানবজাতির কাছে ইসলামের একটি উপহার হল সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদ এবং আমরা এই উপহারকে অগ্রাহ্য করার দুঃসাহস দেখাতে পারিনা।

আর্নল্ড টয়নবি

ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা যেটি সহজ সরল হওয়া সত্ত্বেও এতে নিগুঢ় তত্ত্ব বিদ্যমান। এর মধ্যে বিশ্বজগতের সকল দৃষ্টিকোণ অন্তর্ভুক্ত। এর মূলভাব হল একত্ববাদ। আমাদের বুদ্ধি ও প্রাকৃতিক স্বভাবের সাথে সংগতি রেখেই ইসলাম মানবজাতিকে প্রকৃতি ও বিশ্বজগতে বিদ্যমান সঙ্গতি ও ভারসাম্য নিয়ে চিন্তা গবেষণা করার শিক্ষা দেয়। বিশ্বজগতের মধ্যে বিদ্যমান সঙ্গতি ও ভারসাম্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর একক হওয়ার ক্ষেত্রে যেন এক মুদ্রিত প্রমাণ। এই একত্ববাদের ধারণাটি শুধুমাত্র আল্লাহর সৃষ্টিকর্মের ক্ষেত্রে একক হওয়ার বিষয়টিকেই তুলে ধরেনা বরং এটি সত্ত্বা হিসেবেও আল্লাহর একক হওয়ার ধারণাটিকে তুলে ধরে। এটি কেবল এই বিষয়টিকেই তুলে ধরে যে স্রষ্টা এক এবং অনন্য এবং আমাদের আনুগত্য ও ভালবাসা পাওয়ার একমাত্র যোগ্য তিনিই। এটি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুলে ধরে আর তা হল যে সকল ইবাদাত এবং উপাসনা একনিষ্ঠভাবে তারই জন্য নিবেদন করতে হবে। এই প্রবন্ধটিতে কিছু যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি এটি প্রমাণ করার জন্য যে ঈশ্বর কেবল এক এবং অদ্বিতীয়। পরবর্তি একটি প্রবন্ধে ইন শা আল্লাহ তুলে ধরা হবে যে কেন আল্লাহ আমাদের সকল ইবাদাত ও আরাধণা পাওয়ার একমাত্র যোগ্য। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার উপাসনার ক্ষেত্রে একত্ববাদের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে যা এই প্রবন্ধের আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। স্রষ্টার একত্ববাদ শুধুমাত্র মনঃপ্রসূত সহজাত একটি ধারণা নয় বরং এমন অনেক যুক্তি এটিকে প্রমাণ করে। যুক্তিগুলো হলঃ

IIRT Arabic Intensive

১। বহিষ্কার নীতি

২। ধারণামূলক বিভেদ

৩। অক্কামের ক্ষুর

৪। সজ্ঞায়িত করার যুক্তি

৫। অহি থেকে যুক্তি

১। বহিষ্কার নীতি (The Argument from Exclusion) 

সংজ্ঞা থেকেই জানা যায় যে সৃষ্টিকর্তার একটি নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি থাকবে। কারণ যদি সৃষ্টিকর্তার স্বতন্ত্র কোনো ইচ্ছাশক্তি না থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে যে বাইরের কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্রষ্টা এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু এটি সৃষ্টিকর্তার নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি থাকার বিষয়টির সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ একত্ববাদের সকল নীতিতে একথা স্বীকার করা হয়েছে যে সৃষ্টিকর্তার অবশ্যই স্বতন্ত্র ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। কুরআনও বিষয়টিকে সমর্থন করে। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ তাই করেন যা তিনি ইচ্ছা করেন।” [কুরআন, ১১:১০৭]

ধর্মতত্ত্বীয় ধারণাগুলো বাদেও আরো কিছু ধারণা রয়েছে যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে ঈশ্বরের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি রয়েছে এবং তাকে কেও সৃষ্টি করেনি। যেহেতু মহান স্রষ্টা চিরঞ্জীব এবং তিনি এই সসীম বিশ্বজগতকে অস্তিত্ব দান করেছেন সেহেতু অবশ্যই তিনি নিজেই ইচ্ছা করে এই বিশ্বজগতকে বাছাই করে সৃষ্টি করেছেন। কারণ কোনো কিছুকে বাছাই করতে হলে কাউকে না কাউকে তা নিজ ইচ্ছায় বাছাই করতে হয়। দ্বিতীয়ত এই মহাবিশ্বে এমন সত্ত্বা বিদ্যমান (যেমন মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী) যাদের নিজেদের ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। তাহলে যিনি এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিজেরও অবশ্যই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। কারণ কেউ কাউকে এমন কিছু দান করতে পারেনা যা তার নিজের কাছে নেই। সুতরাং স্রষ্টার স্বতন্ত্র ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল তাহলে এই সৃষ্টিজগতের পেছনে কতগুলো বা কতজনের ইচ্ছাশক্তি বিদ্যমান? বহিষ্কারের নীতির শর্তে কেবলমাত্র একটি ইচ্ছাশক্তি থাকা সম্ভব। অর্থাৎ একজন সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতিই সম্ভব।

ধরুন তর্কের খাতিরে ধরে নেই যে সৃষ্টিকর্তা দুইজন। ধরুণ সৃষ্টিকর্তা ‘ক’ একটি পাথরকে সরাতে চান এবং সৃষ্টিকর্তা ‘খ’ ও পাথরটিকে সরাতে চান। তাহলে নিচের তিনটি পরিণতির যেকোন একটি সম্ভব।

১। একজন স্রষ্টা আরেকজনকে পরাজিত করে পাথরটিকে নিজের ইচ্ছামত দিকে সরিয়ে দিতে পারে।

২। দুইজনের ক্ষমতা সমান হওয়ায় কেউই পাথরটিকে একে অপরের বিরুদ্ধে বিপরীত দিকে সরাতে পারলনা।

৩। তারা উভয়ই পাথরটিকে একই দিকে সরিয়ে দিল।

১ নং প্রেক্ষাপটটি প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র একজনের (অধিক ক্ষমতাশালীর) ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২ নং প্রেক্ষাপটে দেখা যায় দুইজনের ক্ষমতা সমান হওয়ায় কারো বিরুদ্ধে কারোর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। ৩ নং প্রেক্ষাপট থেকেও দেখা যায় যে দুইজনের ইচ্ছা একই হওয়ায় একটিমাত্র ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হচ্ছে। সুতরাং এটি বিবেকপ্রসূত সমাধান যে সৃষ্টিকর্তা কেবল একজনই কারণ সকল ক্ষেত্রেই একটিমাত্র ইচ্ছাই কার্যকর।

আবার কেউ যুক্তি দিতে পারে যে একাধিক সত্ত্বা মিলেও তো একটিমাত্র ইচ্ছাকে করতে পারে। আমি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই যে কিভাবে আপনি জানেন যে একাধিক ইলাহ বা ঈশ্বর রয়েছে? এটি অজ্ঞতার পরিচায়ক কারণ এমন কোনোই প্রমাণ নেই যাতে এটা প্রমাণিত হয় যে সৃষ্টিকারী সত্ত্বা একাধিক। তাহলে আমরা এবার পরবর্তী যুক্তিটির দিকে লক্ষ্য করি।

২। ধারণামূলক বিভেদ (Conceptual Differentiation)

যখনই দুইটি ধারণা বা দুইটি সত্ত্বার অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে তখনই তাদের মধ্যে কোনো না কোনো ভিন্নতা অবশ্যই থাকবে। যেমন যেকোনো দুইটি গাছ আকার- আকৃতি, রং বা বয়স এর মাধ্যমে একটি অপরটি থেকে ভিন্ন। যদিও তাদের বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ মিল থাকতে পারে তবুও অন্তত এমন একটি হলেও বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার দ্বারা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে গাছ দুটি ভিন্ন। অর্থাৎ দুইটি ভিন্ন ভিন্ন গাছের উপস্থিতি বিদ্যমান। এই পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য হিসেবে নিছক গাছ দুইটির অবস্থান ও হতে পারে। এই যুক্তিটি দুইটি যমজ বাচ্চার ক্ষেত্রেও খাটানো সম্ভব। আমরা জানি যে তারা দুটি ভিন্ন যমজ শিশু কারণ তাদের এমন বৈশিষ্ট্য অবশ্যই রয়েছে যার মাধ্যমে তাদের ভিন্নতা প্রকাশ পায়। এই ভিন্নতা তাদের নিছক তাদের অবস্থানও হতে পারে কারণ দুইটি ভিন্ন শিশু একই সময়ে একই জায়গা দখল করে অবস্থান করেনা।

তাহলে যদি এই মহাবিশ্বের একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকে তাহলে তাদের মধ্যে এমন কোনো না কোনো বৈশিষ্ট্য অবশ্যই থাকবে যার মাধ্যমে তাদের ভিন্নতা প্রকাশ পায়। যদি তারা সকল দিক থেকে একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হন তাহলে আমরা কিভাবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে তারা সংখ্যার দিক থেকে দুইজন, একজন নন?

যদি কেউ অন্য কারো সমতুল্য হয় তাহলে একজনের জন্য যাকিছু সত্য, অপরজনের জন্যও তার সবগুলো সত্য বলে বিবেচিত হবে। ধরুন আমাদের কাছে ‘ক’ এবং ‘খ’ নামক দুইটি বস্তু আছে। যদি তারা সকল দিক বিবেচনায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয় এবং এমন কোনো বৈশিষ্ট্যই না থাকে যার দ্বারা আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারি তাহলে অবশ্যই বস্তু দুটি মূলত একই অভিন্ন বস্তু। আমরা বিষয়টিকে আমাদের ধারণার ভিত্তিতে এভাবে উপস্থাপন করতে পারি যে যদি ‘ক’ এর জন্য যা কিছু সত্য তার সবকিছুই ‘খ’ এর জন্যেও সত্য হয় তাহলে ‘ক’ এবং ‘খ’ অভিন্ন।

চলুন আমরা ধারণাটিকে সৃষ্টিকর্তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি। তর্কের খাতিরে যদি আমরা ধরে নেই যে ‘ক’ এবং ‘খ’ নামে এই বিশ্বজগতে দুইজন সৃষ্টিকর্তা বিদ্যমান। তাহলে যা কিছু ‘ক’ এর জন্য সত্য তার সবকিছুই ‘খ’ এর জন্যেও সত্য। যেমন সৃষ্টিকর্তা ‘ক’ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। তাহলে সৃষ্টিকর্তা ‘খ’ ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং সর্ববিষয়ে জ্ঞানী। তাহলে বাস্তবে আসলে কয়জন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন? কেবলমাত্র একজনই। কারণ তাদের মধ্যে পার্থক্যকারী কোন বৈশিষ্ট্যই নেই। আর যদি কেউ তর্কের খাতিরে বলে যে তারা একে অপর থেকে ভিন্ন তাহলে তারা মূলত দ্বিতীয় কোনো সৃষ্টিকর্তাকে সম্বোধন করছেনা বরং তারা কোন মাখলুক বা সৃষ্ট বস্তুকে সম্বোধন করছে কারণ সেই ভিন্ন সত্ত্বার মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্যের অভাব বিদ্যমান যা সৃষ্টিকর্তাকে শোভা পায়।

যদি কেউ এমন ধারণা করে যে সৃষ্টিজগতের একাধিক সৃষ্টিকর্তা রয়েছে (মুশরিক বা সন্দেহবাদী) তাহলে তাকে একথা স্বীকার করতেই হবে যে যা কিছু সৃষ্টিকর্তা ‘ক’ এর জন্য সত্য তার সকল সকল কিছুই সৃষ্টিকর্তা ‘খ’ এর জন্যেও সত্য। তথাপি সৃষ্টিকর্তা ‘ক’ এবং ‘খ’ মুলত এক এবং অভিন্ন স্বত্বা। যদি এরপরও একজন সন্দেহবাদী বা বহু ঈশ্বরবাদী দাবি করে যে সৃষ্টিকর্তা একাধিক এবং তারা ভিন্ন তাহলে আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই যে কিভাবে তারা ভিন্ন? যদি তারা প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে মুলত তারা অজ্ঞতার রাজ্যে প্রবেশ করে অবান্তর যুক্তিই দিবে যা মূলত কোন গ্রহণযোগ্য যুক্তিই হবেনা।

৩। অক্কামের ক্ষুর (Occam’s Razor)

উপরিউক্ত বর্ণনার পরও এমন কিছু অবিবেচক থাকতে পারে যারা তারপরও একাধিক সৃষ্টিকর্তা এবং সৃষ্টির পেছনে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করে। অক্কামের ক্ষুরের আলোকে যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য নয়। অকহ্যামের অধিবাসী ফ্রান্সিক্যান ফ্রাইয়ার উইলিয়াম কর্তৃক প্রদত্ত মতবাদ হল এই অক্কামের ক্ষুর। মতবাদটি এরুপ, “Plaralitas non est ponenda sine necessitate”। বাংলায় একে বলা যায়, “প্রয়োজন ছাড়া বহুবচনকে টেনে আনা অবাঞ্ছনীয়।” অন্য কথায় সবচেয়ে সরল এবং বোধগম্য ব্যাখ্যাই শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা।

এই মতবাদ এর প্রধান আলোচ্য বিষয় হল এই যে প্রমাণ ছাড়া অথবা যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে সবচেয়ে সরল এবং বোধগম্য ব্যাখ্যার অনুগামী হওয়াই কাম্য। আমাদের কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সৃষ্টিকর্তা দুই, তিন বা হাজার সৃষ্টিকর্তার সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে সবচেয়ে সরল ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হল যে তিনি একক। সৃষ্টিকর্তার জন্য বহুবচন উত্থাপন করলে এই সরলতা বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি পায়না। অন্যভাবে বলা যায় একাধিক সৃষ্টিকর্তা মিলিতভাবে এই মতবাদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা বা বিস্তৃতি বিন্দুমাত্র বৃদ্ধি করেনা। যেমন “সর্বময় ক্ষমতাশীল সৃষ্টিকর্তা বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন”, একথাটি যেরুপ সহজ ও বোধগম্য, “দুইজন সৃষ্টিকর্তা বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন”, একথাটিও সমান বোধগম্য। একজন মাত্র সৃষ্টিকর্তাই দরকার সৃষ্টিজগত সৃষ্টির জন্য কারণ তিনি সর্বশক্তিমান এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আমি এই যুক্তি দিতে পারি যে একাধিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা এই মতবাদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও বিস্তৃতিকে খর্ব করে কারণ এটি সমস্যা সমধানের চেয়ে সমস্যা তৈরি করে বেশি। যেমন একটি প্রশ্ন একাধিক বহুঈশ্বরবাদের দুর্বলতাকে তুলে ধরে। সেটি হল যে কিভাবে একাধিক অতিপ্রাকৃত সত্বা বিরাজমান? যদি কখোনো তাদের মাঝে পরস্পরবিরোধী ইচ্ছার উদ্ভব হয় তখন কি হবে? কিভাবে এক সত্বা আরেক সত্বাকে প্রভাবিত করবে?

একটি জনপ্রিয় যুক্তি এক্ষেত্রে উত্থাপন করা যায়। যদি আমরা এই মতবাদটি পিরামিডের ক্ষেত্রে খাটাই তাহলে অদ্ভুদভাবে পেয়ে যাব যে পিরামিড কেবলমাত্র একজন মানুষই তৈরি করেছে কারণ এটিই সবচেয়ে সহজবোধ্য বিশ্লেষণ। এটি মূলত মতবাদটির অপপ্রয়োগ কারণ এতে মতবাদটির ব্যাপকতা উপেক্ষিত হয়। ‘পিরামিড একজনমাত্র মানুষ তৈরি করেছিল’ এই কথাটি সবচেয়ে সরল ও বোধগম্য ব্যাখ্যা হবেনা। কারণ এটি সমস্যা সমাধানের চেয়ে প্রশ্ন তৈরি করে অধিক। যেমনঃ “কিভাবে একজন মানুষ এই জটিল পিরামিড তৈরি করেছে?” একথা স্বীকার করে নেওয়া অধিক বোধগম্য যে পিরামিড অনেক মানুষ মিলে তৈরি করেছে। এই আলোকে অনেকে বলতে পারেন যে একথা অবান্তর যে এই জটিল মহাবিশ্ব কেবলমাত্র একজন সৃষ্টিকর্তার দ্বারা তৈরি। তর্কটি যদিও যুক্তিযুক্ত তবুও এটি যথোপযুক্ত নয়। এ বিষয়টি অধিক সুসঙ্গত এবং সহজবোধ্য যে একজন সর্বময় শক্তিশালী সত্বা বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন, একাধিক সৃষ্টিকর্তা নয়। কারণ বহুঈশ্বরবাদের ধারণা পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ এ উল্লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ। তারপরও একজন সমালোচক যুক্তি দিতে পারেন যে পিরামিডও তাহলে বহু মানুষের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়নি বরং সর্বশক্তিমান একজন স্রষ্টার দ্বারা তৈরি হয়েছিল। সমস্যা হল বিশ্বজগতের মধ্যে কেউই সর্বশক্তিমান নয় এবং পিরামিড এমন একটি স্থাপনা যা সৃষ্টির পেছেনে কিছু পরিকল্পিত কারণ রয়েছে। এই যুক্তি আমাদেরকে মূল বিষয়ের দিকেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় আর তা হল যে পিরামিড সৃষ্টির পেছনে তাহলে একাধিক কারণ রয়েছে।

৪। সংজ্ঞায়িত করার যুক্তি (The Argument from Definition)

বিবেক বুদ্ধি একথা স্বীকার করে যে যদি সৃষ্টিজগতের একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকত তাহলে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হত এবং বিশ্বজগতে এত সুসঙ্গতি থাকতনা যেমনটি আমরা বাস্তবে দেখতে পাই। আল্লাহ বলেন, “যদি আসমান এবং যমিনে আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য থাকত তাহলে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।” [কুরআন, ২১:২২]

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত তাফসির ‘তাফসির আল জালালুন’ এ উল্লেখ রয়েছে,

“আসমান ও যমিন তাদের শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলত যেহেতু অবশ্যম্ভাবীরুপে তাদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ ঘটত। যেমনটি আমরা বাস্তবে দেখতে পাই যে যেখানে একাধিক শাসক রয়েছে তারা কোন কোন বিষয়ে একে অপরের সাথে বিবাদ করে।”[১]

কেউ আবার বলতে পারেন যে একটি গাড়ি অনেকজন মিলে তৈরি করেন। কেউ ইঞ্জিন লাগায়, কেউ চাকা লাগায়, কেউ কম্পিউটার সিস্টেম ঠিক করে। তাহলে মহাবিশ্বও তো এমনিভাবে তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এই উদাহরণটি ইঙ্গিত করে যে একটি নির্দিষ্ট বস্তু একাধিক স্রষ্টার দ্বারা তৈরি হওয়া সম্ভব।

এই যুক্তি খণ্ডন করতে হলে যে জিনিসটি আমাদের বুঝতে হবে তা হল বিশ্বজগতের সর্বোত্তম ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র একজন সৃষ্টিকর্তার ধারনা থাকাই যথেষ্ঠ নয় বরং দরকার একজন ঈশ্বরের ধারণা থাকা। ধারণাগতভাবে হয়ত একাধিক স্রষ্টার উপস্থিতি সম্ভব যেমন গাড়ীর উদাহরণ এ বলা হয়েছে। কিন্তু একাধিক ঈশ্বর এর উপস্থিতি সম্ভব নয়। কারণ সংজ্ঞানুসারেই জানা যায় যে ঈশ্বর এমন এক সত্বা যিনি নিজের ইচ্ছা অন্য কারো উপর চাপিয়ে দিতে পারেন যা বাহ্যিক কোনোকিছু দ্বারাই প্রতিহত করা সম্ভব না। যদি একাধিক উপাস্য থাকত তাহলে সবকিছুতেই বিশৃঙ্খলা দেখ দিত। আমরা যেই মহাবিশ্ব দেখতে পাই তা সূক্ষ গাণিতিক নিয়ম দ্বারা পরিচালিত যা কিনা একক সত্বার প্রতিষ্ঠিত ইচ্ছারই সাক্ষ্য দেয়। মজার বিষয় হচ্ছে উল্লিখিত আপত্তিটি মূলত একত্ববাদের মতবাদকে সমর্থন করে। গাড়িটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারার জন্য সকলের মিলিতভাবে সার্বিক ইচ্ছা এক ও অভিন্ন হতে হয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে প্রত্যেকের নিজের ইচ্ছার বাইরে বাহ্যিক কোন সত্বা (অপর কর্মীরা) তাদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত বা সীমিত করেছে। যেহেতু সংজ্ঞানুযায়ী ঈশ্বরের ইচ্ছাকে বাইরের কোন কিছুই সীমিত বা প্রভাবিত করতে পারেনা সেহেতু এটাই প্রমাণিত হয় যে একের অধিক অতিপ্রাকৃত ইচ্ছাশক্তির উপস্থিতি অসম্ভব।

তথাপি কেউ কেউ তর্ক করতে পারেন যে একাধিক একই ইচ্ছা ও মনোভাব থাকতে পারে। অথবা তাদের আলাদা আলাদা রাজত্ব থাকতে পারে। তাহলে সেটা একথা বুঝাবে যে তাদের ইচ্ছা সীমিত এবং পরোক্ষ (কারণ এক ঈশ্বরের রাজত্বে বাকিদের ইচ্ছা কার্যকর নয়)। সংজ্ঞানুযায়ী যদি তাই হয় তাহলে তারা আর ঈশ্বরই থাকবেনা!

১২ শতাব্দির একজন মুসলিম চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইবনে রুশদ যিনি পশ্চিমা জগতের কাছে Averroes নামে পরিচিত বলেন, “এই চরণটির মর্মার্থ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিতেই গেথে গেছে। এটি স্বতঃসিদ্ধ যে যদি একই শহরে দুইজন রাজা থাকে এবং প্রত্যেকের কাজই অভিন্ন। তাহলে তাদের উভয়ের পক্ষে একত্রে শহরের দেখাশোনা করা সম্ভব নয়। কারণ দুটি একজাতীয় সত্বা কখনো এক এবং অভিন্ন কার্যসম্পন্ন করতে পারেনা। তাহলে এটাই বুঝায় যে দুজন একত্রে কাজ করলে শহরটি ধ্বংস হয়ে যাবে যদিনা একজনের কাজ করার সময় অপরজন অকার্যকরী হয়। এটি ঐশ্বরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে সাংঘর্ষিক। যখনই দুইটি একজাতীয় কার্যক্রম একই বিন্দুতে কোন ভিত্তির উপর ক্রিয়া করে, তখন ভিত্তিটি বিকৃত হবেই।”[২]

৫। অহী থেকে প্রমাণ (The Argument from Revelation)

সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদ প্রমাণ করার একটি সহজ উপায় হল অহীর সাহায্য নেওয়া। এই যুক্তির প্রস্তাবনা হচ্ছে যে যদি ঈশ্বর মানবজাতির কাছে নিজের পক্ষ থেকে কোন বাণী পাঠিয়ে থাকেন এবং এটা প্রমাণ করা সম্ভব হয় যে এটা ঈশ্বরের নিজের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাহলে এতে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে যা কিছুই বলা থাকবে তা অবশ্যই সত্য হবে। কিন্তু একজন সন্দেহবাদী এই যুক্তির কিছু ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে যে সৃষ্টিকর্তা আদৌ কোনো বাণী পাঠিয়েছেন কিনা বা এই বাণী বই এর আকারে পাঠিয়েছেন কিনা।

চলুন সর্বশেষ ধারণাটিকে প্রথমে আনি। ঈশ্বর মানুষের কাছে নিজের পক্ষ থেকে কোনো বাণী প্রেরণ করেছেন কিনা তা বুঝার দুইটি উপায় আছে।

১। বাহ্যিক ২। অভ্যন্তরীণ

অভ্যন্তরীণভাবে বলতে আমি বুঝাচ্ছি যে অন্তর্দৃষ্টি ও অন্তরের উপলব্ধি দ্বারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব করা। বাহ্যিকভাবে বলতে বুঝাচ্ছি আমাদের চিন্তা চেতনার বাইরের কোনো উৎস থেকে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করা। অভ্যন্তরীণ অন্তর্দর্শনের দ্বারা ঈশ্বরের প্রকৃত ধারনা পাওয়া অসম্ভব। কারণঃ

১। মানুষ একে অপর থেকে ভিন্ন। মনোবিজ্ঞানের মতে একে “ব্যক্তিগত পার্থক্য” বলে যার মধ্যে ডি এন এ, অভিজ্ঞতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, মেধা ও আবেগগত সামর্থ্যসহ আরও অনেক কিছু বিদ্যমান। এই পার্থক্যগুলো আমাদের অন্তর্দর্শন বা অনুভুতিগুলো আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। সুতরাং একেকজনের অন্তর্দর্শনের ফলাফল একেক রকম হবে। তাহলে সহজেই দেখা যাচ্ছে যে মানুষের অন্তর্দর্শন যদি ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার একমাত্র উৎস হয় তাহলে অবশ্যম্ভাবিরূপে ঈশ্বরের ধারণা সম্পর্কে বহু মতপার্থক্য তৈরি হবে। ঐতিহাসিকভাবেও বিষয়টি সত্য কারণ খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০০ অব্দে ঈশ্বর সম্পর্কে প্রায় ৩৭০০ মতবাদ পাওয়া যায়।

২। ঈশ্বরের অস্তিত্ব যে বিদ্যমান তা সাধারণ জ্ঞানের মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায়। দার্শনিকরা একে বলে ‘যুক্তিসঙ্গত ধারণা’ আর মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদগণ একে বলেন ‘ফিতরতের ধারণা’। কিন্তু শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণভাবে সাধারণ যুক্তির দ্বারা এই ধারণাকে বুঝতে গেলে অনেক বিভ্রান্তির তৈরি হবে। মহাবিশ্বে উপস্থিত অসংখ্য প্রমাণের দ্বারা আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে এর একজন সৃষ্টিকর্তা আছে যিনি সর্বোৎকৃষ্ট,স্বাধীন, চিরন্তন, অনন্য, ক্ষমতাধর, জ্ঞানী এবং তার নিজস্ব ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু পূত পবিত্র স্বত্বা হিসেবে তিনি নিজের সম্পর্কে আমাদের কেমন ধারণা দিতে চান তা জানতে হলে অহী তথা তার প্রেরিত বাণীর প্রয়োজন। কুরআন যথেষ্ট কঠোরতার সাথে আমাদের সাবধান করে দিয়েছে আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলা থেকে যেই বিষয়ে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই (সূরা ইউনুস (১০):৬৮)। অভ্যন্তরীণ উপলব্ধির মাধ্যমেই ঈশ্বরের সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করা যেন একটি ইদুরের জন্য হাতির মত চিন্তা করার সমতুল্য। এটা সুস্পষ্ট যে মানুষ চিরন্তন বা অনন্য ক্ষমতাশালী নয়। সুতরাং মানুষের একার পক্ষে ঈশ্বরের সঠিক ধারণা করা সম্ভব নয়। তাই ঈশ্বরকে নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করে মানুষকে অহীর মাধ্যমে জানাতে হবে।

পরবর্তী উদাহরণটি বিবেচনায় নিয়ে আসুন। আপনি জানেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিদ্যমান তেমনিভাবে যেমনিভাবে দরজায় কেউ টোকা দিলে আপনি নিশ্চিত যে দরজার পেছনে কেউ আছে। তাহলে আপনি যদি নির্দিষ্ট কারো জন্য অপেক্ষা না করে থাকেন তাহলে স্বভাবতই আপনি জিজ্ঞাসা করে বলবেন, “কে ওখানে?” তাহলে দরজার পেছনে উপস্থিত ব্যক্তিকে অবশ্যই আপনার অবগতির জন্য নিজের পরিচয় দিতে হবে। তাহলে আমরা সমাধানে আসতে পারি যে ঈশ্বর নিজের পরিচয় দেওয়ার জন্য মানুষের চিন্তা ও চেতনার বাইরেও কোন বাণী প্রেরণ করেছেন। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাণীই হচ্ছে কুরআন কারণ ঈশ্বরের বাণী বলে বিবেচিত হওয়ার জন্য যেসব শর্তাবলী দরকার তার সবগুলোই কুরআন পূর্ণ করে। শর্তগুলো হলঃ

১। এটিকে অবশ্যই মানুষের বিবেকবোধ ও সহজাত জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যেমন কোন বইতে যদি লেখা থাকে যে ঈশ্বর হল ৪০ পা বিশিষ্ট একটি হাতি তাহলে খুব সহজেই আমরা বলতে পারি যে এই বাণীটি ঈশ্বরের বাণী নয়। কারণ ঈশ্বরকে অবশ্যই এই মহাবিশ্বের বাইরের কোন স্বাধীন স্বত্তা হতে হবে। একটি হাতি একটি পরনির্ভরশীল প্রাণী সেটি যে আকৃতিরই হোকনা কেন। এর কিছু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমনঃ রং, আকার, আকৃতি যেগুলো সীমাবদ্ধ। কারণ এসব বৈশিষ্ট্য বাহ্যিক কিছু কারণের দ্বারা নির্ধারিত। সুতরাং সীমাবদ্ধ বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোনোকিছুই ঈশ্বর হতে পারেনা কারণ তিনি স্বাধীন।

২। এটি অবশ্যই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। অর্থাৎ যদি এর ২০ নং পৃষ্ঠায় বলা থাকে ঈশ্বর এক আবার ৩৪০ নং পৃষ্ঠায় বলা থাকে ঈশ্বর তিন তাহলে এটি নিজের ভিতরেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। উপরন্তু যদি এতে বলা থাকে যে মহাবিশ্ব ৬০০০ বছর পুরোনো তাহলে এটি হবে বাহ্যিক অসামঞ্জস্যতা। কারণ বাস্তবে মহাবিশ্বের বয়স এর চেয়ে অনেক বেশি।

৩। এতে অবশ্যই এর উৎকৃষ্টতার প্রমাণ থাকতে হবে। অর্থাৎ এতে প্রমাণ থাকবে যে এটি ঈশ্বরের বাণী। কুরআন যে আল্লাহর বাণী এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এই প্রবন্ধে করা হবেনা। কুরআনকে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তাই অলৌকিক নিদর্শনগুলো ব্যবহার করাই সর্বোত্তম। এগুলো হলঃ

১। কুরআন ভাষাগত এবং ব্যাকরণের দিক থেকে অতুলনীয়।[৩]

২। ঐতিহাসিক এমন অনেক সত্য ঘটনা কুরআনে বিদ্যমান যা ঐ সময়কার মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব ছিলোনা।

৩। এতে অনন্য ভাষাবিন্যাস ও গঠনপদ্ধতি রয়েছে।[৪]

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহ মানুষের কাছে কি নাযিল করেছেন তা জানার একমাত্র উপায় হল তাঁর পক্ষ থেকে বহিরাগত বাণী বা অহী। তাই কুরআন আল্লাহ সম্পর্কে যা বলবে তা অবশ্যই সত্য। আল্লাহ বলেনঃ

“বলুন তিনিই আল্লাহ এক এবং অদ্বিতীয়।” [কুরআন, ১১২:১]

সুতরাং উপরোল্লেখিত যুক্তিতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে ঈশ্বর বস্তুত এক এবং অদ্বিতীয়।

এমন কিছু যুক্তি আছে যার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায় যে ঈশ্বর এক। কিন্তু যখন এই ধারণাটি সঠিকভাবে বুঝা যাবে তখন মানুষের চেতনাতে এটি ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। আল্লাহর একত্ববাদ কেবলমাত্র স্বত্বা হিসেবে তাঁর এক হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এর মধ্যে তাঁর জন্য সকল উপাসনা, তাঁর কর্তৃত্ব, নাম ও গুনাবলি অন্তর্ভুক্ত। এবং তখনই উপলব্ধি করা সম্ভব যখন চিন্তা-চেতনা, ধ্যান এবং কুরআনের সত্য বাণীর সামনে নিজেকে মেলে ধরা হবে।

মূল লেখকঃ হামযা আন্দ্রেয়াস যরযিস (মূল আর্টিকেল লিঙ্ক)

অনুবাদকঃ মিনহাজ মুক্তাদির, মুসলিম মিডিয়া প্রতিনিধি।

অনুবাদ কপিরাইট © মুসলিম মিডিয়া


[১] তাফসির আল জালালুন, আয়শা বেউলির দ্বারা (ইংরেজী) অনুবাদকৃত, দারুল তাকওয়া, ২০০৭, পৃষ্ঠা ৬৯০।

[২] Avorres. Faith and Reason in Islam. Avorres’ Explanation of Religious Arguments. ইব্রাহিম নাজ্জার দ্বারা (ইংরেজী) অনুবাদকৃত, One World, ২০০১, পৃষ্ঠা ৪০।

[৩] বিস্তারিত জানতে ‘God’s Testament’ নামক আর্টিকেলটি পড়ুন।

[৪] কুরআনের অলৌকিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন আবু যাকারিয়া লিখিত The eternal challenge: A Journey through the Miraculous Qur’an. One reason publication. ২০১৫। আরও পড়ুন এই আর্টিকেল এ।

মুসলিম মিডিয়া ব্লগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহ তা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। ব্লগ পরিচালনায় প্রতি মাসের খরচ বহনে আপনার সাহায্য আমাদের একান্ত কাম্য। বিস্তারিত জানতে এখানে ভিজিট করুন।

IIRT Arabic Intensive

নিচে মন্তব্যের ঘরে আপনাদের মতামত জানান। ভালো লাগবে আপনাদের অভিপ্রায়গুলো জানতে পারলে। আর লেখা সম্পর্কিত কোন জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে অবশ্যই "ওয়ার্ডপ্রেস থেকে কমেন্ট করুন"।

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.